ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সস্তাপুরে ১২ মাসের জলাবদ্ধতা!

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ৬ ঘন্টা আগে
  • ১ বার পড়া হয়েছে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
‎ফতুল্লা উপজেলার সস্তাপুর মাজার সংলগ্ন সদর উপজেলার পুরাতন সড়কে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী জলাবদ্ধতা জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। এটি কোনো মৌসুমি সমস্যা নয় বরং বছরের ১২ মাসই এই সড়কে পানি জমে থাকে। ফলে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষকে চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
‎বুধবার ২৯ এপ্রিল সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের একটি বড় অংশ জুড়ে জমে থাকা পানির কারণে পথচারীদের হাঁটাচলা করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় যানবাহন চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টি না থাকলেও এই পানি শুকায় না, বরং দিনের পর দিন স্থির হয়ে থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
‎স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা এই সমস্যার সমাধানে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নিজেদের উদ্যোগে কয়েকবার ড্রেন পরিষ্কার, মাটি অপসারণ ও পানি নিষ্কাশনের জন্য পাইপ স্থাপনসহ নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এসব কাজে এলাকাবাসী প্রায় কয়েক লাখ টাকা ব্যয় করেছেন। কিন্তু কোনো উদ্যোগই স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি।
‎একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, আমরা নিজেরা টাকা তুলে বহুবার কাজ করেছি। কিন্তু পানি যাওয়ার কোনো স্থায়ী পথ নেই। একটু কমলেও আবার আগের মতো হয়ে যায়।
‎এলাকার ব্যবসায়ীরাও এই জলাবদ্ধতার কারণে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। দোকানের সামনে পানি জমে থাকায় ক্রেতারা আসতে অনীহা প্রকাশ করছেন। অনেক দোকানদার বাধ্য হয়ে দোকানে ঢোকার জন্য অস্থায়ী কাঠের সাঁকো বা ইটের পথ তৈরি করেছেন।
‎সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, নারী ও বৃদ্ধরা। প্রতিদিন কাদা-পানির মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে তারা স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি নানা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষদের জন্য এটি হয়ে উঠেছে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
‎এলাকাবাসীর অভিযোগ, তারা একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। এতে করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দিন দিন বাড়ছে।
‎একজন ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উপজেলায় বারবার আবেদন করেও কোনো লাভ হয়নি। কেউ এসে সমস্যাটা দেখেও যায় না। আমরা যেন অবহেলিত হয়ে আছি।
‎অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পানি নিষ্কাশনের সঠিক পথ না থাকাই এই সমস্যার মূল কারণ। দ্রুত একটি আধুনিক ও সমন্বিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা না হলে এই জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।
‎এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, দ্রুত স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করে এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়া হোক।
‎এ বিষয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন জানান, আমরা ইতোমধ্যে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে এলাকা পরিদর্শনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুতই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
‎তিনি আরও জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পানি নিষ্কাশনের বিকল্প পথ তৈরি এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
‎ফতুল্লার সস্তাপুরের এই জলাবদ্ধতা শুধু একটি এলাকার সমস্যা নয়, এটি নগর ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার একটি প্রতিচ্ছবি। লাখো মানুষের প্রতিদিনের এই দুর্ভোগ নিরসনে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

সস্তাপুরে ১২ মাসের জলাবদ্ধতা!

আপডেট সময় ৬ ঘন্টা আগে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
‎ফতুল্লা উপজেলার সস্তাপুর মাজার সংলগ্ন সদর উপজেলার পুরাতন সড়কে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী জলাবদ্ধতা জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। এটি কোনো মৌসুমি সমস্যা নয় বরং বছরের ১২ মাসই এই সড়কে পানি জমে থাকে। ফলে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষকে চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
‎বুধবার ২৯ এপ্রিল সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের একটি বড় অংশ জুড়ে জমে থাকা পানির কারণে পথচারীদের হাঁটাচলা করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় যানবাহন চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টি না থাকলেও এই পানি শুকায় না, বরং দিনের পর দিন স্থির হয়ে থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
‎স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা এই সমস্যার সমাধানে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নিজেদের উদ্যোগে কয়েকবার ড্রেন পরিষ্কার, মাটি অপসারণ ও পানি নিষ্কাশনের জন্য পাইপ স্থাপনসহ নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এসব কাজে এলাকাবাসী প্রায় কয়েক লাখ টাকা ব্যয় করেছেন। কিন্তু কোনো উদ্যোগই স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি।
‎একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, আমরা নিজেরা টাকা তুলে বহুবার কাজ করেছি। কিন্তু পানি যাওয়ার কোনো স্থায়ী পথ নেই। একটু কমলেও আবার আগের মতো হয়ে যায়।
‎এলাকার ব্যবসায়ীরাও এই জলাবদ্ধতার কারণে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। দোকানের সামনে পানি জমে থাকায় ক্রেতারা আসতে অনীহা প্রকাশ করছেন। অনেক দোকানদার বাধ্য হয়ে দোকানে ঢোকার জন্য অস্থায়ী কাঠের সাঁকো বা ইটের পথ তৈরি করেছেন।
‎সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, নারী ও বৃদ্ধরা। প্রতিদিন কাদা-পানির মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে তারা স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি নানা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষদের জন্য এটি হয়ে উঠেছে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
‎এলাকাবাসীর অভিযোগ, তারা একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। এতে করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দিন দিন বাড়ছে।
‎একজন ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উপজেলায় বারবার আবেদন করেও কোনো লাভ হয়নি। কেউ এসে সমস্যাটা দেখেও যায় না। আমরা যেন অবহেলিত হয়ে আছি।
‎অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পানি নিষ্কাশনের সঠিক পথ না থাকাই এই সমস্যার মূল কারণ। দ্রুত একটি আধুনিক ও সমন্বিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা না হলে এই জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।
‎এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, দ্রুত স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করে এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়া হোক।
‎এ বিষয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন জানান, আমরা ইতোমধ্যে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে এলাকা পরিদর্শনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুতই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
‎তিনি আরও জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পানি নিষ্কাশনের বিকল্প পথ তৈরি এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
‎ফতুল্লার সস্তাপুরের এই জলাবদ্ধতা শুধু একটি এলাকার সমস্যা নয়, এটি নগর ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার একটি প্রতিচ্ছবি। লাখো মানুষের প্রতিদিনের এই দুর্ভোগ নিরসনে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।