ঢাকা , শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আন্ডা রফিক এলাকায়, কায়েতপাড়ায় আতঙ্ক

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ৪ ঘন্টা আগে
  • ০ বার পড়া হয়েছে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
এক সময় বাবার সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ডিম বিক্রি করতেন তিনি, এলাকাবাসীর কাছে পরিচিত ছিলেন ‘আন্ডা রফিক’ নামে। সেই সাধারণ ডিম বিক্রেতা থেকে জালিয়াতি ও পেশিশক্তির জোরে রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক আজ শত শত কোটি টাকার মালিক। তবে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বেরিয়ে আসছে তার সাম্রাজ্য বিস্তারের রোমহর্ষক সব কাহিনী।
ক্ষমতার দাপট ও উত্থান অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৬ সালে সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন রফিক। এরপর থেকেই তার প্রভাব বলয় বাড়তে থাকে। গড়ে তোলেন ‘রংধনু গ্রুপ’ নামক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও শামীম ওসমানের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে তিনি রূপগঞ্জে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেন।
জমি দখল ও প্রতারণার জাল কায়েতপাড়ার নিরীহ মানুষ ও বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের জমি দখল করে আবাসন কোম্পানির কাছে বিক্রি করাই ছিল তার আয়ের মূল উৎস। ভুয়া দলিল তৈরি এবং একই জমি একাধিকবার বিক্রির মাধ্যমে তিনি হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বিশেষ করে ২০২২ সালে ‘পুলিশ অফিসার্স বহুমুখী সমবায় সমিতি’র কাছে সাড়ে সাত একর জমি বিক্রির পর একই বছরের জুনে সেই জমির একাংশ পুনরায় ‘ইস্ট ওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট এর কাছে বিক্রি করে বড় ধরনের জালিয়াতি করেন।
অর্থ পাচার ও বর্তমান অবস্থা শুধু জমি দখলই নয়, বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ভুয়া কার্যাদেশ দেখিয়ে শত শত কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ উঠেছে রফিকের বিরুদ্ধে। তদন্তে উঠে এসেছে, তিনি ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র অ্যান্টিগুয়া এবং বারবুডায় বিশাল বিনিয়োগ করে নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন।
বর্তমানে সিআইডি তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা করেছে। আদালতের নির্দেশে তার ১৩টি ব্যাংক হিসাবের প্রায় ১৭ কোটি টাকা এবং যমুনা ফিউচার পার্কে থাকা এক লাখ বর্গফুটের বিশাল বাণিজ্যিক স্পেস ক্রোক করা হয়েছে। সরকার পতনের পর রফিক দেশ ছাড়ার পর এলাকার মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসলেও বর্তমানে পুলিশ পাহানায় এলাকায় আসার খবরে এলাকায় ফেরার গুঞ্জনে এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অতি দ্রুত এই ভূমিদস্যুকে আইনের আওতায় এনে সাধারণ মানুষের জমি ও অর্থ ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
রূপগঞ্জ থানার ওসি সাবজেল হোসেন ও এডিশনাল এসপি মেহেদী বলেন এ বিষয় আমরা অবগত নই, তবে ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামী এভাবে স্বাধীন ভাবে ঘুরতে দিবো না, যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আন্ডা রফিক এলাকায়, কায়েতপাড়ায় আতঙ্ক

আপডেট সময় ৪ ঘন্টা আগে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
এক সময় বাবার সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ডিম বিক্রি করতেন তিনি, এলাকাবাসীর কাছে পরিচিত ছিলেন ‘আন্ডা রফিক’ নামে। সেই সাধারণ ডিম বিক্রেতা থেকে জালিয়াতি ও পেশিশক্তির জোরে রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক আজ শত শত কোটি টাকার মালিক। তবে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বেরিয়ে আসছে তার সাম্রাজ্য বিস্তারের রোমহর্ষক সব কাহিনী।
ক্ষমতার দাপট ও উত্থান অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৬ সালে সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন রফিক। এরপর থেকেই তার প্রভাব বলয় বাড়তে থাকে। গড়ে তোলেন ‘রংধনু গ্রুপ’ নামক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও শামীম ওসমানের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে তিনি রূপগঞ্জে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেন।
জমি দখল ও প্রতারণার জাল কায়েতপাড়ার নিরীহ মানুষ ও বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের জমি দখল করে আবাসন কোম্পানির কাছে বিক্রি করাই ছিল তার আয়ের মূল উৎস। ভুয়া দলিল তৈরি এবং একই জমি একাধিকবার বিক্রির মাধ্যমে তিনি হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বিশেষ করে ২০২২ সালে ‘পুলিশ অফিসার্স বহুমুখী সমবায় সমিতি’র কাছে সাড়ে সাত একর জমি বিক্রির পর একই বছরের জুনে সেই জমির একাংশ পুনরায় ‘ইস্ট ওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট এর কাছে বিক্রি করে বড় ধরনের জালিয়াতি করেন।
অর্থ পাচার ও বর্তমান অবস্থা শুধু জমি দখলই নয়, বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ভুয়া কার্যাদেশ দেখিয়ে শত শত কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ উঠেছে রফিকের বিরুদ্ধে। তদন্তে উঠে এসেছে, তিনি ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র অ্যান্টিগুয়া এবং বারবুডায় বিশাল বিনিয়োগ করে নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন।
বর্তমানে সিআইডি তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা করেছে। আদালতের নির্দেশে তার ১৩টি ব্যাংক হিসাবের প্রায় ১৭ কোটি টাকা এবং যমুনা ফিউচার পার্কে থাকা এক লাখ বর্গফুটের বিশাল বাণিজ্যিক স্পেস ক্রোক করা হয়েছে। সরকার পতনের পর রফিক দেশ ছাড়ার পর এলাকার মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসলেও বর্তমানে পুলিশ পাহানায় এলাকায় আসার খবরে এলাকায় ফেরার গুঞ্জনে এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অতি দ্রুত এই ভূমিদস্যুকে আইনের আওতায় এনে সাধারণ মানুষের জমি ও অর্থ ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
রূপগঞ্জ থানার ওসি সাবজেল হোসেন ও এডিশনাল এসপি মেহেদী বলেন এ বিষয় আমরা অবগত নই, তবে ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামী এভাবে স্বাধীন ভাবে ঘুরতে দিবো না, যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।