ঢাকা , শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাড়ছে মশার উপদ্রব

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় এক ঘন্টা আগে
  • ২ বার পড়া হয়েছে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ শহরে দিন দিন বাড়ছে মশার উপদ্রব। সামনে বর্ষা ও ডেঙ্গু মৌসুম ঘনিয়ে আসায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সন্ধ্যার পর তো বটেই, এখন দিনের বেলাতেও মশার উৎপাত সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ নগরবাসীর।
শহরের চাষাঢ়া, দেওভোগ, মাসদাইর, খানপুর, মাসদাইর, বন্দর ও সিদ্ধিরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় মশার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে কিউলেক্স মশার আধিক্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন বাসিন্দারা। শিশু ও বয়স্কদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শহরের বিভিন্ন সড়ক, নালা-নর্দমা ও খাল এখন মশার প্রজননকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। কোথাও ময়লা-আবর্জনায় ড্রেন আটকে আছে, আবার কোথাও জমে আছে কালো পানি। ডিপ ড্রেন নির্মাণকাজ চলমান থাকায় অনেক এলাকায় খানাখন্দ তৈরি হয়েছে, সেখানেও পানি জমে থাকছে দিনের পর দিন।
শহরের দেওভোগ এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, আগে শুধু রাতে মশা ছিল, এখন দিনের বেলাতেও বসে থাকা যায় না। বাচ্চাদের নিয়ে খুব সমস্যায় আছি।
খানপুর এলাকার গৃহিণী শারমিন আক্তার বলেন, ফগিং করতে দেখি মাঝে মাঝে, কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয় না। দুই ঘণ্টা পর আবার আগের মতো মশা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের শীত তুলনামূলক কম হওয়ায় গরম আবহাওয়া আগেভাগেই শুরু হয়েছে। ফলে মশার বংশবিস্তারও দ্রুত বেড়েছে। অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা ও দূষিত পানির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
তাদের মতে, কেবল ফগিং করে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। কারণ ফগিং মূলত পূর্ণবয়স্ক মশা দমনে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু মশার লার্ভা ধ্বংসে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে স্থায়ী সমাধান আসবে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের অনেক খাল ও জলাশয় কচুরিপানা ও আবর্জনায় ভরাট হয়ে আছে। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসব স্থানে মশার লার্ভা দ্রুত জন্ম নিচ্ছে। অনেক এলাকায় নর্দমার দুর্গন্ধও বেড়েছে।
এদিকে মশক নিধনে নতুন করে তৎপরতার কথা জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। সম্প্রতি মশক নিধন কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।
সভায় তিনি বলেন, মশক নিধনের জন্য সাত থেকে আটজনের একটি তদারকি কমিটি গঠন করা হবে। তারা কোথায় কীভাবে ওষুধ প্রয়োগ হচ্ছে তা পর্যবেক্ষণ করবে এবং সরাসরি আমাকে জানাবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা নাগরিকদেরও সচেতন করতে চাই। পাশাপাশি ডোবা, পুকুর ও খাল থেকে কচুরিপানা এবং ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে মশার বংশবৃদ্ধি রোধ করা যায়।
তবে নগরবাসীর প্রশ্ন পরিকল্পনার কথা বলা হলেও বাস্তবে কার্যকর উদ্যোগ কবে দেখা যাবে। কারণ প্রতিবছর বর্ষা এলেই ডেঙ্গু আতঙ্ক বাড়ে, কিন্তু মশা নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা দৃশ্যমান হয় না।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

বাড়ছে মশার উপদ্রব

আপডেট সময় এক ঘন্টা আগে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ শহরে দিন দিন বাড়ছে মশার উপদ্রব। সামনে বর্ষা ও ডেঙ্গু মৌসুম ঘনিয়ে আসায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সন্ধ্যার পর তো বটেই, এখন দিনের বেলাতেও মশার উৎপাত সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ নগরবাসীর।
শহরের চাষাঢ়া, দেওভোগ, মাসদাইর, খানপুর, মাসদাইর, বন্দর ও সিদ্ধিরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় মশার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে কিউলেক্স মশার আধিক্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন বাসিন্দারা। শিশু ও বয়স্কদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শহরের বিভিন্ন সড়ক, নালা-নর্দমা ও খাল এখন মশার প্রজননকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। কোথাও ময়লা-আবর্জনায় ড্রেন আটকে আছে, আবার কোথাও জমে আছে কালো পানি। ডিপ ড্রেন নির্মাণকাজ চলমান থাকায় অনেক এলাকায় খানাখন্দ তৈরি হয়েছে, সেখানেও পানি জমে থাকছে দিনের পর দিন।
শহরের দেওভোগ এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, আগে শুধু রাতে মশা ছিল, এখন দিনের বেলাতেও বসে থাকা যায় না। বাচ্চাদের নিয়ে খুব সমস্যায় আছি।
খানপুর এলাকার গৃহিণী শারমিন আক্তার বলেন, ফগিং করতে দেখি মাঝে মাঝে, কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয় না। দুই ঘণ্টা পর আবার আগের মতো মশা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের শীত তুলনামূলক কম হওয়ায় গরম আবহাওয়া আগেভাগেই শুরু হয়েছে। ফলে মশার বংশবিস্তারও দ্রুত বেড়েছে। অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা ও দূষিত পানির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
তাদের মতে, কেবল ফগিং করে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। কারণ ফগিং মূলত পূর্ণবয়স্ক মশা দমনে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু মশার লার্ভা ধ্বংসে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে স্থায়ী সমাধান আসবে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের অনেক খাল ও জলাশয় কচুরিপানা ও আবর্জনায় ভরাট হয়ে আছে। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসব স্থানে মশার লার্ভা দ্রুত জন্ম নিচ্ছে। অনেক এলাকায় নর্দমার দুর্গন্ধও বেড়েছে।
এদিকে মশক নিধনে নতুন করে তৎপরতার কথা জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। সম্প্রতি মশক নিধন কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।
সভায় তিনি বলেন, মশক নিধনের জন্য সাত থেকে আটজনের একটি তদারকি কমিটি গঠন করা হবে। তারা কোথায় কীভাবে ওষুধ প্রয়োগ হচ্ছে তা পর্যবেক্ষণ করবে এবং সরাসরি আমাকে জানাবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা নাগরিকদেরও সচেতন করতে চাই। পাশাপাশি ডোবা, পুকুর ও খাল থেকে কচুরিপানা এবং ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে মশার বংশবৃদ্ধি রোধ করা যায়।
তবে নগরবাসীর প্রশ্ন পরিকল্পনার কথা বলা হলেও বাস্তবে কার্যকর উদ্যোগ কবে দেখা যাবে। কারণ প্রতিবছর বর্ষা এলেই ডেঙ্গু আতঙ্ক বাড়ে, কিন্তু মশা নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা দৃশ্যমান হয় না।