স্টাফ রিপোর্টার
নারায়নগঞ্জের ফতুল্লা রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম সংলগ্ন রেলওয়ের জমিতে ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে দোকানপাট। সংশ্লিষ্টদের কোনো তদারকি না থাকায় এসব জমি দখল করে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে দোকানপাট। এসব দোকান ভাড়া নিয়ে সেখানে ব্যবসা করছেন অনেকেই।
অভিযোগ রয়েছে সরকারদলীয় স্থানীয় প্রভাবশালী মহল এই অবৈধ দখলদারদের নিয়ন্ত্রক। দোকানীরা এককালীন মোটা অংকের টাকা দিয়ে দোকানের পসরা সাজিয়ে ব্যবসা করছে। তাছাড়া ঐ প্রভাবশালী মহল কে প্রতিদিন দোকান ভাড়া বাবদ দিতে হচ্ছে ২ থেকে ৩ শত করে টাকা।
সরজমিনে গিয়ে রেলস্টেশন গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ঢাকা-নারায়নগঞ্জ যাওয়ার জন্য এই স্টেশনে ভিড় করেন হাজারও মানুষ। এই স্টেশনের পূর্ব- দক্ষিণ পাশে এবং পাশ্ববর্তী বিশাল ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন দোকানপাট। এসব দোকানের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা হাতিয়ে নেয় একটি চক্র।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা নারায়ণগঞ্জ ডাবল লাইন রেলওয়ে কাজের জন্য রেল লাইনের উপরে দোকানপাট ভেঙ্গে ফেলার পরও স্থানীয় প্রভাবশালী ও পাতি নেতাদের ইশারায় আবারো দোকানপাট বসানো হচ্ছে।তাছাড়া রেলস্টেষন প্লাটফর্মের নিচে একাধিক দোকান বসানোর পাশাপাশি গরু রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছে ঘর।এই সকল দোকান থেকে ভাড়ার নামে চাঁদা আদায় করছে স্থানীয় কতিপয় পাতি নেতা ও তার চেলা চামুন্ডারা।
রেল স্টেশন থেকে প্রতিদিন গড়ে ৮০০০ থেকে ৯০০০ টাকা উঠিয়ে থাকে ।
দোকানদারদের জিজ্ঞেস করলে তারা সঠিক তথ্য দিতে অস্বীকার করে। এসকল দোকানপাট বসানোর জন্য কেউ কেউ অগ্রীম বাবদ ২০০০০ থেকে ৩০০০০ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রদান করেন।
বর্তমানে রেলওয়ের কাজের জন্য কিছু দোকানপাট ভেঙ্গে ফেলার ফলে এখন দৈনিক ভিত্তিতে একটি চক্র টাকা উঠিয়ে থাকে।
নাম প্রকাশ করা না শর্তে এক দোকানদার জানান, রেলওয়ে স্টেশন মাস্টারের নির্দেশে রেলওয়ের প্রতিবন্ধী এক কর্মকর্তার মাধ্যমে এসব টাকা উঠানো হয় আবার এক ছিচকে পাতি নেতাও টাকা উঠিয়ে থাকে।
স্থানীয় নেতাদের অগ্রিম বাবদ টাকা দেয়া সে সকল দোকানদারেরা উচ্ছেদের পর টাকা ফেরৎ চাইলে তারা বলে সরকার দোকানপাট ভেঙ্গে ফেলেছে এখন আমরা কি করবো আর কিসের টাকা দিবো। এতোদিন ব্যবসা করছোনা। টাকা ফেরৎ পাবেনা। অনেকে ভয়ে কিছু বলতে চায় না।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত,রেললাইন কোনো বাজার বা গোয়ালঘর নয়। ডাবল লাইনের কাজ সম্পন্ন করার স্বার্থে এবং জননিরাপত্তায় এই অবৈধ বাজার স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ হওয়া প্রয়োজন।
যদি কেউ রেললাইনের জায়গা ব্যবহার করতে চায় তাহলে তাকে অবশ্যই লিজ আনতে হবে। কিন্ত এখানে ব্যবহারকারীরা কেহউ লিজ না এনে প্রভাব বিস্তার করে দোকান দিয়ে চাঁদা আদায় করছে।
আর তাই রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উচিত একটি ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে জড়িত কর্মকর্তা ও নেতাদের চিহ্নিত করা।
ফতুল্লা স্টেশন একটি ব্যস্ততম স্টেশন এই রেলওয়ে রাস্তায় দোকানপাট বসানোর জন্য সাধারণ জনগণের চলাচলের অনেক অসুবিধা হচ্ছে।
এমতাবস্থায়, দেশের রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফতুল্লার রেলওয়ে স্টেশন এর অবৈধ বাজার স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ ও চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবী জানিয়েছে স্থানীয় সকল শ্রেণীর পেশাজীবি মহল।

ডেস্ক : 
























