ঢাকা , বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চালক দল’ নামে চাঁদাবাজি

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ৩ ঘন্টা আগে
  • ১ বার পড়া হয়েছে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
‎নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও এর আশপাশের এলাকায় ‘চালক দল’ নামক একটি ভুঁইফোঁড় সংগঠনের ব্যানারে চাঁদাবাজি সহ পরিবহন খাত নিয়ন্ত্রণে নিতে পায়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কোনো প্রকার বৈধতা বা সাংগঠনিক ভিত্তিহীন এই চক্রটি পরিবহন খাতসহ স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ পরিবহন মালিকদের।
‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রটি মূলত অটোরিকশা, লেগুনা এবং পণ্যবাহী ট্রাক থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে। সংগঠনের নাম ব্যবহার করে তারা সাধারণ চালকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে দৈনিক ও মাসিক ভিত্তিতে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। যারা চাঁদা দিতে অস্বীকার করছে, তাদের মারধরসহ গাড়ি ভাঙচুরের মতো ঘটনাও ঘটছে। শুধু চাঁদাবাজিই নয়, রাতের অন্ধকারে নির্জন এলাকায় ছিনতাইয়ের পেছনেও এই চক্রের সদস্যদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
‎ভূক্তভোগী এক অটোচালক জানান, “এরা নিজেদের বড় নেতা পরিচয় দেয়, কিন্তু এদের কোনো কাজই বৈধ নয়। রাস্তাঘাটে গাড়ি চালাতে গেলেই এদের টোকেন নিতে বাধ্য করা হয়।”
‎ভূক্তভোগীরা বলছেন, এ ধরনের তথাকথিত ‘চালক দল’ বা নামসর্বস্ব সংগঠনগুলো শ্রমিকদের কল্যাণের কথা বললেও বাস্তবে এগুলো অপরাধীদের অভয়ারণ্য। এদের কর্মকাণ্ডে নিম্ন আয়ের চালকরা আরও বেশি অর্থনৈতিক সংকটে পড়ছেন।
‎সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক ছদ্মনাম ব্যবহার করায় সাধারণ মানুষ অভিযোগ করতে ভয় পায়, যা অপরাধীদের আরও সাহসী করে তুলছে। কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে রাস্তা দখল ও অবৈধ স্ট্যান্ড বসিয়ে যানজট ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পেছনেও রয়েছে এই চক্র। চালকদের অধিকার আদায়ের কথা বলে তাদের পকেট থেকেই অবৈধভাবে টাকা আদায় করা হচ্ছে।
‎সিদ্ধিরগঞ্জের সচেতন নাগরিকরা বলছেন, এ ধরনের ভুঁইফোঁড় সংগঠনের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। এরা মূলত নাম ব্যবহার করে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত। দ্রুত এসব চক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় না আনলে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।
‎এ প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, এই নামে আমাদের কোন অঙ্গসংগঠন নেই। কেউ যদি দলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করে সেটা কোনভাবেই মেনে নেয়া হবে না। আমরা এ ব্যাপারে প্রশাসনকে অনুরোধ করবো চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নিতে।
‎স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাদের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে খুব শীঘ্রই এই চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

চালক দল’ নামে চাঁদাবাজি

আপডেট সময় ৩ ঘন্টা আগে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
‎নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও এর আশপাশের এলাকায় ‘চালক দল’ নামক একটি ভুঁইফোঁড় সংগঠনের ব্যানারে চাঁদাবাজি সহ পরিবহন খাত নিয়ন্ত্রণে নিতে পায়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কোনো প্রকার বৈধতা বা সাংগঠনিক ভিত্তিহীন এই চক্রটি পরিবহন খাতসহ স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ পরিবহন মালিকদের।
‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রটি মূলত অটোরিকশা, লেগুনা এবং পণ্যবাহী ট্রাক থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে। সংগঠনের নাম ব্যবহার করে তারা সাধারণ চালকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে দৈনিক ও মাসিক ভিত্তিতে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। যারা চাঁদা দিতে অস্বীকার করছে, তাদের মারধরসহ গাড়ি ভাঙচুরের মতো ঘটনাও ঘটছে। শুধু চাঁদাবাজিই নয়, রাতের অন্ধকারে নির্জন এলাকায় ছিনতাইয়ের পেছনেও এই চক্রের সদস্যদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
‎ভূক্তভোগী এক অটোচালক জানান, “এরা নিজেদের বড় নেতা পরিচয় দেয়, কিন্তু এদের কোনো কাজই বৈধ নয়। রাস্তাঘাটে গাড়ি চালাতে গেলেই এদের টোকেন নিতে বাধ্য করা হয়।”
‎ভূক্তভোগীরা বলছেন, এ ধরনের তথাকথিত ‘চালক দল’ বা নামসর্বস্ব সংগঠনগুলো শ্রমিকদের কল্যাণের কথা বললেও বাস্তবে এগুলো অপরাধীদের অভয়ারণ্য। এদের কর্মকাণ্ডে নিম্ন আয়ের চালকরা আরও বেশি অর্থনৈতিক সংকটে পড়ছেন।
‎সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক ছদ্মনাম ব্যবহার করায় সাধারণ মানুষ অভিযোগ করতে ভয় পায়, যা অপরাধীদের আরও সাহসী করে তুলছে। কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে রাস্তা দখল ও অবৈধ স্ট্যান্ড বসিয়ে যানজট ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পেছনেও রয়েছে এই চক্র। চালকদের অধিকার আদায়ের কথা বলে তাদের পকেট থেকেই অবৈধভাবে টাকা আদায় করা হচ্ছে।
‎সিদ্ধিরগঞ্জের সচেতন নাগরিকরা বলছেন, এ ধরনের ভুঁইফোঁড় সংগঠনের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। এরা মূলত নাম ব্যবহার করে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত। দ্রুত এসব চক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় না আনলে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।
‎এ প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, এই নামে আমাদের কোন অঙ্গসংগঠন নেই। কেউ যদি দলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করে সেটা কোনভাবেই মেনে নেয়া হবে না। আমরা এ ব্যাপারে প্রশাসনকে অনুরোধ করবো চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নিতে।
‎স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাদের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে খুব শীঘ্রই এই চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।