স্টাফ রিপোর্টার
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, “শব্দ দূষণের অন্যতম কারণ হচ্ছে গাড়ির হর্ন। একজন ড্রাইভার ভাই বলেছেন, হাইড্রোলিক হর্ন যদি বিক্রি হয়, তাহলে আমরা কিনবো এবং ব্যবহার করব। এটা বন্ধ করতে হলে হাইড্রোলিক হর্ন তৈরি বা উৎপাদন বন্ধ করতে হবে। তার দিক থেকে চিন্তা করলে কথাটি ঠিকই আছে।”
“কিন্তু বাজারে কিনতে পাওয়া যায় বলেই সবকিছু ব্যবহার করতে হবে বিষয়টা এমন নয়। বাজারে বন্দুকও পাওয়া যায়, মদও পাওয়া যায়, ছুরিও পাওয়া যায়, কাঁচিও পাওয়া যায়। তাই বলে কি আমি সব ব্যবহার করা শুরু করবো,” বলেন জেলা প্রশাসক।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে নিজ কার্যালয় প্রাঙ্গণে আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস উপলক্ষে র্যালি শেষে আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, “বড় লম্বা জ্যামে, হাইওয়েতে কিন্তু এত হর্ন বাজে না। বরং ছোট ছোট শহরগুলোতে, যেখানে কোথাও রাস্তা ফাঁকা আবার কোথাও একটু যানজট সেসব জায়গায় বেশি হর্ন বাজে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা সেসব জায়গাতেই বসবাস করি। অথচ সেখানে মানুষ থাকে, স্কুল-কলেজ, হাসপাতালসহ সবকিছু আছে।”
তিনি বলেন, “প্রয়োজনে আমরা হর্ন বাজাব। হর্নের ধারণাটাই এসেছে সতর্ক করার জন্য। ভুলে যদি কোনো পথচারী সামনে চলে আসে, বা কেউ খেয়াল না করে, তখন তার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য হর্ন বাজানো হয়। যাতে সে বুঝতে পারে, একটি যানবাহন আসছে এবং সাবধান হওয়া দরকার। কিন্তু সামনে তিন-চারটি গাড়ি আছে, তাদেরকে হর্নের ঠেলায় সরিয়ে দেব এমন চিন্তা করে লাভ নেই। হাইড্রোলিক হর্নের এত বড় ক্ষমতা নেই যে সামনে থাকা গাড়িগুলো শব্দে সরে যাবে। বড়জোর কী হবে? আপনি বড় হর্ন বাজাবেন, আর আপনার গাড়ির যাত্রী ও আশেপাশের সবাই কষ্ট পাবে।”
তিনি বলেন, “বিশেষ করে ফিটনেসবিহীন গাড়িগুলোর বিকট শব্দও বড় সমস্যা। কলকারখানার কালো ধোঁয়া আছে, সেটাও দূষণের অংশ। কয়েকটি দূষণের সঙ্গে এগুলো জড়িত। আবাসিক এলাকায় থাকা কলকারখানার জন্যও নির্ধারিত সীমা আছে। এই জায়গাগুলো পরিবেশ অধিদপ্তরকে দেখে ব্যবস্থা নিতে হবে। হয়তো হঠাৎ একদিন অভিযান চালিয়ে ১০-১২টি হাইড্রোলিক হর্ন খুলে এনে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হলো কিন্তু এতে কি সমস্যার সমাধান হবে? না, কারণ সমস্যার স্কেল অনেক বড়। সামান্য উদ্যোগে এটা সমাধান হবে না। বড় সমাধান হচ্ছে আমাদের সচেতনতা।”
“নির্মাণ কাজের যে পাইলিংগুলো হয়, এগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উচ্চ শব্দের। আবাসিক এলাকাগুলো সেভাবে ডিফাইন করা যায়, এবং আবাসিক এলাকাগুলোতে বছরের পর বছর ধরে কনস্ট্রাকশন চলে। আমাদের ডেভেলপমেন্টের আসলে কোনো শেষ নেই,” যোগ করেন রায়হান কবির।
তিনি বলেন, “আমরা যদি একটি পরিকল্পিত নগরের দিকে তাকাই, সেখানে একবারে নগরটি গড়ে ওঠে, এরপর মানুষ বসবাস শুরু করে। পরে সেভাবে আর নির্মাণ কাজ হয় না। কিন্তু আমাদের বাংলাদেশে বাতাসের মান খারাপ, শব্দদূষণ, পানিদূষণ হয়। এর অন্যতম কারণ এই দীর্ঘমেয়াদি নির্মাণকাজ। বছরের পর বছর নির্মাণ চলতেই থাকে।”
“অবশ্য এটিতে কিছু করারও নেই, কারণ একেকজনের ক্যাপাসিটি একেক সময় হয়। একেকজন তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী বাড়িঘর তৈরি করে। কিন্তু এভাবে যদি চলতে থাকে, তাহলে কবে আমাদের রাস্তা থেকে ধুলা কমবে এবং কবে শব্দদূষণ শেষ হবে। এই জায়গাগুলো নিয়ে উচ্চ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত দরকার যে, একটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কনস্ট্রাকশন শেষ করতে হবে।”
সংবাদ শিরোনাম ::
লাখো মানুষের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ
জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের পুরস্কার বিতরণী
গাঁজাসহ ৫ মাদক কারবারি গ্রেফতার
পরিত্যক্ত অবস্থায় পিস্তল ও গুলি উদ্ধার
সস্তাপুরে ১২ মাসের জলাবদ্ধতা!
রূপগঞ্জে স্কুল ফিডিং প্রকল্পে অনিয়ম
‘ধলেশ্বরীর দুই পাড়ের ইটভাটা বন্ধে উদ্যোগ’
শহরে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান
বিতর্কে বক্তাবলীর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পিংকি
খাল খননে স্বস্তি ফিরেছে
‘হাইড্রোলিক হর্ন উৎপাদন বন্ধ করতে হবে’
-
ডেস্ক : - আপডেট সময় ৭ ঘন্টা আগে
- ০ বার পড়া হয়েছে
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ


























