চাঁদাবাজির অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়ার পর মুক্তি পেলেও রাজনৈতিকভাবে বড় ধাক্কা খেলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে ও নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজীব। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও এরই মধ্যে দলীয় পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ হারিয়েছেন তিনি। ফলে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
রোববার দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকার একটি বাসা থেকে ডিবি পুলিশের সহযোগিতায় সজীবকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে বিকেল ৫টার দিকে তাকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আনা হয়। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অধিকতর তদন্তের জন্য ঢাকার ডিবি কার্যালয়ে পাঠানো হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের বিষয়ে তথ্য যাচাইয়ের জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং তিনি নিজ বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদের মধ্যেই সজীবের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয় কেন্দ্রীয় যুবদল। রোববার রাতেই সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে তাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভিন্ন অনিয়ম ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এমপির সিদ্ধান্তক্রমে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বহিষ্কৃত নেতার কোনো কর্মকাণ্ডের দায় সংগঠন নেবে না বলেও উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় সোনারগাঁ ও নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ঘটনাটি শুধু সজীবের জন্য নয়, তার পিতা সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের রাজনৈতিক অবস্থানের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে চাঁদাবাজি ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিতে গিয়ে দলীয়ভাবেও কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করেছেন খাইরুল ইসলাম সজীব। মুক্ত হওয়ার পর দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, তার রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
সজীবের ভাষ্য, “আমার বিরুদ্ধে যে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। একটি চক্র রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় করার জন্য এই নাটক সাজিয়েছে। তদন্তে সত্য প্রকাশ পেয়েছে এবং অভিযোগের কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি।”
তিনি গণমাধ্যমের প্রতিও আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো পক্ষের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভ্রান্ত না হয়ে প্রকৃত সত্য তুলে ধরা সাংবাদিকদের দায়িত্ব। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে জারি করা বহিষ্কারাদেশ পুনর্বিবেচনারও দাবি জানান তিনি।
এদিকে সোনারগাঁয়ের কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীও দাবি করেছেন, অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া সজীবের বিরুদ্ধে নেওয়া সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
সব মিলিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মুক্তি পেলেও দলীয় পদ হারানো, রাজনৈতিক বিতর্ক এবং জনমনে তৈরি হওয়া প্রশ্নের কারণে সজীব এখন সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন :