সোজাসাপটা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ শহরে হকার ইস্যু ঘিরে যখন রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক চলছে ঠিক তখনই এক হকার নেতার দ্বিমুখী অবস্থান নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জাতীয়তাবাদী হকার্স ইউনিয়ন দলের নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটির সভাপতি কেএম মিজানুর রহমান রনি একইসঙ্গে হকারদের পুনর্বাসনের দাবিতে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি হকার উচ্ছেদ অভিযানে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে অংশ নেওয়ায় নগরজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
ঘটনাটি গত ২০ ও ২১ এপ্রিলকে ঘিরে। ২০ এপ্রিল সোমবার দুপুরে রনি হকারদের একটি বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন। সেখানে তিনি ফুটপাতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হকার বসার সুযোগ নিশ্চিত করা, পুনর্বাসনের আগে উচ্ছেদ না করা, বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করা এমন ৫ দফা দাবিতে সোচ্চার হন। একইদিন তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খানের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। কিন্তু ঘটনার মোড় ঘুরে যায় পরদিনই। ২১ এপ্রিল বিকেলে নগরীর শায়েস্তা খাঁ সড়কের কালিরবাজার ফ্রেন্ডস মার্কেটের সামনে থেকে মহানগর বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে হকার উচ্ছেদের পক্ষে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটির নেতৃত্ব দেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউসার আশা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
এই মিছিল ও সমাবেশে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে কেএম মিজানুর রহমান রনির উপস্থিতি। শুধু উপস্থিতিই নয়, তাকে সামনে রেখে বক্তব্যও দেন বিএনপি নেতারা। সমাবেশ শেষে উচ্ছেদের পক্ষে যে মিছিল বের হয়, তাতেও অংশ নিতে দেখা যায় তাকে। ফলে একদিন আগেও যিনি পুনর্বাসনের আগে উচ্ছেদ নয়” স্লোগানে নেতৃত্ব দিয়েছেন, পরদিনই তাকে উচ্ছেদের পক্ষে অবস্থান নিতে দেখা যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা।
সবশেষ ২৬ এপ্রিল বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে জেলা ঐক্য হকার পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত সমাবেশেও তাকে জোরালো বক্তব্য দিতে দেখা যায়। সেখানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন পুনর্বাসন ছাড়া কোনো উচ্ছেদ মানা হবে না।
এ নিয়ে নগরজুড়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই রনির এই অবস্থানকে রাজনৈতিক সুবিধাবাদ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। হকারদের একটি অংশ বলছেন, আমাদের নেতা যদি আমাদের দাবির বিপরীতে গিয়ে উচ্ছেদের পক্ষে দাঁড়ান, তাহলে আমরা কার কাছে যাব? আবার কেউ কেউ মনে করছেন, এটি হয়তো রাজনৈতিক চাপ বা সমন্বয়ের অংশ হতে পারে।
অন্যদিকে বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি অংশ বলছেন, নগরীর স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে হকার উচ্ছেদ জরুরি ছিল। তারা দাবি করছেন, শহরের প্রধান সড়ক ও ফুটপাত দখল করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার কারণে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছিল। উচ্ছেদের ফলে সাধারণ মানুষ এখন স্বস্তিতে চলাচল করতে পারছেন।
নগরবাসীর একটি বড় অংশও এই মতের সঙ্গে একমত। তাদের মতে, ফুটপাত মূলত পথচারীদের জন্য, সেখানে হকারদের দখলদারিত্বের কারণে প্রতিদিনই ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, নারী ও বৃদ্ধদের জন্য এটি ছিল বড় সমস্যা।
তবে এর বিপরীতে মানবিক দৃষ্টিকোণও তুলে ধরছেন অনেকেই। তারা বলছেন, হকারদের একটি বড় অংশ নিম্নআয়ের মানুষ, যাদের জীবিকার একমাত্র উৎস এই ফুটপাতের ব্যবসা। হঠাৎ করে উচ্ছেদ করলে তাদের পরিবারগুলো চরম সংকটে পড়ে। তাই উচ্ছেদের আগে পরিকল্পিত পুনর্বাসন অত্যন্ত জরুরি।
নারায়ণগঞ্জে হকার ইস্যু দীর্ঘদিনের একটি জটিল সমস্যা, যেখানে রাজনৈতিক প্রভাব, অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং নগর ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। এই পরিস্থিতিতে কোনো নেতার দ্বিমুখী অবস্থান শুধু বিতর্কই বাড়ায় না, বরং সমাধানের পথকেও জটিল করে তোলে।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে পুনর্বাসনের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
সবমিলিয়ে, হকার নেতা কেএম মিজানুর রহমান রনির পরস্পরবিরোধী অবস্থান নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রশ্ন তুলেছে—এটি কি কৌশলগত অবস্থান, নাকি রাজনৈতিক চাপে নেয়া সিদ্ধান্ত? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে এখন পুরো নগরবাসী।
সংবাদ শিরোনাম ::
বাবার স্মৃতি শুধুই ছবি
হকার ঠেকাতে রাজপথে থাকার ঘোষণা
হকারমুক্ত রাখতে অভিযান
ভুয়া ব্র্যান্ডের তেল মোড়কজাতকরণে জরিমানা
খোরশেদের ঠান্ডা পানি ও শসা বিতরণ
সাখাওয়াতই পাবেন সমর্থন
ধান্ধার জন্য ব্রিজটি হতে দিতে চায় না—-দিপু ভূঁইয়া
মাদক ব্যাবসায়ীর গ্যারেজে আশার তালা
বিচারের অপেক্ষায় এক যুগ
গাজী টিম্বারকে জরিমানা
কখনও উচ্ছেদ, কখনও পুর্ণবাসনে রনি!
-
ডেস্ক : - আপডেট সময় ৪ ঘন্টা আগে
- ২ বার পড়া হয়েছে
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ
সর্বশেষ নিউজ























