ঢাকা , বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই নেতার বিপরিতমুখী অবস্থান

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ৭ ঘন্টা আগে
  • ১ বার পড়া হয়েছে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
ফতুল্লা থানার চারটি ইউনিয়নকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন-এর আওতাভুক্ত করা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় বিএনপির দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতার ভিন্নমুখী অবস্থান বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে আরো আলোচনায় এনে দিয়েছে।
ফতুল্লা থানা বিএনপির সহসভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ দীর্ঘদিন ধরেই কুতুবপুর ইউনিয়নকে সিটি করপোরেশনের আওতায় নেয়ার দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। জানা যায়, প্রথমদিকে এনায়েতনগর ও কাশীপুর ইউনিয়নকে সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব সামনে আসলেও কুতুবপুরকে বাদ দেয়ার খবর পেয়ে তিনি সরব হন। এরপর থেকেই কুতুবপুরবাসীকে সম্পৃক্ত করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন শুরু করেন তিনি।
এ দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদানসহ একাধিক কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। শহীদ উল্লাহর বক্তব্য, ফতুল্লার জনসংখ্যা ও নাগরিক সুবিধার বাস্তবতায় কুতুবপুরসহ পুরো এলাকাকে আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা প্রয়োজন।
এদিকে সম্প্রতি এডভোকেট আবদুল্লাহ আল আমিন জাতীয় সংসদে প্রশ্ন তোলেন, ফতুল্লা থানা এলাকাকে কবে সিটি করপোরেশনের আওতায় আনা হবে? সংসদে এ বিষয়টি উত্থাপনের পর স্থানীয় রাজনীতি ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
তবে আলোচনার মাঝেই ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী। তিনি ফতুল্লার ইউনিয়নগুলোকে নিয়ে পৃথক একটি পৌরসভা গঠনের দাবি জানান। তার মতে, ফতুল্লার বিশাল জনসংখ্যা ও স্বতন্ত্র ভৌগোলিক বাস্তবতায় আলাদা পৌরসভা গঠনই হবে অধিক কার্যকর ও জনবান্ধব সিদ্ধান্ত।
এতে বিএনপির দুই নেতার দুই ধরনের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে শহীদ উল্লাহ চাইছেন ফতুল্লা সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হোক, অন্যদিকে রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী চাইছেন পৃথক পৌরসভা।
তবে সাধারণ মানুষের বড় অংশের দাবি, ফতুল্লাকে আর ইউনিয়ন পরিষদের কাঠামোয় ফেলে রাখা উচিত নয়। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জনসংখ্যা, শিল্পাঞ্চল, অবকাঠামো ও নাগরিক চাপ বিবেচনায় ফতুল্লা এখন আর গ্রামীণ প্রশাসনিক কাঠামোর উপযোগী নয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে ফতুল্লাকে অবশ্যই সিটি করপোরেশন অথবা পৌরসভার আওতায় আনতে হবে। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই এত বড় জনবহুল এলাকাকে ইউনিয়ন পরিষদের অধীন রেখে আধুনিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এখন দেখার বিষয়, ফতুল্লার ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে শেষ পর্যন্ত সরকার কোন পথে হাঁটে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

দুই নেতার বিপরিতমুখী অবস্থান

আপডেট সময় ৭ ঘন্টা আগে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
ফতুল্লা থানার চারটি ইউনিয়নকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন-এর আওতাভুক্ত করা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় বিএনপির দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতার ভিন্নমুখী অবস্থান বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে আরো আলোচনায় এনে দিয়েছে।
ফতুল্লা থানা বিএনপির সহসভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ দীর্ঘদিন ধরেই কুতুবপুর ইউনিয়নকে সিটি করপোরেশনের আওতায় নেয়ার দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। জানা যায়, প্রথমদিকে এনায়েতনগর ও কাশীপুর ইউনিয়নকে সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব সামনে আসলেও কুতুবপুরকে বাদ দেয়ার খবর পেয়ে তিনি সরব হন। এরপর থেকেই কুতুবপুরবাসীকে সম্পৃক্ত করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন শুরু করেন তিনি।
এ দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদানসহ একাধিক কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। শহীদ উল্লাহর বক্তব্য, ফতুল্লার জনসংখ্যা ও নাগরিক সুবিধার বাস্তবতায় কুতুবপুরসহ পুরো এলাকাকে আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা প্রয়োজন।
এদিকে সম্প্রতি এডভোকেট আবদুল্লাহ আল আমিন জাতীয় সংসদে প্রশ্ন তোলেন, ফতুল্লা থানা এলাকাকে কবে সিটি করপোরেশনের আওতায় আনা হবে? সংসদে এ বিষয়টি উত্থাপনের পর স্থানীয় রাজনীতি ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
তবে আলোচনার মাঝেই ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী। তিনি ফতুল্লার ইউনিয়নগুলোকে নিয়ে পৃথক একটি পৌরসভা গঠনের দাবি জানান। তার মতে, ফতুল্লার বিশাল জনসংখ্যা ও স্বতন্ত্র ভৌগোলিক বাস্তবতায় আলাদা পৌরসভা গঠনই হবে অধিক কার্যকর ও জনবান্ধব সিদ্ধান্ত।
এতে বিএনপির দুই নেতার দুই ধরনের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে শহীদ উল্লাহ চাইছেন ফতুল্লা সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হোক, অন্যদিকে রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী চাইছেন পৃথক পৌরসভা।
তবে সাধারণ মানুষের বড় অংশের দাবি, ফতুল্লাকে আর ইউনিয়ন পরিষদের কাঠামোয় ফেলে রাখা উচিত নয়। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জনসংখ্যা, শিল্পাঞ্চল, অবকাঠামো ও নাগরিক চাপ বিবেচনায় ফতুল্লা এখন আর গ্রামীণ প্রশাসনিক কাঠামোর উপযোগী নয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে ফতুল্লাকে অবশ্যই সিটি করপোরেশন অথবা পৌরসভার আওতায় আনতে হবে। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই এত বড় জনবহুল এলাকাকে ইউনিয়ন পরিষদের অধীন রেখে আধুনিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এখন দেখার বিষয়, ফতুল্লার ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে শেষ পর্যন্ত সরকার কোন পথে হাঁটে।