ঢাকা , বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ইসদাইরের শুভ নিখোঁজ

মাদক ব্যবসার আধিপাত্য বিস্তার (রিভার্স)

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ৫ ঘন্টা আগে
  • ০ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার চানমারী এলাকায় মাদক ব্যবসার আধিপাত্য বিস্তারে শুভ নামে এক যুবককে মুঠোফোনে ডেকে নিয়ে মারধর করে গুম করার অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন রানার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শুভ’র স্ত্রী মো.পিংকি ফতুল্লা মডেল থানায় সাখাওয়াত হোসেন রানাগংদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। তবে শুভ অপহরনের দুইদিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনও তাকে উদ্ধার করতে না পারায় শংকায় দিনানিপাত করছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
তবে স্থানীয়দের দেয়া তথ্যে জানা যায় যে, গত ৫ মার্চ শুভ’র নেতৃত্বে তার বাহিনীর সদস্যরা চাষাড়া রেললাইনের পাশে অবস্থিত মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন রানার গ্যারেজে অতর্কিতভাবে চাপাতিসহ হামলা চালায়। এ সময় জীবন বাচাতে রানা ও কাশেমসহ তার বাহিনীর সদস্যরা পালিয়ে যায়। তারা আরও বলেন,মুলত ইসদাইর ও আশপাশ এলাকায় মাদকের বিস্তার এককভাবে নিয়ন্ত্রন করতেই সাখাওয়াত হোসেন রানা এবং শুভ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সেখানে মাদকের নিয়ন্ত্রন রাখতে রানা ও তার সহযোগি কাশেমগংরা সুকৌশলে শুভকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গুম করে ফেলে। তবে চাষাড়া রেলষ্টেশনের আশপাশের লেঅকজন বলেন,শুভ ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় সাখাওয়াত হোসেন রানা তার ব্যক্তিগত পিস্তল থেকে দুটি ফাকা গুলিও করেন। পুলিশ চাইলে রেলষ্টেশনে থাকা সিসিটিভির ফুটেজও চেক করতে পারেন।
এ দিকে শুভকে গুমের পর তার পরিবারের পক্ষে থানায় অভিযোগ দায়েরের পর থেকে থানা পুলিশ শুভকে উদ্ধারে অব্যাহত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে শুভকে গুমের ঘটনায় সাখাওয়াত হোসেন রানা নিজেকে এ ঝামেলা থেকে মুক্ত করতে দলের নেতাদের নিয়ে তৎপরতা শুরু করেছে বলে একাধিক সুত্র জানায়। তবে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন রানাকে বাচাঁতে আদাজল খেয়ে নেমেছেন মহানগর বিএনপির এক “গান্ধী পোকা” নেতা নাকি এসেছিলেন বলে সুত্রটি নিশ্চিত করেছেন। সেই গান্ধী পোকা নেতা নাকি রানার পক্ষে সাফাই গাইতে ফতুল্লা মডেল থানাতেও এসেছিলেন সোমবার রাতে।
স্থানীয়রা জানান,ইসদাইর রেললাইন ও আশপাশের এলাকাটি হচ্ছে বর্তমান সময়ে শহরের অন্যতম মাদকের জোন। আর এ জোনটি নিয়ন্ত্রনে নিতে মাদক বিক্রেতাদের একাধিক গ্রুপ একের পর এক অপরাধ/গুম ও হত্যাকান্ডের মত ঘটনা ঘটাতে দ্বিধাবোধ করছেনা। ইতিপুর্বে কয়েকটি গুম ও হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িতদেরকে গ্রেফতার না করার ফলে এ কাজে পারদর্শীরা তাদের ক্ষমতা দেখাচ্ছে একে অপরের বিরুদ্ধে। তারা আরও বলেন,সাখাওয়াত হোসেন রানা প্রয়াত যুবদল নেতা মমিনউল্লাহ ডেভিডের ভাগিনা এবং শহরের অন্যতম একজন চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী। যার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলাও রয়েছে। গত প্রায় মাস খানেক পুর্বে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ প্রায় ৭০০ বোতন ফেন্সিডিল সদৃশ্য যে ট্যাপেন্ডাইন পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে সেটাও নাকি এ আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন রানার ছিল বলে জানান স্থানীয়রা।
রানা বাহিনীর হাতে গুম হওয়া শুভ ছিলো অপর আলোচিত ইসদাইরের রাজ্জাক বাহিনীর অন্যতম সদস্য। রাজ্জাকের ছেলে ওয়াসিম এবং অপহৃত শুভ নাকি একে অপরের ঘনিষ্ট বন্ধু। স্থানীয়রা আরো জানান,শুভ গুমের পর থেকেই রানা ও তার বাহিনীর সদস্যরা গা ঢাকা দিয়েছেন।
রানা বাহিনীর হাতে গুমের শিকার শুভকে উদ্ধার এবং রানা-কাশেমসহ তার দলের সদস্যদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে শুভ’র পরিবার এবং ইসদাইরের সাধারন মানুষ পুলিশ ও র‌্যাবের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

ইসদাইরের শুভ নিখোঁজ

মাদক ব্যবসার আধিপাত্য বিস্তার (রিভার্স)

আপডেট সময় ৫ ঘন্টা আগে

স্টাফ রিপোর্টার
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার চানমারী এলাকায় মাদক ব্যবসার আধিপাত্য বিস্তারে শুভ নামে এক যুবককে মুঠোফোনে ডেকে নিয়ে মারধর করে গুম করার অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন রানার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শুভ’র স্ত্রী মো.পিংকি ফতুল্লা মডেল থানায় সাখাওয়াত হোসেন রানাগংদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। তবে শুভ অপহরনের দুইদিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনও তাকে উদ্ধার করতে না পারায় শংকায় দিনানিপাত করছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
তবে স্থানীয়দের দেয়া তথ্যে জানা যায় যে, গত ৫ মার্চ শুভ’র নেতৃত্বে তার বাহিনীর সদস্যরা চাষাড়া রেললাইনের পাশে অবস্থিত মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন রানার গ্যারেজে অতর্কিতভাবে চাপাতিসহ হামলা চালায়। এ সময় জীবন বাচাতে রানা ও কাশেমসহ তার বাহিনীর সদস্যরা পালিয়ে যায়। তারা আরও বলেন,মুলত ইসদাইর ও আশপাশ এলাকায় মাদকের বিস্তার এককভাবে নিয়ন্ত্রন করতেই সাখাওয়াত হোসেন রানা এবং শুভ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সেখানে মাদকের নিয়ন্ত্রন রাখতে রানা ও তার সহযোগি কাশেমগংরা সুকৌশলে শুভকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গুম করে ফেলে। তবে চাষাড়া রেলষ্টেশনের আশপাশের লেঅকজন বলেন,শুভ ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় সাখাওয়াত হোসেন রানা তার ব্যক্তিগত পিস্তল থেকে দুটি ফাকা গুলিও করেন। পুলিশ চাইলে রেলষ্টেশনে থাকা সিসিটিভির ফুটেজও চেক করতে পারেন।
এ দিকে শুভকে গুমের পর তার পরিবারের পক্ষে থানায় অভিযোগ দায়েরের পর থেকে থানা পুলিশ শুভকে উদ্ধারে অব্যাহত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে শুভকে গুমের ঘটনায় সাখাওয়াত হোসেন রানা নিজেকে এ ঝামেলা থেকে মুক্ত করতে দলের নেতাদের নিয়ে তৎপরতা শুরু করেছে বলে একাধিক সুত্র জানায়। তবে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন রানাকে বাচাঁতে আদাজল খেয়ে নেমেছেন মহানগর বিএনপির এক “গান্ধী পোকা” নেতা নাকি এসেছিলেন বলে সুত্রটি নিশ্চিত করেছেন। সেই গান্ধী পোকা নেতা নাকি রানার পক্ষে সাফাই গাইতে ফতুল্লা মডেল থানাতেও এসেছিলেন সোমবার রাতে।
স্থানীয়রা জানান,ইসদাইর রেললাইন ও আশপাশের এলাকাটি হচ্ছে বর্তমান সময়ে শহরের অন্যতম মাদকের জোন। আর এ জোনটি নিয়ন্ত্রনে নিতে মাদক বিক্রেতাদের একাধিক গ্রুপ একের পর এক অপরাধ/গুম ও হত্যাকান্ডের মত ঘটনা ঘটাতে দ্বিধাবোধ করছেনা। ইতিপুর্বে কয়েকটি গুম ও হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িতদেরকে গ্রেফতার না করার ফলে এ কাজে পারদর্শীরা তাদের ক্ষমতা দেখাচ্ছে একে অপরের বিরুদ্ধে। তারা আরও বলেন,সাখাওয়াত হোসেন রানা প্রয়াত যুবদল নেতা মমিনউল্লাহ ডেভিডের ভাগিনা এবং শহরের অন্যতম একজন চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী। যার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলাও রয়েছে। গত প্রায় মাস খানেক পুর্বে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ প্রায় ৭০০ বোতন ফেন্সিডিল সদৃশ্য যে ট্যাপেন্ডাইন পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে সেটাও নাকি এ আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন রানার ছিল বলে জানান স্থানীয়রা।
রানা বাহিনীর হাতে গুম হওয়া শুভ ছিলো অপর আলোচিত ইসদাইরের রাজ্জাক বাহিনীর অন্যতম সদস্য। রাজ্জাকের ছেলে ওয়াসিম এবং অপহৃত শুভ নাকি একে অপরের ঘনিষ্ট বন্ধু। স্থানীয়রা আরো জানান,শুভ গুমের পর থেকেই রানা ও তার বাহিনীর সদস্যরা গা ঢাকা দিয়েছেন।
রানা বাহিনীর হাতে গুমের শিকার শুভকে উদ্ধার এবং রানা-কাশেমসহ তার দলের সদস্যদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে শুভ’র পরিবার এবং ইসদাইরের সাধারন মানুষ পুলিশ ও র‌্যাবের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।