ঢাকা , মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উন্নয়নের স্বার্থে ফতুল্লার ইউনিয়ন পরিষদগুলি বিলুপ্তির দাবি

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ৩ ঘন্টা আগে
  • ১ বার পড়া হয়েছে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চল ফতুল্লাকে ঘিরে প্রশাসনিক পুনর্গঠনের আলোচনা এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। সিটি করপোরেশনের আওতায় অন্তর্ভুক্তি নাকি পৃথক পৌরসভাএই দুই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। উন্নয়ন, নাগরিক সেবা ও স্থানীয় স্বার্থের প্রশ্নে এখন দুই মতের পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি তুলে ধরছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে ফতুল্লাকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তোলেন সংসদ সদস্য এডভোকেট আল আমিন। অন্যদিকে পৃথক “শাহফতেউল্লাহ পৌরসভা” গঠনের প্রস্তাব দিয়ে আলোচনায় আসেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী। তার দাবি, ফতুল্লার ইউনিয়নগুলোকে একীভূত করে আলাদা পৌরসভা গঠন করা হলে স্থানীয় জনগণের প্রতিনিধিত্ব ও প্রশাসনিক কার্যকারিতা আরও বাড়বে।
এদিকে স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, ফতুল্লার বর্তমান বাস্তবতা আর গ্রামীণ প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শিল্পায়ন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এলাকাটি কার্যত একটি বিস্তৃত নগর অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন কয়েক লাখ শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ এ এলাকায় চলাচল করলেও নাগরিক সেবার মান সেই তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়ক ভাঙাচোরা, ড্রেনেজ সংকট, জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত বাজার ব্যবস্থা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে অধিকাংশ এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে থাকে। শিল্পাঞ্চল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার অভাবে ফতুল্লা পরিকল্পিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
তবে প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। একাংশ মনে করছেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যুক্ত হলে দ্রুত বড় পরিসরের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। অন্যদিকে আরেক অংশের দাবি, পৃথক পৌরসভা হলে ফতুল্লার নিজস্ব সমস্যা ও চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া সহজ হবে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিষয়টি এখন শুধু প্রশাসনিক নয়, বরং রাজনৈতিক গুরুত্বও বহন করছে। কারণ ফতুল্লা নারায়ণগঞ্জ জেলার অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোর একটি। ফলে ভবিষ্যতে এ এলাকার প্রশাসনিক কাঠামো কী হবে, তা স্থানীয় রাজনীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘ আলোচনার পরিবর্তে দ্রুত বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ জনসংখ্যা ও শিল্পায়নের চাপ দিন দিন বাড়লেও নাগরিক অবকাঠামো সেই অনুপাতে উন্নত না হওয়ায় ফতুল্লা ক্রমেই বসবাসের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্বস্তিকর এলাকায় পরিণত হচ্ছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

উন্নয়নের স্বার্থে ফতুল্লার ইউনিয়ন পরিষদগুলি বিলুপ্তির দাবি

আপডেট সময় ৩ ঘন্টা আগে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চল ফতুল্লাকে ঘিরে প্রশাসনিক পুনর্গঠনের আলোচনা এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। সিটি করপোরেশনের আওতায় অন্তর্ভুক্তি নাকি পৃথক পৌরসভাএই দুই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। উন্নয়ন, নাগরিক সেবা ও স্থানীয় স্বার্থের প্রশ্নে এখন দুই মতের পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি তুলে ধরছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে ফতুল্লাকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তোলেন সংসদ সদস্য এডভোকেট আল আমিন। অন্যদিকে পৃথক “শাহফতেউল্লাহ পৌরসভা” গঠনের প্রস্তাব দিয়ে আলোচনায় আসেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী। তার দাবি, ফতুল্লার ইউনিয়নগুলোকে একীভূত করে আলাদা পৌরসভা গঠন করা হলে স্থানীয় জনগণের প্রতিনিধিত্ব ও প্রশাসনিক কার্যকারিতা আরও বাড়বে।
এদিকে স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, ফতুল্লার বর্তমান বাস্তবতা আর গ্রামীণ প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শিল্পায়ন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এলাকাটি কার্যত একটি বিস্তৃত নগর অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন কয়েক লাখ শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ এ এলাকায় চলাচল করলেও নাগরিক সেবার মান সেই তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়ক ভাঙাচোরা, ড্রেনেজ সংকট, জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত বাজার ব্যবস্থা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে অধিকাংশ এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে থাকে। শিল্পাঞ্চল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার অভাবে ফতুল্লা পরিকল্পিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
তবে প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। একাংশ মনে করছেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যুক্ত হলে দ্রুত বড় পরিসরের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। অন্যদিকে আরেক অংশের দাবি, পৃথক পৌরসভা হলে ফতুল্লার নিজস্ব সমস্যা ও চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া সহজ হবে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিষয়টি এখন শুধু প্রশাসনিক নয়, বরং রাজনৈতিক গুরুত্বও বহন করছে। কারণ ফতুল্লা নারায়ণগঞ্জ জেলার অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোর একটি। ফলে ভবিষ্যতে এ এলাকার প্রশাসনিক কাঠামো কী হবে, তা স্থানীয় রাজনীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘ আলোচনার পরিবর্তে দ্রুত বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ জনসংখ্যা ও শিল্পায়নের চাপ দিন দিন বাড়লেও নাগরিক অবকাঠামো সেই অনুপাতে উন্নত না হওয়ায় ফতুল্লা ক্রমেই বসবাসের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্বস্তিকর এলাকায় পরিণত হচ্ছে।