ঢাকা , সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বৈশাখ বরণে প্রস্তুত চারুকলা ইনস্টিটিউট

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ৫৫ মিনিট আগে
  • ০ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার
‎গুনগুন গান করতে করতে পটচিত্রে রঙ-তুলির আঁচড় কাটছেন নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী স্বর্ণা মিস্ত্রি। একই সারিতে তৈরি হচ্ছে আরও বেশ কিছু পটচিত্র। কক্ষটির মাঝে পাটিতে বসে শিক্ষার্থীদের কেউ কাগজ কাটছেন, কেউ সেই কাগজ জুড়ে তৈরি করছে নানা রকম মুখোশ। আর বাকিরা তাতে রঙ করছেন। শিক্ষার্থীরা যে যার কাজে নিমগ্ন। কেউ সরাচিত্র আঁকছেন, কেউ পটচিত্রে শেষ ছোঁয়া দিচ্ছেন। পুরো পরিবেশজুড়ে এক ধরনের উৎসবের আমেজ, যেখানে রঙ আর সৃজনশীলতাই প্রধান ভাষা।
শুধু কক্ষের ভেতরেই নয়, ইনস্টিটিউটের প্রাঙ্গণেও চলছে সমান ব্যস্ততা। বাঁশ ও কাগজ দিয়ে তৈরি হচ্ছে বড় বড় মোটিফ। শিক্ষকরা পাশে থেকে দিচ্ছেন দিকনির্দেশনা, আর শিক্ষার্থীরা সেই নির্দেশনায় গড়ে তুলছেন তাদের সৃষ্টির জগৎ।
রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউটে দেখা গেল এমনই এক প্রাণচঞ্চল দৃশ্য। বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিতে তাদের এই ব্যস্ততা।
জানা যায়, ১৯৯৬ সাল থেকে নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউট ধারাবাহিকভাবে নববর্ষের আয়োজন করে আসছে। তারই অংশ হিসেবে এ বছরও ইনস্টিটিউটে নানা আয়োজন গ্রহণ করা হয়েছে। এ বছর টেরাকোটা পুতুল, হাতি এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্য পালকির মোটিফ নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া বাঘ, পেঁচার মুখোশ, ছোট-বড় পাখি, সরাচিত্র এবং পটচিত্র তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।
অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অভি কর নয়ন বলেন, “প্রতিবছরের মতো এবারও আমরা নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিতে চাই। সে জন্য আমাদের ইনস্টিটিউট এবং আমরা শিক্ষার্থীরা কাজ করছি। আমাদের প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকে। আশা করছি, দিনটি আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করতে পারবো।”
ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ শিল্পী শামসুল আজাদ বলেন, “আমাদের জীবনযাত্রার সঙ্গে বাংলা বর্ষের তেমন কোনো সম্পর্ক না থাকলেও বাংলা নববর্ষের দিন আমরা এক ধরনের উৎসব অনুভব করি। এ উৎসব এবার ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের। এবারও আমরা এই উৎসবের আয়োজন করেছি। এবারের শোভাযাত্রার নামকরণ করা হয়েছে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। বাংলাদেশ এক ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী নানান রকম সংকট রয়েছে। ফলে আমাদের এই অনুষ্ঠান কতটা উচ্ছ্বাসের হবে, তা ঠিক বলতে পারছি না। তবুও সৃষ্টিকর্তা আমাদের যেন এই দুরবস্থা থেকে মুক্তি দেন, পরিত্রাণ দেন। আমরা অন্যান্য বছরের মতো যেন আনন্দে দিন কাটাতে পারি। আমাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবন যেন সুস্থ হয়। কারণ যে অস্বাভাবিকতার মধ্য থেকে আমরা এসেছি, তা আর চাই না। অতএব এই পহেলা বৈশাখ মঙ্গল বয়ে আনুক।”

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

বৈশাখ বরণে প্রস্তুত চারুকলা ইনস্টিটিউট

আপডেট সময় ৫৫ মিনিট আগে

স্টাফ রিপোর্টার
‎গুনগুন গান করতে করতে পটচিত্রে রঙ-তুলির আঁচড় কাটছেন নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী স্বর্ণা মিস্ত্রি। একই সারিতে তৈরি হচ্ছে আরও বেশ কিছু পটচিত্র। কক্ষটির মাঝে পাটিতে বসে শিক্ষার্থীদের কেউ কাগজ কাটছেন, কেউ সেই কাগজ জুড়ে তৈরি করছে নানা রকম মুখোশ। আর বাকিরা তাতে রঙ করছেন। শিক্ষার্থীরা যে যার কাজে নিমগ্ন। কেউ সরাচিত্র আঁকছেন, কেউ পটচিত্রে শেষ ছোঁয়া দিচ্ছেন। পুরো পরিবেশজুড়ে এক ধরনের উৎসবের আমেজ, যেখানে রঙ আর সৃজনশীলতাই প্রধান ভাষা।
শুধু কক্ষের ভেতরেই নয়, ইনস্টিটিউটের প্রাঙ্গণেও চলছে সমান ব্যস্ততা। বাঁশ ও কাগজ দিয়ে তৈরি হচ্ছে বড় বড় মোটিফ। শিক্ষকরা পাশে থেকে দিচ্ছেন দিকনির্দেশনা, আর শিক্ষার্থীরা সেই নির্দেশনায় গড়ে তুলছেন তাদের সৃষ্টির জগৎ।
রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউটে দেখা গেল এমনই এক প্রাণচঞ্চল দৃশ্য। বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিতে তাদের এই ব্যস্ততা।
জানা যায়, ১৯৯৬ সাল থেকে নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউট ধারাবাহিকভাবে নববর্ষের আয়োজন করে আসছে। তারই অংশ হিসেবে এ বছরও ইনস্টিটিউটে নানা আয়োজন গ্রহণ করা হয়েছে। এ বছর টেরাকোটা পুতুল, হাতি এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্য পালকির মোটিফ নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া বাঘ, পেঁচার মুখোশ, ছোট-বড় পাখি, সরাচিত্র এবং পটচিত্র তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।
অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অভি কর নয়ন বলেন, “প্রতিবছরের মতো এবারও আমরা নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিতে চাই। সে জন্য আমাদের ইনস্টিটিউট এবং আমরা শিক্ষার্থীরা কাজ করছি। আমাদের প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকে। আশা করছি, দিনটি আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করতে পারবো।”
ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ শিল্পী শামসুল আজাদ বলেন, “আমাদের জীবনযাত্রার সঙ্গে বাংলা বর্ষের তেমন কোনো সম্পর্ক না থাকলেও বাংলা নববর্ষের দিন আমরা এক ধরনের উৎসব অনুভব করি। এ উৎসব এবার ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের। এবারও আমরা এই উৎসবের আয়োজন করেছি। এবারের শোভাযাত্রার নামকরণ করা হয়েছে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। বাংলাদেশ এক ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী নানান রকম সংকট রয়েছে। ফলে আমাদের এই অনুষ্ঠান কতটা উচ্ছ্বাসের হবে, তা ঠিক বলতে পারছি না। তবুও সৃষ্টিকর্তা আমাদের যেন এই দুরবস্থা থেকে মুক্তি দেন, পরিত্রাণ দেন। আমরা অন্যান্য বছরের মতো যেন আনন্দে দিন কাটাতে পারি। আমাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবন যেন সুস্থ হয়। কারণ যে অস্বাভাবিকতার মধ্য থেকে আমরা এসেছি, তা আর চাই না। অতএব এই পহেলা বৈশাখ মঙ্গল বয়ে আনুক।”