ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অদম্য রাহাতে পাশে জেলা পরিষদ

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ২ ঘন্টা আগে
  • ০ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার
শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনোই থামাতে পারেনি তার স্বপ্নের পথচলা। অদম্য সাহস আর অটুট ইচ্ছাশক্তিকে সঙ্গী করে এগিয়ে চলা এক তরুণের নাম রাহাত। ছোটবেলায় পোলিওতে আক্রান্ত হয়ে হারিয়েছেন হাঁটার শক্তি, কিন্তু জীবনের প্রতি তার দৃঢ়তা ও লড়াইয়ের মানসিকতা তাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। প্রতিটি পদক্ষেপে বাধা থাকলেও সেই বাধাকেই জয় করে আজ তিনি ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
ফতুল্লার একটি সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা রাহাতের জন্য প্রতিদিন কলেজে যাওয়া ছিল এক কঠিন সংগ্রাম। বাসা থেকে কলেজের দূরত্ব, উপযুক্ত যাতায়াতের অভাব- সবকিছু মিলিয়ে তাকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হতো। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম এলেই সেই কষ্ট কয়েকগুণ বেড়ে যেত। কাদামাটি, জলাবদ্ধতা আর দুর্ভোগের মধ্য দিয়েই তাকে ছুটে যেতে হতো স্বপ্নের ঠিকানায়। তবুও থেমে যাননি তিনি, হার মানেননি কোনো প্রতিকূলতার কাছে।
এই সংগ্রামী শিক্ষার্থীর কষ্ট লাঘবে অবশেষে সহায়তার হাত বাড়িয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ। তার শিক্ষা জীবনকে আরও সহজ ও নির্বিঘ্ন করতে তাকে প্রদান করা হয়েছে একটি বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল। এখন এই বাহনই হবে তার পথচলার নতুন সঙ্গী- যার মাধ্যমে তিনি সহজেই কলেজে যাতায়াত করতে পারবেন, পাশাপাশি নিজের প্রয়োজনীয় কাজগুলোও স্বাচ্ছন্দ্যে সম্পন্ন করতে পারবেন।
বুধবার বিকেলে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে রাহাতের হাতে মোটরসাইকেল বাবদ অনুদানের চেক তুলে দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মামুন মাহমুদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও।
অনুদান পেয়ে আবেগাপ্লুত রাহাত বলেন, “পঙ্গুত্ব কখনো আমার স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। কলেজে ওঠার পর থেকেই একটি উপযুক্ত বাহনের অভাব খুব বেশি অনুভব করতাম। অনেক কষ্ট করে যাতায়াত করতে হতো। আজ জেলা পরিষদ আমাকে যে সহযোগিতা করেছে, তা আমার জীবনের পথকে অনেক সহজ করে দিল। আমি তাদের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।”
জেলা পরিষদের প্রশাসক মামুন মাহমুদ বলেন, “রাহাতের মতো একজন সংগ্রামী শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়াতে পেরে আমরা সত্যিই আনন্দিত। তার মতো তরুণরা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। আমরা চাই, কোনো শারীরিক সীমাবদ্ধতা যেন কারও শিক্ষা জীবনের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা জেলা পরিষদকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাচ্ছি, এটি তারই একটি অংশ।”
রাহাতের এই গল্প শুধু একজন শিক্ষার্থীর নয়, এটি অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক জীবন্ত উদাহরণ। প্রতিকূলতার দেয়াল ভেঙে যে স্বপ্ন দেখা যায়, তারই বাস্তব প্রতিচ্ছবি তিনি। আর সমাজ ও রাষ্ট্রের সামান্য সহায়তা যে একজন মানুষের জীবনকে কতটা বদলে দিতে পারে, রাহাত তারই উজ্জ্বল প্রমাণ।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

অদম্য রাহাতে পাশে জেলা পরিষদ

আপডেট সময় ২ ঘন্টা আগে

স্টাফ রিপোর্টার
শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনোই থামাতে পারেনি তার স্বপ্নের পথচলা। অদম্য সাহস আর অটুট ইচ্ছাশক্তিকে সঙ্গী করে এগিয়ে চলা এক তরুণের নাম রাহাত। ছোটবেলায় পোলিওতে আক্রান্ত হয়ে হারিয়েছেন হাঁটার শক্তি, কিন্তু জীবনের প্রতি তার দৃঢ়তা ও লড়াইয়ের মানসিকতা তাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। প্রতিটি পদক্ষেপে বাধা থাকলেও সেই বাধাকেই জয় করে আজ তিনি ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
ফতুল্লার একটি সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা রাহাতের জন্য প্রতিদিন কলেজে যাওয়া ছিল এক কঠিন সংগ্রাম। বাসা থেকে কলেজের দূরত্ব, উপযুক্ত যাতায়াতের অভাব- সবকিছু মিলিয়ে তাকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হতো। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম এলেই সেই কষ্ট কয়েকগুণ বেড়ে যেত। কাদামাটি, জলাবদ্ধতা আর দুর্ভোগের মধ্য দিয়েই তাকে ছুটে যেতে হতো স্বপ্নের ঠিকানায়। তবুও থেমে যাননি তিনি, হার মানেননি কোনো প্রতিকূলতার কাছে।
এই সংগ্রামী শিক্ষার্থীর কষ্ট লাঘবে অবশেষে সহায়তার হাত বাড়িয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ। তার শিক্ষা জীবনকে আরও সহজ ও নির্বিঘ্ন করতে তাকে প্রদান করা হয়েছে একটি বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল। এখন এই বাহনই হবে তার পথচলার নতুন সঙ্গী- যার মাধ্যমে তিনি সহজেই কলেজে যাতায়াত করতে পারবেন, পাশাপাশি নিজের প্রয়োজনীয় কাজগুলোও স্বাচ্ছন্দ্যে সম্পন্ন করতে পারবেন।
বুধবার বিকেলে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে রাহাতের হাতে মোটরসাইকেল বাবদ অনুদানের চেক তুলে দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মামুন মাহমুদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও।
অনুদান পেয়ে আবেগাপ্লুত রাহাত বলেন, “পঙ্গুত্ব কখনো আমার স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। কলেজে ওঠার পর থেকেই একটি উপযুক্ত বাহনের অভাব খুব বেশি অনুভব করতাম। অনেক কষ্ট করে যাতায়াত করতে হতো। আজ জেলা পরিষদ আমাকে যে সহযোগিতা করেছে, তা আমার জীবনের পথকে অনেক সহজ করে দিল। আমি তাদের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।”
জেলা পরিষদের প্রশাসক মামুন মাহমুদ বলেন, “রাহাতের মতো একজন সংগ্রামী শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়াতে পেরে আমরা সত্যিই আনন্দিত। তার মতো তরুণরা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। আমরা চাই, কোনো শারীরিক সীমাবদ্ধতা যেন কারও শিক্ষা জীবনের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা জেলা পরিষদকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাচ্ছি, এটি তারই একটি অংশ।”
রাহাতের এই গল্প শুধু একজন শিক্ষার্থীর নয়, এটি অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক জীবন্ত উদাহরণ। প্রতিকূলতার দেয়াল ভেঙে যে স্বপ্ন দেখা যায়, তারই বাস্তব প্রতিচ্ছবি তিনি। আর সমাজ ও রাষ্ট্রের সামান্য সহায়তা যে একজন মানুষের জীবনকে কতটা বদলে দিতে পারে, রাহাত তারই উজ্জ্বল প্রমাণ।