ঢাকা , মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হকারদের পক্ষে দুই বাম নেতা!

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ২ ঘন্টা আগে
  • ১ বার পড়া হয়েছে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ শহরে হকার ইস্যু নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। গত ১৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নেতৃত্বে পরিচালিত হকার উচ্ছেদ অভিযানের পরে গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অঞ্জন দাস ও সিপিবির নেতা ইকবাল হোসেন এবার হকারদের পক্ষে মাঠে নেমে তাদের পুনর্বাসনের দাবি তুলেছেন। পুনর্বাসনের আগ পর্যন্ত হকারদের ফুটপাত থেকে উচ্ছেদ না করার দাবীও জানিয়েছেন এই দুই নেতা।
এর আগে ১৩ এপ্রিল পরিচালিত অভিযানে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও ফুটপাত থেকে হকারদের সরিয়ে দিতে অভিযান পরিচালনা করে সিটি কর্পোরেশন। এসময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও হকারমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়ার লক্ষ্যে একযোগে অভিযানে অংশ নেন। অঞ্জন দাস ও ইকবাল হোসেনও সেদিন মাঠে উপস্থিত ছিলেন এবং প্রশাসনের উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানান।
সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শহরের যানজট নিরসন, পথচারীদের চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং নগর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল করে হকারদের ব্যবসা পরিচালনার কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছিল বলে দাবি করা হয়।
তবে ২০ এপ্রিল সকালে দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে যায়। নারায়ণগঞ্জ হকার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়, যেখানে হকারদের পুনর্বাসনের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। আশ্চর্যের বিষয়, সেই মিছিলের প্রথম সারিতেই দেখা যায় অঞ্জন দাস ও ইকবাল হোসেনকে।
মিছিলে অংশ নিয়ে তারা বলেন, হকাররা সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষ এবং তাদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন এই ফুটপাতের ব্যবসা। হঠাৎ করে উচ্ছেদ না করে তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। তারা পরিকল্পিত পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ রাখার দাবি জানান।
একই ইস্যুতে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এই দুই নেতার ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। অনেকেই এটিকে রাজনৈতিক সুবিধাবাদ হিসেবে দেখছেন। তাদের প্রশ্ন যেখানে কয়েকদিন আগেও হকার উচ্ছেদে সমর্থন ছিল, সেখানে হঠাৎ করে হকারদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণ কী?
সমালোচকদের মতে, এটি মূলত জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর একটি কৌশল। হকারদের মতো বৃহৎ একটি শ্রেণিকে পাশে টেনে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। বিশেষ করে সামনে বিভিন্ন রাজনৈতিক সমীকরণ ও সম্ভাব্য আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এই অবস্থান পরিবর্তনকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
অঞ্জন দাস ও ইকবাল হোসেন দুজনেই গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ থেকে নির্বাচন করেছিলেন। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অঞ্জন দাস সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ-৩) আসন থেকে গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মাত্র ৬৩৮ ভোট পান এবং ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮ম হন। অন্যদিকে, ইকবাল হোসেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে নির্বাচন করে ৪৭৯ ভোট পেয়ে ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ৯ম অবস্থানে ছিলেন।
এই পরিসংখ্যান সামনে এনে সমালোচকরা বলছেন তাদের শুধু জনসমর্থনই কম নয়, জনসম্পৃক্ততাও কম। একারণেই নগরবাসীর জন্য বিষফোঁড়া হয়ে দাড়ানো সেই হকারদের পক্ষ নিয়েই মাঠে নেমেছেন তারা।
হকার ইস্যু ঘিরে নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছল। একদিকে শহরকে দখলমুক্ত রাখার দাবি, অন্যদিকে জীবিকার প্রশ্ন এই দুইয়ের সংঘাতে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে অঞ্জন দাস ও ইকবাল হোসেনের অবস্থান পরিবর্তন নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে মাঠে বাম সংগঠনের এই দুই নেতা থাকলেও তাদের পেচন থেকে অন্য কেউ কলকাঠি নাড়ছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

হকারদের পক্ষে দুই বাম নেতা!

আপডেট সময় ২ ঘন্টা আগে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ শহরে হকার ইস্যু নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। গত ১৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নেতৃত্বে পরিচালিত হকার উচ্ছেদ অভিযানের পরে গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অঞ্জন দাস ও সিপিবির নেতা ইকবাল হোসেন এবার হকারদের পক্ষে মাঠে নেমে তাদের পুনর্বাসনের দাবি তুলেছেন। পুনর্বাসনের আগ পর্যন্ত হকারদের ফুটপাত থেকে উচ্ছেদ না করার দাবীও জানিয়েছেন এই দুই নেতা।
এর আগে ১৩ এপ্রিল পরিচালিত অভিযানে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও ফুটপাত থেকে হকারদের সরিয়ে দিতে অভিযান পরিচালনা করে সিটি কর্পোরেশন। এসময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও হকারমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়ার লক্ষ্যে একযোগে অভিযানে অংশ নেন। অঞ্জন দাস ও ইকবাল হোসেনও সেদিন মাঠে উপস্থিত ছিলেন এবং প্রশাসনের উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানান।
সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শহরের যানজট নিরসন, পথচারীদের চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং নগর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল করে হকারদের ব্যবসা পরিচালনার কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছিল বলে দাবি করা হয়।
তবে ২০ এপ্রিল সকালে দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে যায়। নারায়ণগঞ্জ হকার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়, যেখানে হকারদের পুনর্বাসনের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। আশ্চর্যের বিষয়, সেই মিছিলের প্রথম সারিতেই দেখা যায় অঞ্জন দাস ও ইকবাল হোসেনকে।
মিছিলে অংশ নিয়ে তারা বলেন, হকাররা সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষ এবং তাদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন এই ফুটপাতের ব্যবসা। হঠাৎ করে উচ্ছেদ না করে তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। তারা পরিকল্পিত পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ রাখার দাবি জানান।
একই ইস্যুতে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এই দুই নেতার ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। অনেকেই এটিকে রাজনৈতিক সুবিধাবাদ হিসেবে দেখছেন। তাদের প্রশ্ন যেখানে কয়েকদিন আগেও হকার উচ্ছেদে সমর্থন ছিল, সেখানে হঠাৎ করে হকারদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণ কী?
সমালোচকদের মতে, এটি মূলত জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর একটি কৌশল। হকারদের মতো বৃহৎ একটি শ্রেণিকে পাশে টেনে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। বিশেষ করে সামনে বিভিন্ন রাজনৈতিক সমীকরণ ও সম্ভাব্য আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এই অবস্থান পরিবর্তনকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
অঞ্জন দাস ও ইকবাল হোসেন দুজনেই গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ থেকে নির্বাচন করেছিলেন। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অঞ্জন দাস সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ-৩) আসন থেকে গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মাত্র ৬৩৮ ভোট পান এবং ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮ম হন। অন্যদিকে, ইকবাল হোসেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে নির্বাচন করে ৪৭৯ ভোট পেয়ে ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ৯ম অবস্থানে ছিলেন।
এই পরিসংখ্যান সামনে এনে সমালোচকরা বলছেন তাদের শুধু জনসমর্থনই কম নয়, জনসম্পৃক্ততাও কম। একারণেই নগরবাসীর জন্য বিষফোঁড়া হয়ে দাড়ানো সেই হকারদের পক্ষ নিয়েই মাঠে নেমেছেন তারা।
হকার ইস্যু ঘিরে নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছল। একদিকে শহরকে দখলমুক্ত রাখার দাবি, অন্যদিকে জীবিকার প্রশ্ন এই দুইয়ের সংঘাতে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে অঞ্জন দাস ও ইকবাল হোসেনের অবস্থান পরিবর্তন নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে মাঠে বাম সংগঠনের এই দুই নেতা থাকলেও তাদের পেচন থেকে অন্য কেউ কলকাঠি নাড়ছে।