ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রূপগঞ্জে স্কুল ফিডিং প্রকল্পে অনিয়ম

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ৬ ঘন্টা আগে
  • ১ বার পড়া হয়েছে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলমান স্কুল ফিডিং বা মিড ডে মিল প্রকল্পের শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাবার বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের বাসি ও দুর্গন্ধযুক্ত খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ পেটের পীড়ায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিশুরা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত মুনাফার লোভ ও গাফিলতিতে শিক্ষার্থীরা সরকারের দেওয়া বরাদ্দ পুষ্টিকর খাবার থেকে বঞ্চিত হয়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পের আওতায় রূপগঞ্জ উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভার ১১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২২হাজার ৯২৩ শিক্ষার্থীকে ফিডিং কর্মসূচি প্রকল্পের আওতায় রাখা হয়েছে।
প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ ও পুষ্টির চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি) যৌথভাবে এ কর্মসূচির খাদ্য সামগ্রী সরবরাহ করছে। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির গড়ে ৯২ভাগ শিক্ষার্থীকে সপ্তাহে ৫ দিন অর্থাৎ স্কুল কর্ম দিবসে পুষ্টিকর খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। খাবারের তালিকায় রয়েছে প্রতি রোববার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার বনরুটি ১২০ গ্রাম, সিদ্ধ ডিম ৬০গ্রাম, সোমবার বনরুটি ১২০ গ্রাম, ইউএইচটি দুধ ২০০গ্রাম, মঙ্গলবার ফর্টিফাইড বিস্কুট ৭৫গ্রাম ও স্থানীয় মৌসুমী ফল বা কলা ১০০ গ্রাম।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাবার বিতরণে অনিয়ম চলছে। অধিকাংশ বিদ্যালয়ে নিম্নমানের বাসি ও দুর্গন্ধযুক্ত খাবার পরিবশেন করা হচ্ছে। মেয়াদ উর্ত্তীণ রুটিতে পাওয়া যাচ্ছে পোকা। ডিমে থাকছে দুর্গন্ধ। ফরমালিন যুক্ত কাঁচা কিংবা অতিরিক্ত পাকা কলা। এসব অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা পেটের পীড়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তাতে শিশুদের মধ্যে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে।
এ নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি সংকটের দোহাই দিয়ে মাঝে মধ্যে কয়েকটি স্কুলে খাবার দেওয়া হচ্ছে না। কাঞ্চন পৌরসভার বিরাবো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কেন্দুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ চিত্র দেখা গেছে। একই চিত্র দেখা গেছে বেশ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি ২/৩টি স্কুলে এ সমস্যা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে খাবার সংগ্রহ করায় কিছুটা সমস্যা হয়েছে। আশা করছি পরে এমন সমস্যা হবে না।
অভিভাবকরা জানায়, অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে তাদের বাচ্চারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
এ ঘটনায় বিরাবো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রওশন আরা বেগম বলেন, বাসি ও দুর্গন্ধযুক্ত খাবার শিশুরে মধ্যে বিতরণ করা দুঃখজনক। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবো।
খাবার বিতরণে থাকা একাংশের সাব ঠিকাদার আমিনুল ইসলাম প্রিন্স বলেন, সম্পুর্ণ স্বাস্থ্যসম্মতভাবে প্রতিদিনের খাবার প্রতিদিন বিতরণ করা হচ্ছে। এখানে অনিয়মের কোন সুযোগ নেই।
রূপগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার মাহরুক জাবীন বলেন, আমি কয়েকদিন আগে যোগদান করেছি। জ্বালানি সংকটের কারণে শতভাগ খাবার সাপ্লাই দিতে পারছেন না ঠিকাদাররা। যতটুক সাপ্লাই দেয় ততটুকুর বিল পরিশোধ করছি।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ঠিকাদাররা খাবার সরবরাহ করে থাকে। খাবার বিতরণে অনিয়ম পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

রূপগঞ্জে স্কুল ফিডিং প্রকল্পে অনিয়ম

আপডেট সময় ৬ ঘন্টা আগে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলমান স্কুল ফিডিং বা মিড ডে মিল প্রকল্পের শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাবার বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের বাসি ও দুর্গন্ধযুক্ত খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ পেটের পীড়ায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিশুরা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত মুনাফার লোভ ও গাফিলতিতে শিক্ষার্থীরা সরকারের দেওয়া বরাদ্দ পুষ্টিকর খাবার থেকে বঞ্চিত হয়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পের আওতায় রূপগঞ্জ উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভার ১১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২২হাজার ৯২৩ শিক্ষার্থীকে ফিডিং কর্মসূচি প্রকল্পের আওতায় রাখা হয়েছে।
প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ ও পুষ্টির চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি) যৌথভাবে এ কর্মসূচির খাদ্য সামগ্রী সরবরাহ করছে। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির গড়ে ৯২ভাগ শিক্ষার্থীকে সপ্তাহে ৫ দিন অর্থাৎ স্কুল কর্ম দিবসে পুষ্টিকর খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। খাবারের তালিকায় রয়েছে প্রতি রোববার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার বনরুটি ১২০ গ্রাম, সিদ্ধ ডিম ৬০গ্রাম, সোমবার বনরুটি ১২০ গ্রাম, ইউএইচটি দুধ ২০০গ্রাম, মঙ্গলবার ফর্টিফাইড বিস্কুট ৭৫গ্রাম ও স্থানীয় মৌসুমী ফল বা কলা ১০০ গ্রাম।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাবার বিতরণে অনিয়ম চলছে। অধিকাংশ বিদ্যালয়ে নিম্নমানের বাসি ও দুর্গন্ধযুক্ত খাবার পরিবশেন করা হচ্ছে। মেয়াদ উর্ত্তীণ রুটিতে পাওয়া যাচ্ছে পোকা। ডিমে থাকছে দুর্গন্ধ। ফরমালিন যুক্ত কাঁচা কিংবা অতিরিক্ত পাকা কলা। এসব অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা পেটের পীড়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তাতে শিশুদের মধ্যে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে।
এ নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি সংকটের দোহাই দিয়ে মাঝে মধ্যে কয়েকটি স্কুলে খাবার দেওয়া হচ্ছে না। কাঞ্চন পৌরসভার বিরাবো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কেন্দুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ চিত্র দেখা গেছে। একই চিত্র দেখা গেছে বেশ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি ২/৩টি স্কুলে এ সমস্যা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে খাবার সংগ্রহ করায় কিছুটা সমস্যা হয়েছে। আশা করছি পরে এমন সমস্যা হবে না।
অভিভাবকরা জানায়, অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে তাদের বাচ্চারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
এ ঘটনায় বিরাবো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রওশন আরা বেগম বলেন, বাসি ও দুর্গন্ধযুক্ত খাবার শিশুরে মধ্যে বিতরণ করা দুঃখজনক। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবো।
খাবার বিতরণে থাকা একাংশের সাব ঠিকাদার আমিনুল ইসলাম প্রিন্স বলেন, সম্পুর্ণ স্বাস্থ্যসম্মতভাবে প্রতিদিনের খাবার প্রতিদিন বিতরণ করা হচ্ছে। এখানে অনিয়মের কোন সুযোগ নেই।
রূপগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার মাহরুক জাবীন বলেন, আমি কয়েকদিন আগে যোগদান করেছি। জ্বালানি সংকটের কারণে শতভাগ খাবার সাপ্লাই দিতে পারছেন না ঠিকাদাররা। যতটুক সাপ্লাই দেয় ততটুকুর বিল পরিশোধ করছি।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ঠিকাদাররা খাবার সরবরাহ করে থাকে। খাবার বিতরণে অনিয়ম পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।