সোজাসাপটা রিপোর্ট
রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের গ্রেফতার হওয়া নেতাকর্মীদের মধ্যে জামিনের আশা জেগেছে। অনেকেই ইতোমধ্যে আদালতে জামিনের আবেদন করেছেন, কেউ কেউ জামিনও পেয়েছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির শীর্ষ নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যসহ হাজার হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে মামলা হয়। এসব মামলায় অনেকে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন, আবার অনেকে আত্মগোপনে রয়েছেন।
দলের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতা বিদেশে পালিয়ে গেছেন।
নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর কারাগারে থাকা নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। ইতোমধ্যে অনেকে জামিনে মুক্ত হয়েছেন। তবে একাধিক মামলায় আসামি হওয়ায় অনেকেই একটি মামলায় জামিন পেলেও অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখানোয় মুক্তি পাচ্ছেন না।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী জামিনের আবেদন করেছেন। কারাগারের বাইরেও এমন অনেক নেতা রয়েছেন, যাদের নামে মামলা থাকায় তারাও জামিনের জন্য আইনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকায় জামিন প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়েছে।
সূত্রগুলো জানায়, নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক সহিংসতা, হামলা, ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগই বেশি।
অনেক ক্ষেত্রে একই ঘটনায় একাধিক মামলা হয়েছে, যেখানে একই ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। ফলে একজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ৫ থেকে ১০টি, এমনকি ২০টির বেশি মামলাও রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, “অনেকে জামিনের আবেদন করেছেন, কেউ কেউ জামিনও পেয়েছেন। কিন্তু একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পরই অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে। ফলে মুক্তি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।”
জেলা পর্যায়েও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় আদালতগুলোতে নিয়মিত জামিন আবেদন জমা পড়ছে। তবে মামলার সংখ্যা বেশি এবং অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন, ফলে অনেক ক্ষেত্রে সময় লাগছে।
সম্প্রতি কয়েকজন আলোচিত নেতাও জামিন পেয়েছেন। বরিশাল-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ, বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন এবং যুবলীগ নেতা মাহমুদুল হক খান মামুন জামিন পেয়েছেন। এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুসও জামিন পেয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকেও পাঁচটি মামলায় ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়া রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু এবং সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক জামিন পেলেও অন্যান্য মামলায় আটক থাকায় তারা এখনো মুক্ত হতে পারেননি।
দলীয় সূত্র বলছে, আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি আওয়ামী লীগের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য বিভিন্ন জেলায় আইনজীবীদের সমন্বয়ে প্যানেল গঠন করা হয়েছে, যারা মামলাগুলো পরিচালনা করছেন।
তবে দলটির নেতারা মনে করছেন, জামিন প্রক্রিয়া অনেকটাই বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ক্ষমতাসীন বিএনপির অবস্থানের ওপর নির্ভর করছে। যদিও নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় কিছুটা স্বস্তি এসেছে, তবুও দলটি এখনো স্বাভাবিক রাজনীতিতে পুরোপুরি ফিরতে পারেনি। নিরাপত্তা শঙ্কাও রয়ে গেছে।
এই পরিস্থিতিতে আটক নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ এখন আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই মুক্তি মিলবে-এমন আশায় রয়েছেন তারা।
সংবাদ শিরোনাম ::
ঘুষের লেনদেনকে কেন্দ্র করে পুলিশ কর্মকর্তা অবরুদ্ধ
বিএনপি সভাপতির অবৈধ গ্যাস সংযোগ
থানা থেকে পালালো আসামি!
জেলা পুলিশের অপরাধ পর্যালোচনা সভা
শিশু হত্যা মামলায় যুবকের মৃত্যুদন্ড
ফুরিয়েছে হাম, পোলিওসহ ৬ টিকার মজুত
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে উচ্ছেদ অভিযান
গাড়ি থামিয়ে বঞ্চিত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা
চালক দল’ নামে চাঁদাবাজি
জামিনের অপেক্ষায় আ. লীগের নেতা-কর্মীরা
জামিনের অপেক্ষায় আ. লীগের নেতা-কর্মীরা
-
ডেস্ক : - আপডেট সময় ৩ ঘন্টা আগে
- ০ বার পড়া হয়েছে
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ
সর্বশেষ নিউজ















