ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঐতিহ্য হারিয়েছে হালখাতা উৎসব

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ৩ ঘন্টা আগে
  • ১ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার
এক সময় বাংলা নববর্ষ মানেই ছিল নারায়ণগঞ্জের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জমজমাট হালখাতা উৎসব। দোকান সাজানো, পুরনো হিসাব বন্ধ করে নতুন খাতা খোলা, ক্রেতাদের আমন্ত্রণ সব মিলিয়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেই চিরচেনা হালখাতার আমেজ অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) শহরের নিতাইগঞ্জ, উকিলপাড়াসহ আশপাশের ব্যবসাকেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখা যায়, আগের মতো আর তেমন আয়োজন নেই। হাতে গোনা কয়েকটি দোকান প্রতীকীভাবে হালখাতা করলেও বেশিরভাগ ব্যবসায়ীই এখন এ প্রথা থেকে সরে এসেছেন।
পুরনো ব্যবসায়ীরা জানান, একসময় হালখাতা ছিল ব্যবসায়ী ও ক্রেতার সম্পর্ক দৃঢ় করার অন্যতম মাধ্যম। ক্রেতাদের মিষ্টি খাওয়ানো, নতুন খাতায় নাম তোলা—এসব ছিল সামাজিক সম্পর্কেরই অংশ। এখন সেই চর্চা অনেকটাই কমে গেছে।
বিবি রোডের এক প্রবীণ ব্যবসায়ী রঘুনাথ বলেন, আগে পহেলা বৈশাখ এলে দোকানে ভিড় লেগে থাকত। ক্রেতারা আসতেন, হিসাব মিটিয়ে নতুন করে শুরু করতেন। এখন আর সেই পরিবেশ নেই।
এ পরিবর্তনের পেছনে একাধিক কারণ দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ডিজিটাল লেনদেনের প্রসার, অনলাইন ব্যবসার বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের ফলে হালখাতার প্রয়োজনীয়তা কমে গেছে। অনেকেই এখন আর বাকি খাতার ওপর নির্ভর করেন না, ফলে ঐতিহ্যগত এই আয়োজন ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারাচ্ছে।
তরুণ প্রজন্মের অনেকেই হালখাতার সঙ্গে তেমন পরিচিত নন। ফলে প্রজন্মান্তরে এই সংস্কৃতি টিকে থাকাও কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন সংস্কৃতিমনস্ক ব্যক্তিরা।
তবে কেউ কেউ এখনও চেষ্টা করছেন ঐতিহ্যটিকে ধরে রাখতে। তারা মনে করেন, হালখাতা শুধু ব্যবসার বিষয় নয়, এটি বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ। সঠিক উদ্যোগ নিলে আবারও এ উৎসবকে প্রাণবন্ত করা সম্ভব।
সব মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় নারায়ণগঞ্জে হালখাতার ঐতিহ্য আজ অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে। পুরনো দিনের সেই আন্তরিকতা আর উৎসবের আবহ ফিরিয়ে আনা যাবে কিনা সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

ঐতিহ্য হারিয়েছে হালখাতা উৎসব

আপডেট সময় ৩ ঘন্টা আগে

স্টাফ রিপোর্টার
এক সময় বাংলা নববর্ষ মানেই ছিল নারায়ণগঞ্জের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জমজমাট হালখাতা উৎসব। দোকান সাজানো, পুরনো হিসাব বন্ধ করে নতুন খাতা খোলা, ক্রেতাদের আমন্ত্রণ সব মিলিয়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেই চিরচেনা হালখাতার আমেজ অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) শহরের নিতাইগঞ্জ, উকিলপাড়াসহ আশপাশের ব্যবসাকেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখা যায়, আগের মতো আর তেমন আয়োজন নেই। হাতে গোনা কয়েকটি দোকান প্রতীকীভাবে হালখাতা করলেও বেশিরভাগ ব্যবসায়ীই এখন এ প্রথা থেকে সরে এসেছেন।
পুরনো ব্যবসায়ীরা জানান, একসময় হালখাতা ছিল ব্যবসায়ী ও ক্রেতার সম্পর্ক দৃঢ় করার অন্যতম মাধ্যম। ক্রেতাদের মিষ্টি খাওয়ানো, নতুন খাতায় নাম তোলা—এসব ছিল সামাজিক সম্পর্কেরই অংশ। এখন সেই চর্চা অনেকটাই কমে গেছে।
বিবি রোডের এক প্রবীণ ব্যবসায়ী রঘুনাথ বলেন, আগে পহেলা বৈশাখ এলে দোকানে ভিড় লেগে থাকত। ক্রেতারা আসতেন, হিসাব মিটিয়ে নতুন করে শুরু করতেন। এখন আর সেই পরিবেশ নেই।
এ পরিবর্তনের পেছনে একাধিক কারণ দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ডিজিটাল লেনদেনের প্রসার, অনলাইন ব্যবসার বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের ফলে হালখাতার প্রয়োজনীয়তা কমে গেছে। অনেকেই এখন আর বাকি খাতার ওপর নির্ভর করেন না, ফলে ঐতিহ্যগত এই আয়োজন ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারাচ্ছে।
তরুণ প্রজন্মের অনেকেই হালখাতার সঙ্গে তেমন পরিচিত নন। ফলে প্রজন্মান্তরে এই সংস্কৃতি টিকে থাকাও কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন সংস্কৃতিমনস্ক ব্যক্তিরা।
তবে কেউ কেউ এখনও চেষ্টা করছেন ঐতিহ্যটিকে ধরে রাখতে। তারা মনে করেন, হালখাতা শুধু ব্যবসার বিষয় নয়, এটি বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ। সঠিক উদ্যোগ নিলে আবারও এ উৎসবকে প্রাণবন্ত করা সম্ভব।
সব মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় নারায়ণগঞ্জে হালখাতার ঐতিহ্য আজ অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে। পুরনো দিনের সেই আন্তরিকতা আর উৎসবের আবহ ফিরিয়ে আনা যাবে কিনা সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।