ঢাকা , রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাইনবোর্ডে বাসের জন্য অপেক্ষা

ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় বাসের জন্য অপেক্ষায় থেকে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। নির্ধারিত সময়ে বাস না আসায় যাত্রীদের মধ্যে বাড়ছে উৎকণ্ঠা ও ক্ষোভ।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে সাইনবোর্ড এলাকার বিভিন্ন বাস কাউন্টারে অপেক্ষারত যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এ চিত্র দেখা যায়। নির্ধারিত সময় পার হলেও অনেক বাসই দেরিতে ছাড়ছে। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে বাড়ি ফেরা যাত্রীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

চট্টগ্রামগামী যাত্রী আরাফাত জানান, ঈদ উপলক্ষে আগেই অগ্রিম টিকিট কেটে রেখেছিলেন তিনি। বাস ছাড়ার সময় ছিল সকাল ১০টা। কিন্তু সাড়ে ১১টা পেরিয়ে গেলেও বাসের দেখা মেলেনি। পরিবার নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাকে।

তিনি বলেন, “অগ্রিম টিকিট নিয়ে রেখেছিলাম। সকাল ১০টায় গাড়ি আসার কথা ছিল। কিন্তু সাড়ে ১১টা হয়ে গেলেও এখনো আসেনি। কখন ছাড়বে সেটাও কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বসে আছি।”

এদিকে কাউন্টার এলাকায় অনেক যাত্রীকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। কেউ কোলে ছোট শিশু নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, আবার কেউ লাগেজ ও ব্যাগপত্র নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছেন। রোদের গরমে শিশুদের কষ্ট বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরাও।

বাস কাউন্টার সংশ্লিষ্ট এক কর্মী জানান, অনেক সময় বাস নির্ধারিত সময়ে ছাড়লেও পথে তীব্র যানজটে আটকে পড়ছে। ফলে পরবর্তী ট্রিপগুলো নির্ধারিত সময়ে কাউন্টারে আনা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া পাম্প থেকে সময়মতো তেল না পাওয়াতেও কিছু গাড়ি দেরিতে ছাড়ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকার অধিকাংশ বাস কাউন্টারে ভাড়ার তালিকা সাঁটানো নেই বলেও অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

কুমিল্লাগামী যাত্রী আলমগীর হোসাইন বলেন, “গত সপ্তাহে ৩৫০ টাকায় গ্রামে গিয়েছিলাম। কিন্তু আজকে ৪০০ টাকার নিচে কোনো টিকিট পাচ্ছি না। বাধ্য হয়ে দু’জনের জন্য ৮০০ টাকা দিয়ে টিকিট নিতে হয়েছে।”

ঈদকে ঘিরে যাত্রীচাপ দিন দিন বাড়তে থাকায় এই ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা। সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

আবু সাউদ মাসুদ

হ্যালো আমি আবু সাউদ মাসুদ। সম্পাদক হিসেবে কাজ করছি।

সাইনবোর্ডে বাসের জন্য অপেক্ষা

আপডেট সময় ০৫:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় বাসের জন্য অপেক্ষায় থেকে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। নির্ধারিত সময়ে বাস না আসায় যাত্রীদের মধ্যে বাড়ছে উৎকণ্ঠা ও ক্ষোভ।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে সাইনবোর্ড এলাকার বিভিন্ন বাস কাউন্টারে অপেক্ষারত যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এ চিত্র দেখা যায়। নির্ধারিত সময় পার হলেও অনেক বাসই দেরিতে ছাড়ছে। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে বাড়ি ফেরা যাত্রীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

চট্টগ্রামগামী যাত্রী আরাফাত জানান, ঈদ উপলক্ষে আগেই অগ্রিম টিকিট কেটে রেখেছিলেন তিনি। বাস ছাড়ার সময় ছিল সকাল ১০টা। কিন্তু সাড়ে ১১টা পেরিয়ে গেলেও বাসের দেখা মেলেনি। পরিবার নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাকে।

তিনি বলেন, “অগ্রিম টিকিট নিয়ে রেখেছিলাম। সকাল ১০টায় গাড়ি আসার কথা ছিল। কিন্তু সাড়ে ১১টা হয়ে গেলেও এখনো আসেনি। কখন ছাড়বে সেটাও কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বসে আছি।”

এদিকে কাউন্টার এলাকায় অনেক যাত্রীকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। কেউ কোলে ছোট শিশু নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, আবার কেউ লাগেজ ও ব্যাগপত্র নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছেন। রোদের গরমে শিশুদের কষ্ট বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরাও।

বাস কাউন্টার সংশ্লিষ্ট এক কর্মী জানান, অনেক সময় বাস নির্ধারিত সময়ে ছাড়লেও পথে তীব্র যানজটে আটকে পড়ছে। ফলে পরবর্তী ট্রিপগুলো নির্ধারিত সময়ে কাউন্টারে আনা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া পাম্প থেকে সময়মতো তেল না পাওয়াতেও কিছু গাড়ি দেরিতে ছাড়ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকার অধিকাংশ বাস কাউন্টারে ভাড়ার তালিকা সাঁটানো নেই বলেও অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

কুমিল্লাগামী যাত্রী আলমগীর হোসাইন বলেন, “গত সপ্তাহে ৩৫০ টাকায় গ্রামে গিয়েছিলাম। কিন্তু আজকে ৪০০ টাকার নিচে কোনো টিকিট পাচ্ছি না। বাধ্য হয়ে দু’জনের জন্য ৮০০ টাকা দিয়ে টিকিট নিতে হয়েছে।”

ঈদকে ঘিরে যাত্রীচাপ দিন দিন বাড়তে থাকায় এই ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা। সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।