ঢাকা , বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নদীপথে বিস্তৃত চোরাই তেলের নেটওয়ার্ক

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ৫ ঘন্টা আগে
  • ০ বার পড়া হয়েছে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশের জ্বালানি খাতেও এর প্রভাব পড়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিভিন্ন চোরাকারবারি ও মুনাফালোভী সিন্ডিকেট। বিশেষ করে নদী ও সাগরপথকে কেন্দ্র করে চোরাই তেলের একটি বড় নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি তেল চুরির মূল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী ও বঙ্গোপসাগর এলাকাকে কেন্দ্র করে। সমুদ্রগামী জাহাজ থেকে অবৈধভাবে তেল নামিয়ে তা ড্রাম, ট্যাংক কিংবা নৌযানে সংরক্ষণ করে পরে গোপনে বাজারজাত করা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঝুঁকি থাকলেও চক্রটি সক্রিয় রয়েছে।
এছাড়া ডিপো থেকে তেল পরিবহনের সময় ট্যাংক লরি থেকে তেল সরিয়ে নেওয়া, অতিরিক্ত তেল লোড করে কালোবাজারে বিক্রি করা এবং পাম্প পর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করাও এই সিন্ডিকেটের অংশ। অনেক ক্ষেত্রে পাম্প মালিকরা তেলের দাম বাড়ার অপেক্ষায় মজুত রেখে বাজারে সরবরাহ বন্ধ করে দেন, ফলে সাধারণ ভোক্তারা সংকটে পড়েন।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে জানা যায়, এই অবৈধ কার্যক্রমে দুটি বড় সিন্ডিকেট কাজ করছে—একটি চট্টগ্রামভিত্তিক, যা আমদানি ও পরিবহন পর্যায়ে সক্রিয়; অন্যটি ঢাকাকেন্দ্রিক, যা খুচরা বাজারে কারসাজি করে। পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে তেল পাচারের ঘটনাও ঘটছে।
প্রশাসন ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ তেল জব্দ করেছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শুধু অভিযান নয়—পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারি, অটোমেশন এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু না হলে এই সমস্যা পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি পরিবহন, ট্যাংক লরিতে জিপিএস ট্র্যাকিং, ডিজিটাল মনিটরিং এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম অটোমেশনের আওতায় আনলে চোরাই তেলের এই সিন্ডিকেট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

নদীপথে বিস্তৃত চোরাই তেলের নেটওয়ার্ক

আপডেট সময় ৫ ঘন্টা আগে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশের জ্বালানি খাতেও এর প্রভাব পড়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিভিন্ন চোরাকারবারি ও মুনাফালোভী সিন্ডিকেট। বিশেষ করে নদী ও সাগরপথকে কেন্দ্র করে চোরাই তেলের একটি বড় নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি তেল চুরির মূল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী ও বঙ্গোপসাগর এলাকাকে কেন্দ্র করে। সমুদ্রগামী জাহাজ থেকে অবৈধভাবে তেল নামিয়ে তা ড্রাম, ট্যাংক কিংবা নৌযানে সংরক্ষণ করে পরে গোপনে বাজারজাত করা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঝুঁকি থাকলেও চক্রটি সক্রিয় রয়েছে।
এছাড়া ডিপো থেকে তেল পরিবহনের সময় ট্যাংক লরি থেকে তেল সরিয়ে নেওয়া, অতিরিক্ত তেল লোড করে কালোবাজারে বিক্রি করা এবং পাম্প পর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করাও এই সিন্ডিকেটের অংশ। অনেক ক্ষেত্রে পাম্প মালিকরা তেলের দাম বাড়ার অপেক্ষায় মজুত রেখে বাজারে সরবরাহ বন্ধ করে দেন, ফলে সাধারণ ভোক্তারা সংকটে পড়েন।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে জানা যায়, এই অবৈধ কার্যক্রমে দুটি বড় সিন্ডিকেট কাজ করছে—একটি চট্টগ্রামভিত্তিক, যা আমদানি ও পরিবহন পর্যায়ে সক্রিয়; অন্যটি ঢাকাকেন্দ্রিক, যা খুচরা বাজারে কারসাজি করে। পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে তেল পাচারের ঘটনাও ঘটছে।
প্রশাসন ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ তেল জব্দ করেছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শুধু অভিযান নয়—পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারি, অটোমেশন এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু না হলে এই সমস্যা পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি পরিবহন, ট্যাংক লরিতে জিপিএস ট্র্যাকিং, ডিজিটাল মনিটরিং এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম অটোমেশনের আওতায় আনলে চোরাই তেলের এই সিন্ডিকেট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।