ঢাকা , মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্দরের আতঙ্ক দ্বীন ইসলাম বাহিনী

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ১২:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার
বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নে ‘যুবদল নেতা’ পরিচয়ে দ্বীন ইসলাম ও তার বাহিনী এখন স্থানীয়দের কাছে মূর্তিমান আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন দলের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে তারা দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জিওধরা এলাকাসহ আশপাশের সাধারণ মানুষ এই বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা চায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমান সময়ে সরকারদলীয় পরিচয় ব্যবহার করে দ্বীন ইসলাম ও তার অনুসারীরা চাঁদাবাজি, হামলা এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। এতে এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
জানা যায়, আওয়ামী লীগের শাসনামলে দ্বীন ইসলাম ও তার ঘনিষ্ঠরা স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজিতে জড়িত ছিল। সে সময় তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তারা বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং নিজেদের ‘দলীয় লোক’ হিসেবে পরিচিতি দেওয়ার চেষ্টা করে। এতে করে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তথ্যসূত্রে জানা গেছে, দ্বীন ইসলাম ও তার সহযোগীরা আগে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর তারা নিজেদের পরিচয় বদলে যুবদলের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন। এ সময় তারা এলাকার উঠতি বয়সী মাদকাসক্ত তরুণদের নিয়ে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জিওধরা চৌরাস্তা এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধার ছেলে মাহাবুবকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে এই বাহিনী। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় মামলা হলেও প্রভাব খাটিয়ে তারা আইনের আওতার বাইরে থেকে যায় বলে স্থানীয়দের দাবি।
এরপর ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর একই এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে পূর্ব শত্রুতার জেরে বিএনপি নেতা সাহাদাত হোসেনকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগও ওঠে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে।
সর্বশেষ গত ১৭ এপ্রিল শুক্রবার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের মাধবপাশা জিউধরা এলাকায় পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। দাবি করা টাকা না দিয়ে ভেকু দিয়ে কাজ শুরু করায় শ্রমিকদের ওপর হামলা চালানো হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে অন্তত
পাঁচজনকে আহত করা হয়। আহতরা হলেন—আসিফ (২২), আলমগীর (৪৫), জাহাঙ্গীর (৪৮), নাদিম (২৪) ও হাসান (২৬)। তাদের মধ্যে আসিফ গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় পারভেজ, জয়নাল, সজীব, মানিক, দ্বীন ইসলাম, সাদ্দাম, মারুফ, জুবায়েদ আলমসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা নামধারী যুবদল নেতা দ্বীন ইসলাম ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

বন্দরের আতঙ্ক দ্বীন ইসলাম বাহিনী

আপডেট সময় ১২:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার
বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নে ‘যুবদল নেতা’ পরিচয়ে দ্বীন ইসলাম ও তার বাহিনী এখন স্থানীয়দের কাছে মূর্তিমান আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন দলের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে তারা দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জিওধরা এলাকাসহ আশপাশের সাধারণ মানুষ এই বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা চায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমান সময়ে সরকারদলীয় পরিচয় ব্যবহার করে দ্বীন ইসলাম ও তার অনুসারীরা চাঁদাবাজি, হামলা এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। এতে এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
জানা যায়, আওয়ামী লীগের শাসনামলে দ্বীন ইসলাম ও তার ঘনিষ্ঠরা স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজিতে জড়িত ছিল। সে সময় তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তারা বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং নিজেদের ‘দলীয় লোক’ হিসেবে পরিচিতি দেওয়ার চেষ্টা করে। এতে করে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তথ্যসূত্রে জানা গেছে, দ্বীন ইসলাম ও তার সহযোগীরা আগে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর তারা নিজেদের পরিচয় বদলে যুবদলের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন। এ সময় তারা এলাকার উঠতি বয়সী মাদকাসক্ত তরুণদের নিয়ে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জিওধরা চৌরাস্তা এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধার ছেলে মাহাবুবকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে এই বাহিনী। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় মামলা হলেও প্রভাব খাটিয়ে তারা আইনের আওতার বাইরে থেকে যায় বলে স্থানীয়দের দাবি।
এরপর ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর একই এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে পূর্ব শত্রুতার জেরে বিএনপি নেতা সাহাদাত হোসেনকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগও ওঠে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে।
সর্বশেষ গত ১৭ এপ্রিল শুক্রবার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের মাধবপাশা জিউধরা এলাকায় পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। দাবি করা টাকা না দিয়ে ভেকু দিয়ে কাজ শুরু করায় শ্রমিকদের ওপর হামলা চালানো হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে অন্তত
পাঁচজনকে আহত করা হয়। আহতরা হলেন—আসিফ (২২), আলমগীর (৪৫), জাহাঙ্গীর (৪৮), নাদিম (২৪) ও হাসান (২৬)। তাদের মধ্যে আসিফ গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় পারভেজ, জয়নাল, সজীব, মানিক, দ্বীন ইসলাম, সাদ্দাম, মারুফ, জুবায়েদ আলমসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা নামধারী যুবদল নেতা দ্বীন ইসলাম ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।