নারায়ণগঞ্জের বন্দরে অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জোনাল বিক্রয় অফিস-বন্দর-এর উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে তিনটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ সময় একটি কয়েল কারখানাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হলেও দুটি চুন কারখানার মালিককে ঘটনাস্থলে না পাওয়ায় কোনো জরিমানা বা মামলা করা সম্ভব হয়নি।
অভিযানে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজ সুহা তাবিল নেতৃত্ব দেন।
প্রথমে মদনপুরের লাউসার এলাকায় হাফেজ ক্যালসিয়ামের পেছনে অবস্থিত দুই ভাট্টিবিশিষ্ট একটি চুন কারখানায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৪ হাজার ঘনফুট সক্ষমতার অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছিল। অভিযানকালে প্রায় ৩০০ ফুট ২ ইঞ্চি প্লাস্টিক হোস পাইপ, প্রায় ১০০ ফুট ১.৫ ইঞ্চি পাইপ, একটি ভাল্ব এবং তিনটি বেলচা জব্দ করা হয়। তবে কারখানার মালিককে ঘটনাস্থলে না পাওয়ায় কোনো জরিমানা করা সম্ভব হয়নি। পরে অবৈধ গ্যাস সংযোগের উৎস বিচ্ছিন্ন করা হয়।
একইভাবে মদনপুরের হরিপুর এলাকায় সালমা খাতুনের বাড়ির পেছনে অবস্থিত এক ভাট্টিবিশিষ্ট আরেকটি চুন কারখানায় অভিযান চালিয়ে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২ হাজার ঘনফুট সক্ষমতার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। তবে ওই কারখানার মালিকও অনুপস্থিত থাকায় সেখানে কোনো জরিমানা বা মামলা করা হয়নি।
অভিযানের তৃতীয় ধাপে ঢাকেশ্বরী এলাকার সোনাছড়া এলাকায় অবস্থিত একটি কয়েল কারখানায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহারের দায়ে কারখানাটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ৫০ ফুট এমএস পাইপ ও একটি রেগুলেটর অপসারণ করা হয় এবং অবৈধ গ্যাস সংযোগের উৎস বিচ্ছিন্ন করা হয়।
বন্দর জোনাল বিক্রয় অফিসের ব্যবস্থাপক জাহিন আমীর খান জানান, প্রথম ও দ্বিতীয় অভিযানের স্থানে রাস্তা সরু হওয়ায় এক্সকাভেটর প্রবেশ করতে পারেনি। ফলে শ্রমিকদের মাধ্যমে চুন কারখানার অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়। এছাড়া প্রথম অভিযানে উদ্ধার হওয়া আনুমানিক ২০ বস্তা অবৈধ চুন পানি দিয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :