নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাস লিকেজ থেকে হওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণে দগ্ধ একই পরিবারের পাঁচজনের সবাই মারা গেছেন। কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর শুক্রবার (১৫ মে) সকালে মারা যান পরিবারের শেষ সদস্য সায়মা আক্তার (৩২)। এর মধ্য দিয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল সবজি বিক্রেতা মো. কালামের পরিবার।
জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, শুক্রবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সায়মার মৃত্যু হয়। তার শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।
এর আগে মারা যান তার স্বামী মো. কালাম (৩৫) ও তাদের তিন সন্তান মুন্না (৭), কথা (৭) এবং মুন্নি (১০)। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, কালামের শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। আর শিশুদের শরীরের ৩০ থেকে ৫২ শতাংশ পর্যন্ত দগ্ধ হয়েছিল।
গত রোববার সকালে ফতুল্লার গিরিধারা এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। পরে স্থানীয়রা দগ্ধ অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে পাঠান।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিতাস গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে ঘরের ভেতরে গ্যাস জমে ছিল। সকালে রান্নাঘরে আগুন জ্বালাতেই বিস্ফোরণ ঘটে।
ফতুল্লা ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা ঘরের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত দেখতে পান। বিস্ফোরণের তীব্রতায় দরজা-জানালাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নিহত কালামের দূর সম্পর্কের ভাই আব্দুর রহিম বলেন, কালাম খুব কষ্ট করে সংসার চালাইতো। সকালে বাজারে যাইতো, রাতে বাসায় ফিরতো। এমন মৃত্যু কোনো পরিবার যেন না পায়। এখন ঘরে ঢুকলেই শুধু কান্না আসে।
স্বজনরা জানান, মুন্না ও কথা যমজ ছিল। তারা স্থানীয় একটি স্কুলে পড়াশোনা করতো। ছোট্ট মুন্নি ছিল পরিবারের সবার আদরের।
সায়মার আত্মীয় নাজমুল বলেন, সায়মা শেষ পর্যন্ত বাঁচার চেষ্টা করছিল। মাঝেমধ্যে চোখ খুলে বাচ্চাদের খুঁজতো। কিন্তু আল্লাহ আর রাখলেন না।
গিরিধারা এলাকার বাসিন্দা শামীম মিয়া বলেন, বিস্ফোরণের শব্দে আমরা দৌড়ে যাই। ঘরের ভেতর আগুন আর ধোঁয়া ছিল। বাচ্চাগুলোর চিৎকার এখনো কানে বাজে।
আরেক প্রতিবেশী রেহানা বেগম বলেন, ওরা খুব শান্ত পরিবার ছিল। কারও সঙ্গে ঝামেলা ছিল না। একসঙ্গে পাঁচজন চলে যাবে, এটা কেউ মেনে নিতে পারছে না।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানিয়েছিলেন, গিরিধারার ওই বাসায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভাড়া থাকতেন সবজি বিক্রেতা কালাম। তিতাসের লাইনের লিক থেকে গ্যাস জমে তাদের ঘরে বিস্ফোরণ ঘটে বলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ধারণা। তাদের সবাইকে ভর্তি করা হয় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। তখনই তাদের অবস্থা ‘আশঙ্কাজনক’ ছিল বলে জানিয়েছিলেন সেখানকার চিকিৎসক শাওন বিন রহমান।




















