সোজাসাপটা রিপোর্ট
চাঁদপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জনসভাকে ঘিরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশজুড়ে টানানো ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড অপসারণের নির্দেশ দিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান। শুক্রবার (১৫ মে) রাতেই দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া তার একটি জরুরি বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয় নানা আলোচনা ও সমালোচনা।
জরুরি বার্তায় মান্নান বলেন, “প্রিয় নেতৃবৃন্দ, আগামীকাল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুর সমাবেশ কেন্দ্র করে আমরা-আপনারা যারাই সাইনবোর্ড থেকে মেঘনা ব্রিজ পর্যন্ত বিলবোর্ড, ফেস্টুন ও ব্যানার লাগিয়েছি, রাত ১২টার মধ্যে সব ব্যানার-ফেস্টুন নিজ উদ্যোগে অপসারণ করতে হবে।”
বার্তাটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝেও দেখা যায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, যখন কয়েকদিন ধরে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক আয়োজনে পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানো হয়েছে, তখন হঠাৎ করেই রাতারাতি সেগুলো সরিয়ে ফেলার নির্দেশ কেন দেওয়া হলো।
দলীয় সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চাঁদপুর সফরকে কেন্দ্র করে সোনারগাঁ ও আশপাশের এলাকার বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নিজেদের অবস্থান জানান দিতে মহাসড়কের দুই পাশে বিপুল সংখ্যক ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড টানান। বিশেষ করে সাইনবোর্ড, কাঁচপুর, মদনপুর ও মেঘনা ব্রিজ এলাকা জুড়ে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে নেতাকর্মীদের ছবি ও শুভেচ্ছাবার্তা সম্বলিত পোস্টারে ছেয়ে যায় সড়ক।
তবে এসব ব্যানার ও বিলবোর্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত পোস্টার ও ফেস্টুনের কারণে মহাসড়কের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কিছু স্থানে যান চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল। বিশেষ করে সড়কের পাশে বড় আকারের বিলবোর্ড ঝুঁকির কারণ হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন কেউ কেউ।
এদিকে স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কেন্দ্রীয়ভাবে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অতিরিক্ত ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারণা এড়াতে দ্রুত পোস্টার অপসারণের নির্দেশনা এসেছে। এরপরই মান্নান নেতাকর্মীদের তাৎক্ষণিকভাবে ব্যানার-ফেস্টুন সরিয়ে নিতে বলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচিকে ঘিরে পোস্টার ও ব্যানারের প্রতিযোগিতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এতে দলীয় শৃঙ্খলার পাশাপাশি জনভোগান্তির বিষয়টিও সামনে চলে এসেছে। মান্নানের এই নির্দেশনা সেই বিতর্ক আরও উসকে দিয়েছে।
তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের কেউ বক্তব্য দেননি। স্থানীয় নেতাকর্মীদের অনেকেই বলছেন, বিষয়টি নিয়ে ভেতরে ভেতরে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাতারাতি পোস্টার সরানোর নির্দেশ পাওয়ায় মাঠপর্যায়ের কর্মীরা কিছুটা বিব্রত অবস্থায় পড়েছেন।
পোস্টারকাণ্ডে বিব্রত মান্নান
-
ডেস্ক : - আপডেট সময় এক ঘন্টা আগে
- ১ বার পড়া হয়েছে
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ




















