স্টাফ রিপোর্টার
বাবাকে সে কখনো দেখেনি। জন্মের আগেই নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল তাকে। এখন ১২ বছর বয়সী রোজা আক্তার জান্নাতের কাছে বাবার স্মৃতি বলতে কেবল কিছু পুরোনো ছবি আর মায়ের চোখের জল।
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাতখুন মামলার এক ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে রোজা। বাবার মৃত্যুর এক মাস পর তার জন্ম। মাদরাসায় অন্য শিশুদের বাবার সঙ্গে দেখলে তার মন খারাপ হয়ে যায়, বাড়ি ফিরে কান্নাকাটি করে জানালেন তার মা শামসুন্নাহার আক্তার নুপুর।
“আমার মেয়ে তো জন্মের পর থেকে বাবাকে দেখেনি। অন্যদের বাবাকে দেখলে তার খুব কষ্ট হয়। কিন্তু যারা তার বাবাকে হত্যা করলো, তাদের শাস্তি এখনো দেখলাম না। কবে এই বিচার নিজের চোখে দেখতে পাবো, জানি না, খালি দিন গুনছি,” বলেন নুপুর।
২০১৪ সালেল ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক (লিংক রোড) থেকে অপহরণের শিকার হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকার, নজরুলের সহযোগী তাজুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম লিটন, মনিরুজ্জামান স্বপন, স্বপনের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম ও আইনজীবী চন্দনের গাড়িচালক ইব্রাহিম।
তিনদিন পর তাদের মরদেহ ভেসে ওঠে শীতলক্ষ্যা নদীতে, যা দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
অভিযোগ রয়েছে, রাষ্ট্রীয় বাহিনী র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের (র্যাব) শীর্ষ কয়েকজন কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে এই অপহরণ ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
ঘটনার ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার রায় এখনো কার্যকর হয়নি। রাষ্ট্রীয় আইন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উচ্চ আদালতে কয়েকজন র্যাব কর্মকর্তাসহ একাধিক আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলেও বিষয়টি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ‘লিভ টু আপিল’ কার্যক্রমে আটকে আছে।
ফলে দীর্ঘসূত্রতায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
সাবেক কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা আক্তার বিউটি বলেন, “সবকিছু তো প্রমাণিত। তারপরও এতদিনেও বিচার শেষ হলো না। আমরা এখনো অপেক্ষা করছি—কেউ না কেউ তো উদ্যোগ নেবে।”
নিহত তাজুল ইসলামের বাবা আবুল খায়েরও একই হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “জীবদ্দশায় বিচার দেখে যেতে পারবো কিনা, সেইটাও সন্দেহ।”
২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত এ মামলায় সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন ও র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ২৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে ২০১৮ সালের আগস্টে উচ্চ আদালত ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, নিহত নজরুল ইসলামের সঙ্গে দণ্ডিত নূর হোসেনের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ছিল। নাসিকের দুই কাউন্সিলরের এই বিরোধ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়।
এদিকে, মামলাটি এখনো শুনানির অপেক্ষায় আছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ জাকির। তিনি বলেন, “আপিল বিভাগে প্রক্রিয়া শেষ হলেও পরবর্তীতে ‘লিভ টু আপিল’ পর্যায়ে বিষয়টি আটকে আছে। আমরা দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা করছি।”
তবে এই চেষ্টার মধ্য দিয়েই বিচারের দীর্ঘ প্রতীক্ষায় দিন গুনছে রোজার মতো আরও কয়েকটি পরিবার যাদের কাছে ন্যায়বিচার এখনো অধরাই রয়ে গেছে।
সংবাদ শিরোনাম ::
বাবার স্মৃতি শুধুই ছবি
হকার ঠেকাতে রাজপথে থাকার ঘোষণা
হকারমুক্ত রাখতে অভিযান
ভুয়া ব্র্যান্ডের তেল মোড়কজাতকরণে জরিমানা
খোরশেদের ঠান্ডা পানি ও শসা বিতরণ
সাখাওয়াতই পাবেন সমর্থন
ধান্ধার জন্য ব্রিজটি হতে দিতে চায় না—-দিপু ভূঁইয়া
মাদক ব্যাবসায়ীর গ্যারেজে আশার তালা
বিচারের অপেক্ষায় এক যুগ
গাজী টিম্বারকে জরিমানা
বাবার স্মৃতি শুধুই ছবি
-
ডেস্ক : - আপডেট সময় এক ঘন্টা আগে
- ০ বার পড়া হয়েছে
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ
সর্বশেষ নিউজ




















