সোজাসাপটা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র বঙ্গবন্ধু সড়কে আবারও ধীরে ধীরে বসতে শুরু করেছেন হকাররা। প্রায় এক মাস আগে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) জোরালো অভিযানে ফুটপাত দখলমুক্ত হলেও বর্তমানে সেই পরিস্থিতি আর আগের মতো নেই। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে সড়ক ও ফুটপাতের বিভিন্ন অংশে ফের দেখা মিলছে ভ্রাম্যমাণ দোকান ও অস্থায়ী হকারদের।
অন্যদিকে নগরীতে চলাচলকারী অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। আধুনিক নম্বর প্লেট ও চালক পরিচয়পত্র চালুর ঘোষণা দেওয়া হলেও এখনও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে যানজট ও বিশৃঙ্খলা আগের মতোই থেকে গেছে বলে অভিযোগ নগরবাসীর।
গত ১৩ এপ্রিল চাষাঢ়া থেকে দুই নম্বর রেলগেট পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সড়কে বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালায় নাসিক। ফুটপাত ও সড়কের ওপর বসা শতাধিক হকারকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কয়েকদিন ধরে টানা অভিযান চালানোয় দীর্ঘদিন পর স্বস্তিতে চলাচল করতে পারেন পথচারীরা। অনেকেই তখন আশা করেছিলেন, হয়তো এবার স্থায়ী সমাধানের পথে হাঁটছে কর্তৃপক্ষ।
তবে সেই স্বস্তি বেশিদিন টেকেনি। বর্তমানে বিকেল ও সন্ধ্যার পর বঙ্গবন্ধু সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে আবারও বস্তা বিছিয়ে কাপড়, জুতা, প্রসাধনী ও বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করতে দেখা যায়। কোথাও কোথাও ফুটপাত ছাড়িয়ে মূল সড়কের অংশও দখল হচ্ছে। এতে পথচারীদের পাশাপাশি যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন তৈরি হচ্ছে।
শহরের চাষাঢ়া, কালিরবাজার, শহীদ মিনার এলাকা ও দুই নম্বর রেলগেট ঘুরে দেখা গেছে, দিনের তুলনায় রাতে হকারদের উপস্থিতি বেশি। প্রশাসনের নজরদারি কমে গেলে তারা দ্রুত জায়গা দখল করে বসে পড়ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুরুতে প্রশাসনের কড়াকড়ি থাকলেও এখন সেই চাপ নেই। ফলে হকাররা আবারও আগের অবস্থানে ফিরতে শুরু করেছেন।
গত ৪ মে চাষাঢ়া এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হন নাসিকের কয়েকজন কর্মী। অভিযোগ রয়েছে, একদল হকার ও তাদের সমর্থকরা অভিযান বাধাগ্রস্ত করতে হামলা চালান। ওই ঘটনায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো গ্রেপ্তার হয়নি। এরপর থেকেই মাঠপর্যায়ের অভিযান কিছুটা শিথিল হয়ে পড়ে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হকার ইস্যুতে ক্ষোভ প্রকাশ করে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক আহমেদুর রহমান তনু বলেন, আবারো নারায়ণগঞ্জের ফুটপাত ছেড়ে রাস্তায় আমরা, দায় কার? আপনাদের সবকিছু তৈরি করে দেওয়া হইলো। শুধু আপনাদের দায়িত্ব ছিল সিদ্ধান্ত নিয়ে একটা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা সবাইকে নিয়ে। সেটাও করতে পারলেন না (প্রশাসক সিটি)? হকার বসবে কি বসবে না সেটাও সিদ্ধান্ত নিতে পারলেন না? যাদের জন্য ফুটপাতে সমস্যা তাদের জন্য একটা ব্যবস্থা গ্রহণ করা, সেটাও পারলেন না। যানজটের মত হকারদের স্থায়ী করার জায়গায় নিয়ে যাচ্ছেন। দেখানো অভিযান বাদ দিয়ে, কার্যকর অভিযান করেন, কার্যকর সিদ্ধান্ত নেন দয়া করে নারায়ণগঞ্জের স্বার্থের জন্য।
এদিকে শহরের আরেক বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে অনিয়ন্ত্রিত অটোরিকশা। চাষাঢ়া, দুই নম্বর রেলগেট, কালিরবাজার, খানপুর ও বঙ্গবন্ধু সড়কের আশপাশে যত্রতত্র অটো দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো হচ্ছে। এতে সড়কে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।
নাসিকের পক্ষ থেকে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নম্বর প্লেট ও ড্রাইভার কার্ড চালুর ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবে এখনো সেই কার্যক্রম শুরু হয়নি। ফলে কোন অটো বৈধ আর কোনটি অবৈধ—তা চিহ্নিত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, যানজট এখন আগের তুলনায় অনেক কমেছে। সামনে আরও কমবে। আমাকে একটু সময় দিতে হবে। হকার উচ্ছেদের পর তারা আন্দোলন শুরু করেছে। এখন যদি একসঙ্গে অটোরিকশার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাহলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, আগামী সপ্তাহ থেকে অটোরিকশার প্লেট বিতরণ শুরু হবে। সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে একটি কমিটি করা হবে। তাদের মাধ্যমে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে নগরবাসীর দাবি, শুধু অভিযান চালিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। হকারদের পুনর্বাসন এবং অটোরিকশার জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড না করলে একই পরিস্থিতি বারবার ফিরে আসবে। তাদের মতে, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ছাড়া শহরের যানজট ও ফুটপাত দখল সমস্যার সমাধান হবে না।
সংবাদ শিরোনাম ::
জিয়াউর রহমানের স্মরণে ফুটবল টুর্নামেন্ট
‘শিক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক’ কর্মসূচী
প্রকাশ্যে ঘুরে বেরাচ্ছে আসামীরা
ছোট ভাইকে হত্যা, বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে বাবার মামলা
ধর্ষণের অভিযোগে জামাতা গ্রেপ্তার
হকার উচ্ছেদে ব্যর্থতা, অনিয়ন্ত্রিত অটো
জাতীয় যুবশক্তির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
৪ দাবিতে আন্দোলনের ডাক
সংগঠিত হচ্ছে নিষিদ্ধ আ’লীগ
আলী হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
হকার উচ্ছেদে ব্যর্থতা, অনিয়ন্ত্রিত অটো
-
ডেস্ক : - আপডেট সময় এক ঘন্টা আগে
- ০ বার পড়া হয়েছে
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ




















