ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লেকে মরা মাছের গন্ধ!

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় এক ঘন্টা আগে
  • ০ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার
নারায়ণগঞ্জের বাবুরাইল লেকে মরা মাছের গন্ধে স্থানীয় এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। এ লেকের ২ নম্বর বাবুরাইল অংশে অনুমতি না নিয়ে চাষ করা কয়েকশ’ মাছ মরে যাওয়াতে তা পঁচে গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশ্বব্যাংক ও জাইকার অর্থায়নে সাড়ে তিনশ’ কোটি টাকারও বেশি অর্থ ব্যয়ে বাবুরাইল খালটি দখলমুক্ত ও খনন করা হয়। পরে এটিকে সৌন্দর্যবর্ধন করে দৃষ্টিনন্দন করে তোলে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক)। খালটি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের এলাকার বাইরেও পাশের কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সম্রাট হল এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত। এদিকে বর্তমানে আশেপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের বিকেলে হাঁটতে বের হওয়া ও অবসর সময় যাপনের বিনোদনকেন্দ্রে রূপান্তরিত হয়েছে।
তবে, খালটির অনেক জায়গায় ময়লা ও আবর্জনা ফেলে তার পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। আশেপাশের বাসিন্দা ও দোকানিরও অনেকে সরাসরি খাল কিংবা খালের পাশে রাস্তায় ময়লা ফেলে রাখেন। যা খালের পানিকে নোংরা ও পরিবেশ দূষিত করছে।
স্থানীয় লোকজন জানান, খালটি কেবল আবর্জনার কারণেই নষ্ট হচ্ছে না। খালের বিভিন্ন অংশে সিটি কর্পোরেশনের অনুমতি না নিয়েই মাছ চাষ করেন স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। ২ নম্বর বাবুরাইল অংশে শহীদ হোসেন নামে এক ব্যক্তি মাছ ছেড়ে চাষ করছেন। এতে পানির প্রবাহও বাধা সৃষ্টি হয়েছে।
সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, লেকে মাছ চাষের অনুমতি কাউকে দেওয়া হয়নি।
॥তামজিদ হোসেন নামে স্থানীয় তরুণ বলেন, “এই লেকে চাষ করা মাছগুলো চার-পাঁচদিন আগে হঠাৎ মরে যায়। সকালে মরা মাছগুলো ভেসে ওঠে। কিন্তু যারা মাছগুলো চাষ করেছেন তারা মরা মাছগুলো সরিয়ে নেয়নি। এতে চারদিকে উৎকট দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।”
সরেজমিনে বাবুরাইলের আমবাগান এলাকায় গিয়ে খালের পানিতে মরা মাছ ভাসতে দেখা যায়। এসব মাছ পচে গিয়ে আশেপাশে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। স্থানীয় পথচারীরা নাক চেপে পার হচ্ছেন সড়ক। অনেকেই অতিষ্ঠ হয়ে ক্ষোভও ঝারেন।
শফিকুল ইসলাম নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “একটু আরাম করে চায়ের দোকানে বসে চাও খাওয়া যায় না। দুর্গন্ধে ভরে গেছে। লোকজনের ঘরেও দুর্গন্ধ ঢুকে যায়। এইগুলো ঠিকমতো সিটি কর্পোরেশনের দেখা উচিত।”
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের বিনা অনুমতিতে এভাবে মাছ চাষ বন্ধ ও মরা মাছ অপসারণে ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

লেকে মরা মাছের গন্ধ!

আপডেট সময় এক ঘন্টা আগে

স্টাফ রিপোর্টার
নারায়ণগঞ্জের বাবুরাইল লেকে মরা মাছের গন্ধে স্থানীয় এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। এ লেকের ২ নম্বর বাবুরাইল অংশে অনুমতি না নিয়ে চাষ করা কয়েকশ’ মাছ মরে যাওয়াতে তা পঁচে গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশ্বব্যাংক ও জাইকার অর্থায়নে সাড়ে তিনশ’ কোটি টাকারও বেশি অর্থ ব্যয়ে বাবুরাইল খালটি দখলমুক্ত ও খনন করা হয়। পরে এটিকে সৌন্দর্যবর্ধন করে দৃষ্টিনন্দন করে তোলে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক)। খালটি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের এলাকার বাইরেও পাশের কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সম্রাট হল এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত। এদিকে বর্তমানে আশেপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের বিকেলে হাঁটতে বের হওয়া ও অবসর সময় যাপনের বিনোদনকেন্দ্রে রূপান্তরিত হয়েছে।
তবে, খালটির অনেক জায়গায় ময়লা ও আবর্জনা ফেলে তার পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। আশেপাশের বাসিন্দা ও দোকানিরও অনেকে সরাসরি খাল কিংবা খালের পাশে রাস্তায় ময়লা ফেলে রাখেন। যা খালের পানিকে নোংরা ও পরিবেশ দূষিত করছে।
স্থানীয় লোকজন জানান, খালটি কেবল আবর্জনার কারণেই নষ্ট হচ্ছে না। খালের বিভিন্ন অংশে সিটি কর্পোরেশনের অনুমতি না নিয়েই মাছ চাষ করেন স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। ২ নম্বর বাবুরাইল অংশে শহীদ হোসেন নামে এক ব্যক্তি মাছ ছেড়ে চাষ করছেন। এতে পানির প্রবাহও বাধা সৃষ্টি হয়েছে।
সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, লেকে মাছ চাষের অনুমতি কাউকে দেওয়া হয়নি।
॥তামজিদ হোসেন নামে স্থানীয় তরুণ বলেন, “এই লেকে চাষ করা মাছগুলো চার-পাঁচদিন আগে হঠাৎ মরে যায়। সকালে মরা মাছগুলো ভেসে ওঠে। কিন্তু যারা মাছগুলো চাষ করেছেন তারা মরা মাছগুলো সরিয়ে নেয়নি। এতে চারদিকে উৎকট দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।”
সরেজমিনে বাবুরাইলের আমবাগান এলাকায় গিয়ে খালের পানিতে মরা মাছ ভাসতে দেখা যায়। এসব মাছ পচে গিয়ে আশেপাশে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। স্থানীয় পথচারীরা নাক চেপে পার হচ্ছেন সড়ক। অনেকেই অতিষ্ঠ হয়ে ক্ষোভও ঝারেন।
শফিকুল ইসলাম নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “একটু আরাম করে চায়ের দোকানে বসে চাও খাওয়া যায় না। দুর্গন্ধে ভরে গেছে। লোকজনের ঘরেও দুর্গন্ধ ঢুকে যায়। এইগুলো ঠিকমতো সিটি কর্পোরেশনের দেখা উচিত।”
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের বিনা অনুমতিতে এভাবে মাছ চাষ বন্ধ ও মরা মাছ অপসারণে ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।