ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিতর্কে বক্তাবলীর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পিংকি

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ৬ ঘন্টা আগে
  • ০ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় দায়িত্ব পাওয়ার শুরুতেই বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পিংকি আক্তার। মারামারি ও হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোয় স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
দীর্ঘদিন বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের পদটি শূন্য থাকায় নাগরিক সেবা পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছিল সাধারণ মানুষকে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সম্প্রতি পিংকি আক্তারকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, পিংকি আক্তার সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. ফয়েজ উদ্দিনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন ফতুল্লা থানায় ২০২৩ সালে দায়ের করা হত্যা চেষ্টা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি রাসেল মেম্বার, আওয়ামী লীগ নেতা আমজাদ মেম্বার ও বিতর্কিত চরিত্রের অধিকারী সিকান্দার মেম্বারসহ আরও কয়েকজন।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও বক্তাবলী ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেম্বার ছিলেন আত্মগোপনে। সম্প্রতি পিংকি আক্তারকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হলে এসব আওয়ামী লীগ নেতারা আবারো ফিরছেন পুরনো রূপে। এদের মধ্যে ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার রাসেল চৌধুরী ও ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার আমজাদ হোসেন উল্লেখযোগ্য। রাসেল চৌধুরীর বিরুদ্ধে মারামারি ও হত্যা চেষ্টা মামলা রয়েছে। যে মামলায় তার বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রদান করা হয়েছে আদালতে। সে সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তাছাড়া মেম্বার আমজাদ ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালনও করছেন। তারা গণঅভ্যুত্থানের পর আগ্মগোপনে থেকে অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে নানা সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টও করছেন।
বুধবার ইউএনওকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য পিংকি আক্তার বিতর্কিত আমজাদ ও রাসেল মেম্বারকে সাথে নিয়ে যান। তাদের এ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় বিতর্ক।
বিষয়টি জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিনকে ফোন দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। ফলে তার কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে ফতুল্লার একাধিক বিএনপি নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফ্যাসিবাদ সরকারের নির্যাতনে আমরা আমাদের অনেক ভাই হারিয়েছি। নারায়ণগঞ্জের গডফাদার শামীম ওসমান তার দোসরদের দিয়ে আমাদের মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে, বাড়ি ঘরে হামলা করেছিল। সেই সব আওয়ামী দোসরদের নিয়ে এখন পিংকি আক্তার ইউএনও কে ফুল দিতে যায়। আমরা এটা কোনভাবেই মেনে নিতে পারি না।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বক্তাবলীতে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে একটি গোষ্ঠী কাজ করে যাচ্ছে। বিতর্কিত এই কর্মকাণ্ডের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারক ও ফতুল্লা থানা বিএনপির নেতাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ত্যাগী নেতাকর্মীরা। তারা দাবি করেছেন, দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

বিতর্কে বক্তাবলীর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পিংকি

আপডেট সময় ৬ ঘন্টা আগে

স্টাফ রিপোর্টার
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় দায়িত্ব পাওয়ার শুরুতেই বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পিংকি আক্তার। মারামারি ও হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোয় স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
দীর্ঘদিন বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের পদটি শূন্য থাকায় নাগরিক সেবা পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছিল সাধারণ মানুষকে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সম্প্রতি পিংকি আক্তারকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, পিংকি আক্তার সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. ফয়েজ উদ্দিনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন ফতুল্লা থানায় ২০২৩ সালে দায়ের করা হত্যা চেষ্টা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি রাসেল মেম্বার, আওয়ামী লীগ নেতা আমজাদ মেম্বার ও বিতর্কিত চরিত্রের অধিকারী সিকান্দার মেম্বারসহ আরও কয়েকজন।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও বক্তাবলী ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেম্বার ছিলেন আত্মগোপনে। সম্প্রতি পিংকি আক্তারকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হলে এসব আওয়ামী লীগ নেতারা আবারো ফিরছেন পুরনো রূপে। এদের মধ্যে ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার রাসেল চৌধুরী ও ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার আমজাদ হোসেন উল্লেখযোগ্য। রাসেল চৌধুরীর বিরুদ্ধে মারামারি ও হত্যা চেষ্টা মামলা রয়েছে। যে মামলায় তার বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রদান করা হয়েছে আদালতে। সে সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তাছাড়া মেম্বার আমজাদ ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালনও করছেন। তারা গণঅভ্যুত্থানের পর আগ্মগোপনে থেকে অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে নানা সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টও করছেন।
বুধবার ইউএনওকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য পিংকি আক্তার বিতর্কিত আমজাদ ও রাসেল মেম্বারকে সাথে নিয়ে যান। তাদের এ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় বিতর্ক।
বিষয়টি জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিনকে ফোন দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। ফলে তার কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে ফতুল্লার একাধিক বিএনপি নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফ্যাসিবাদ সরকারের নির্যাতনে আমরা আমাদের অনেক ভাই হারিয়েছি। নারায়ণগঞ্জের গডফাদার শামীম ওসমান তার দোসরদের দিয়ে আমাদের মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে, বাড়ি ঘরে হামলা করেছিল। সেই সব আওয়ামী দোসরদের নিয়ে এখন পিংকি আক্তার ইউএনও কে ফুল দিতে যায়। আমরা এটা কোনভাবেই মেনে নিতে পারি না।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বক্তাবলীতে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে একটি গোষ্ঠী কাজ করে যাচ্ছে। বিতর্কিত এই কর্মকাণ্ডের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারক ও ফতুল্লা থানা বিএনপির নেতাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ত্যাগী নেতাকর্মীরা। তারা দাবি করেছেন, দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।