ঢাকা , শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিরো বাঁশি বাজাচ্ছিলেন, ট্রাম্প দেখছিলেন কুস্তি

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ১১:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার
১৯৬০ বছর আগের কথা, ‘রোম পুড়ছিল আর নিরো বাঁশি বাজাচ্ছিলেন’। ঘটনাটি সত্য নাকি রূপক, সেটি নিয়ে তর্ক হতে পারে।
কিন্তু ২০২৬ সালের এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন মায়ামির একটি ইউএফসি অ্যারেনায় মিক্সড মার্শাল আর্টসের উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই উপভোগ করছিলেন, বিষয়টি নিরোর সেই বাঁশি বাজানোর ঘটনাটি মনে করিয়ে দেয়।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তানে দাঁড়িয়ে যখন ঘোষণা দেন, দুঃসংবাদ হলো, ইরান যুদ্ধ অবসানের কোনো চুক্তিতেই পৌঁছানো যায়নি।
ঠিক সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সময় কাটাচ্ছিলেন মায়ামিতে। উপভোগ করছিলেন ইউএফসি অ্যারেনার মিক্সড মার্শাল আর্টসের লড়াই।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যায় মায়ামির সেই ভেন্যুতে কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করেন ট্রাম্প। মায়ামির সেই অন্ধকার-আলো মেশানো অ্যারেনায় তিনি বড় স্ক্রিনে লড়াইয়ের মুহূর্তগুলো দেখছিলেন।
তার পাশে ছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, পরিবারের সদস্যরা, ইউএফসি কর্মকর্তারা, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর, সংগীতশিল্পী ভ্যানিলা আইস, সাবেক এফবিআই কর্মকর্তা ড্যান বনজিনো এবং পডকাস্টার জো রোগানসহ বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ।
দর্শকদের ভিড়ের মাঝেও তাকে অনেকটা আলাদা মনে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। চারপাশের মানুষজন মাঝে মাঝে তার কাছে এসে সংক্ষিপ্ত আপডেট দিয়ে আবার সরে যাচ্ছিলেন, কিন্তু ট্রাম্প নিজে বেশিরভাগ সময়ই নীরব ও স্থির ছিলেন, চোখ ছিল কেবল লড়াইয়ের দিকেই।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অ্যারেনায় প্রবেশের সময় ইরান ইস্যুতে চলমান আলোচনা ব্যর্থতার খবর তিনি পুরোপুরি জানতেন কি না, তা পরিষ্কার নয়। তিনি তখন ফোন ব্যবহার করেননি। এক পর্যায়ে মার্কো রুবিও তাকে নিজের ফোন দেখান বলে জানা গেছে। তবে পুরো সময়জুড়ে ট্রাম্পের আচরণে কোনো স্পষ্ট উদ্বেগ বা উত্তেজনার ছাপ দেখা যায়নি।
বরং এক পর্যায়ে ক্যামেরার দিকে হালকা হাসি এবং বিজয়ীদের উদ্দেশে থাম্বস আপ দিতে দেখা যায় তাকে। এর আগেই ফ্লোরিডার পথে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, চুক্তি হোক বা না হোক, তাতে তার খুব একটা কিছু আসে যায় না। তিনি দাবি করেন, আমরাই জিতেছি, যেভাবেই হোক।
অন্যদিকে ওয়াশিংটনে তখন জমে উঠছিল ভিন্ন এক চাপের পরিস্থিতি। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে প্রশাসনের ওপর সমালোচনা বাড়ছিল। ইরান নিয়ে কঠোর অবস্থান এবং সামরিক উত্তেজনা তৈরির দায়ও অনেকেই ট্রাম্পের ওপর চাপাচ্ছিলেন।
ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি কিছু রিপাবলিকান সমর্থকের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দেয়। কংগ্রেসে তার বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের দাবি ওঠে এবং তার মানসিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন অনেকে।
তবে এসব রাজনৈতিক চাপ ও বিতর্ক থেকে অনেকটা দূরে, মায়ামির সেই অ্যারেনায় ট্রাম্পকে দেখা গেছে ভিন্ন এক আবহে। দর্শকদের উচ্ছ্বাস, আক্রমণাত্মক লড়াই আর আলোর ঝলকানির মধ্যে তিনি যেন কিছু সময়ের জন্য বাইরের বাস্তবতা থেকে আলাদা এক জগতে ছিলেন।
একটির পর একটি লড়াই চলছিল, খাঁচার ভেতরে তীব্র সংঘর্ষ, রক্ত আর উত্তেজনার মুহূর্তে ভরা পুরো আয়োজন। সবকিছুর মাঝেই ট্রাম্প ছিলেন মনোযোগী দর্শক।
সেই সময় তার পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প ও টিফানি ট্রাম্প, ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র এবং তার সঙ্গী বেটিনা অ্যান্ডারসন সেখানে ছিলেন। তবে পাকিস্তানে জেডি ভ্যান্সের সফরের কারণে ইভাঙ্কার স্বামী জ্যারেড কুশনার উপস্থিত ছিলেন না।
রাজনৈতিক অস্থিরতা, কূটনৈতিক ব্যর্থতা আর অভ্যন্তরীণ চাপের খবর যখন একের পর এক সামনে আসছিল, তখন মায়ামির সেই আলো ঝলমলে অ্যারেনায় ট্রাম্পের উপস্থিতি তৈরি করেছিল এক ভিন্ন চিত্র, যেখানে বাস্তবতার ভার যেন কিছুক্ষণের জন্য দূরে সরে গিয়েছিল।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

নিরো বাঁশি বাজাচ্ছিলেন, ট্রাম্প দেখছিলেন কুস্তি

আপডেট সময় ১১:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার
১৯৬০ বছর আগের কথা, ‘রোম পুড়ছিল আর নিরো বাঁশি বাজাচ্ছিলেন’। ঘটনাটি সত্য নাকি রূপক, সেটি নিয়ে তর্ক হতে পারে।
কিন্তু ২০২৬ সালের এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন মায়ামির একটি ইউএফসি অ্যারেনায় মিক্সড মার্শাল আর্টসের উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই উপভোগ করছিলেন, বিষয়টি নিরোর সেই বাঁশি বাজানোর ঘটনাটি মনে করিয়ে দেয়।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তানে দাঁড়িয়ে যখন ঘোষণা দেন, দুঃসংবাদ হলো, ইরান যুদ্ধ অবসানের কোনো চুক্তিতেই পৌঁছানো যায়নি।
ঠিক সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সময় কাটাচ্ছিলেন মায়ামিতে। উপভোগ করছিলেন ইউএফসি অ্যারেনার মিক্সড মার্শাল আর্টসের লড়াই।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যায় মায়ামির সেই ভেন্যুতে কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করেন ট্রাম্প। মায়ামির সেই অন্ধকার-আলো মেশানো অ্যারেনায় তিনি বড় স্ক্রিনে লড়াইয়ের মুহূর্তগুলো দেখছিলেন।
তার পাশে ছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, পরিবারের সদস্যরা, ইউএফসি কর্মকর্তারা, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর, সংগীতশিল্পী ভ্যানিলা আইস, সাবেক এফবিআই কর্মকর্তা ড্যান বনজিনো এবং পডকাস্টার জো রোগানসহ বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ।
দর্শকদের ভিড়ের মাঝেও তাকে অনেকটা আলাদা মনে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। চারপাশের মানুষজন মাঝে মাঝে তার কাছে এসে সংক্ষিপ্ত আপডেট দিয়ে আবার সরে যাচ্ছিলেন, কিন্তু ট্রাম্প নিজে বেশিরভাগ সময়ই নীরব ও স্থির ছিলেন, চোখ ছিল কেবল লড়াইয়ের দিকেই।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অ্যারেনায় প্রবেশের সময় ইরান ইস্যুতে চলমান আলোচনা ব্যর্থতার খবর তিনি পুরোপুরি জানতেন কি না, তা পরিষ্কার নয়। তিনি তখন ফোন ব্যবহার করেননি। এক পর্যায়ে মার্কো রুবিও তাকে নিজের ফোন দেখান বলে জানা গেছে। তবে পুরো সময়জুড়ে ট্রাম্পের আচরণে কোনো স্পষ্ট উদ্বেগ বা উত্তেজনার ছাপ দেখা যায়নি।
বরং এক পর্যায়ে ক্যামেরার দিকে হালকা হাসি এবং বিজয়ীদের উদ্দেশে থাম্বস আপ দিতে দেখা যায় তাকে। এর আগেই ফ্লোরিডার পথে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, চুক্তি হোক বা না হোক, তাতে তার খুব একটা কিছু আসে যায় না। তিনি দাবি করেন, আমরাই জিতেছি, যেভাবেই হোক।
অন্যদিকে ওয়াশিংটনে তখন জমে উঠছিল ভিন্ন এক চাপের পরিস্থিতি। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে প্রশাসনের ওপর সমালোচনা বাড়ছিল। ইরান নিয়ে কঠোর অবস্থান এবং সামরিক উত্তেজনা তৈরির দায়ও অনেকেই ট্রাম্পের ওপর চাপাচ্ছিলেন।
ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি কিছু রিপাবলিকান সমর্থকের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দেয়। কংগ্রেসে তার বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের দাবি ওঠে এবং তার মানসিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন অনেকে।
তবে এসব রাজনৈতিক চাপ ও বিতর্ক থেকে অনেকটা দূরে, মায়ামির সেই অ্যারেনায় ট্রাম্পকে দেখা গেছে ভিন্ন এক আবহে। দর্শকদের উচ্ছ্বাস, আক্রমণাত্মক লড়াই আর আলোর ঝলকানির মধ্যে তিনি যেন কিছু সময়ের জন্য বাইরের বাস্তবতা থেকে আলাদা এক জগতে ছিলেন।
একটির পর একটি লড়াই চলছিল, খাঁচার ভেতরে তীব্র সংঘর্ষ, রক্ত আর উত্তেজনার মুহূর্তে ভরা পুরো আয়োজন। সবকিছুর মাঝেই ট্রাম্প ছিলেন মনোযোগী দর্শক।
সেই সময় তার পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প ও টিফানি ট্রাম্প, ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র এবং তার সঙ্গী বেটিনা অ্যান্ডারসন সেখানে ছিলেন। তবে পাকিস্তানে জেডি ভ্যান্সের সফরের কারণে ইভাঙ্কার স্বামী জ্যারেড কুশনার উপস্থিত ছিলেন না।
রাজনৈতিক অস্থিরতা, কূটনৈতিক ব্যর্থতা আর অভ্যন্তরীণ চাপের খবর যখন একের পর এক সামনে আসছিল, তখন মায়ামির সেই আলো ঝলমলে অ্যারেনায় ট্রাম্পের উপস্থিতি তৈরি করেছিল এক ভিন্ন চিত্র, যেখানে বাস্তবতার ভার যেন কিছুক্ষণের জন্য দূরে সরে গিয়েছিল।