ঢাকা , বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আসামির রিমান্ড শুনানি হয়নি

গুমের পর হত্যার অভিযোগ (রিভার্স)

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ৫ ঘন্টা আগে
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় চাঞ্চল্যকর অপহরণ ও হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত এক আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেছে পুলিশ।
সোমবার (৭ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ আবেদন করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক কাইয়ুম খান জানান, আসামিকে কোর্টে আনা হলেও রিমান্ড শুনানি হয়নি৷ পরবর্তীতে রিমান্ড শুনানি হবে।
এর আগে শুভ হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামী আল আমিন ইসলাম শুভ ওরফে লাল শুভকে (২৪) গত ৬ এপ্রিল রাতে র‌্যাব-১১ এর সহযোগিতায় নীলফামারী জেলা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এঘটনায় প্রধান আসামি রানা এখনও গ্রেপ্তার হননি।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, নিহত শুভ (২১) পূর্বে এসি মেকার হিসেবে কাজ করতেন। তবে গত কয়েক মাস ধরে তিনি স্থানীয় কিছু বখাটে যুবকের সঙ্গে মিশে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে বিরোধও চলছিল।
ঘটনার প্রায় দুই থেকে তিন সপ্তাহ আগে প্রধান আসামী রানার সঙ্গে নিহত শুভর বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে তাকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ২৯ মার্চ বিকেলে নিহত শুভ সিদ্ধিরগঞ্জে তার শ্বশুরবাড়িতে যান। সেদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে এক আসামীর ফোন পেয়ে তিনি ফতুল্লার পূর্ব ইসদাইর রেললাইন এলাকায় যান। সন্ধ্যা ৬টার দিকে সেখানে পৌঁছালে গ্রেফতারকৃত আসামীসহ অন্যান্যরা তাকে ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর করে।
পুলিশ জানায়, মারধরের একপর্যায়ে শুভ গুরুতর আহত হয়ে পড়লে তাকে একটি অটোরিকশায় তুলে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় প্রধান আসামী রানা নিহতের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে ৩০ মার্চ রূপগঞ্জ থানাধীন কাঞ্চন এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দাফন করা হয়। পরে নিহতের পরিবার ছবি দেখে মরদেহটি শুভর বলে শনাক্ত করে।
এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে গ্রেফতারকৃত আসামীকে নীলফামারী থেকে আটক করা হয়।
পুলিশের আবেদনে বলা হয়, গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আসামী ঘটনার বিষয়ে অসংলগ্ন ও পরস্পরবিরোধী তথ্য দিচ্ছে। মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, পলাতক আসামীদের সনাক্ত ও গ্রেফতার, এবং নিহতের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের জন্য আসামীকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আসামির রিমান্ড শুনানি হয়নি

গুমের পর হত্যার অভিযোগ (রিভার্স)

আপডেট সময় ৫ ঘন্টা আগে

স্টাফ রিপোর্টার
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় চাঞ্চল্যকর অপহরণ ও হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত এক আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেছে পুলিশ।
সোমবার (৭ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ আবেদন করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক কাইয়ুম খান জানান, আসামিকে কোর্টে আনা হলেও রিমান্ড শুনানি হয়নি৷ পরবর্তীতে রিমান্ড শুনানি হবে।
এর আগে শুভ হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামী আল আমিন ইসলাম শুভ ওরফে লাল শুভকে (২৪) গত ৬ এপ্রিল রাতে র‌্যাব-১১ এর সহযোগিতায় নীলফামারী জেলা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এঘটনায় প্রধান আসামি রানা এখনও গ্রেপ্তার হননি।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, নিহত শুভ (২১) পূর্বে এসি মেকার হিসেবে কাজ করতেন। তবে গত কয়েক মাস ধরে তিনি স্থানীয় কিছু বখাটে যুবকের সঙ্গে মিশে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে বিরোধও চলছিল।
ঘটনার প্রায় দুই থেকে তিন সপ্তাহ আগে প্রধান আসামী রানার সঙ্গে নিহত শুভর বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে তাকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ২৯ মার্চ বিকেলে নিহত শুভ সিদ্ধিরগঞ্জে তার শ্বশুরবাড়িতে যান। সেদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে এক আসামীর ফোন পেয়ে তিনি ফতুল্লার পূর্ব ইসদাইর রেললাইন এলাকায় যান। সন্ধ্যা ৬টার দিকে সেখানে পৌঁছালে গ্রেফতারকৃত আসামীসহ অন্যান্যরা তাকে ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর করে।
পুলিশ জানায়, মারধরের একপর্যায়ে শুভ গুরুতর আহত হয়ে পড়লে তাকে একটি অটোরিকশায় তুলে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় প্রধান আসামী রানা নিহতের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে ৩০ মার্চ রূপগঞ্জ থানাধীন কাঞ্চন এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দাফন করা হয়। পরে নিহতের পরিবার ছবি দেখে মরদেহটি শুভর বলে শনাক্ত করে।
এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে গ্রেফতারকৃত আসামীকে নীলফামারী থেকে আটক করা হয়।
পুলিশের আবেদনে বলা হয়, গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আসামী ঘটনার বিষয়ে অসংলগ্ন ও পরস্পরবিরোধী তথ্য দিচ্ছে। মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, পলাতক আসামীদের সনাক্ত ও গ্রেফতার, এবং নিহতের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের জন্য আসামীকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।