স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের নিচতলার বিশেষায়িত হাম ওয়ার্ড। এখানে ঢুকতেই প্রথমে চোখে পড়ে অক্সিজেনের নল, ক্যানোলা আর উদ্বিগ্ন স্বজনদের চিন্তিত মুখ। কোথাও কাশি, কোথাও জ্বরের ঘোরে কাঁদছে শিশু, আবার কোথাও নীরবতা—শুধু দ্রুত ওঠানামা করছে বুক। হাসপাতালের এই ওয়ার্ডে এখন যেন একই চিত্র বারবার ফিরে আসছে—জ্বর, র্যাশ, শ্বাসকষ্ট মিলিয়ে বেঁচে থাকার যুদ্ধ।
বুধবার (১ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকার প্রধানতম শিশু হাসপাতালটির বহির্বিভাগে দীর্ঘ লাইন। নবজাতক থেকে শুরু করে দুই বছর বয়সী শিশু বেশি। কেউ মায়ের কোলে, কেউ নানী-দাদির, কেউ আবার বাবার কাঁধে মাথা রেখে নিস্তেজ হয়ে আছে। অনেকেই এসেছে জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, র্যাশ বা শ্বাসকষ্ট নিয়ে।
সঙ্গে আসা চিন্তিত অভিভাবকদের চোখেমুখে একটাই আতঙ্ক—এটা কি হাম?
এই আতঙ্কের পেছনে শুধু সংক্রমণ নয়; আছে চিকিৎসা পেতে দেরি, বেডসংকট, টিকার ঘাটতির মতো চিন্তা। সবচেয়ে বড় কথা- অভিভাবকদের অসহায়ত্ব।
তিন হাসপাতাল ঘুরেও মেলেনি বেড, শেষে ভর্তি হলো যমজের একজন
হাম ওয়ার্ডে ঢুকতেই সাত মাস বয়সী খাদিজাকে কোলে নিয়ে বেডের খোঁজে ছুটতে দেখা যায় তার নানী সোনিয়াকে। ছোট্ট খাদিজার হাতে ক্যানোলা, নাকে অক্সিজেনের নল।
শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল তার। ক্লান্ত, কাঁপা কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘তিন হাসপাতাল ঘুরেও বেড পাই নাই। শেষে এইখানে আইসা যমজ দুই বোনের একজনরে ভর্তি করাইতে পারছি।’
“আমরা কইছি, দুইটা বাচ্চারে এক বেডে রাখেন। কিন্তু ওরা কইছে, সিস্টেমে হবে না।
ডিজি স্যারের পায়ে পইড়া কান্দছি, তারপর একজনরে ভর্তি করছে। আরেকজনরে নেয় নাই”
খাদিজার আরেক যমজ বোন ফাতেমাও একইভাবে অসুস্থ। কিন্তু হাসপাতালের ‘সিস্টেম’ ও বেডসংকটের কারণে তাকে ভর্তি নেওয়া হয়নি। ফাতেমাকে মায়ের সঙ্গে বাসায় ফিরে যেতে হয়েছে।
সোনিয়া বলেন, ‘আমরা কইছি, দুইটা বাচ্চারে এক বেডে রাখেন। কিন্তু ওরা কইছে, সিস্টেমে হবে না। ডিজি স্যারের পায়ে পইড়া কান্দছি, তারপর একজনরে ভর্তি করছে। আরেকজনরে নেয় নাই।’
পরিবারের সদস্যরা শুরুতে বুঝতেই পারেননি, যমজ দুই বোন খাদিজা ও ফাতেমা এতটা গুরুতর অসুস্থ। প্রথমে মহাখালীর একটি হাসপাতালে দেখানো হয়। সেখানে একদিন পর্যবেক্ষণে রেখে ওষুধ দিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ১৫ দিন আগে আবার একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন তারা। কয়েকদিন ওষুধ খেয়ে রোববারে ভর্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতেই হঠাৎ খাদিজার অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে।
সোনিয়া বলেন, ‘রাতে ওর অবস্থা খারাপ হইয়া যায়। ডাক্তাররে ফোন দিলে কয়, দ্রুত নিয়া যান। তারপর এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটছি। কোথাও বেড নাই, কোথাও ভর্তি নেয় না। তিনটা হাসপাতাল ঘুরে শেষে এখানে আসছি।’
তিনি জানান, শিশুটির শ্বাসকষ্ট ও দুর্বলতা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে পরিবার আতঙ্কে পড়ে যায়।
‘ওর অবস্থা খুব খারাপ ছিল। আমরা শুধু চাইছি, বাচ্চাটারে বাঁচান’—বলতে বলতেই চোখ মুছছিলেন তিনি।
টিকা নেওয়ার বয়সের আগেই হাম আর নিউমোনিয়া
খাদিজার পাশের বেডেই চিকিৎসাধীন আট মাস ২২ দিন বয়সী ছোট্ট ইভান। কয়েক দিন আগেও সে ছিল স্বাভাবিক। শুরুটা ছিল খুব সাধারণ—হালকা জ্বর, কাশি, মুখে ঘা। পরিবারের কাছে সেটি প্রথমে সাধারণ ভাইরাল সংক্রমণ বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু দ্রুত অবস্থার অবনতি হতে থাকে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ২৭ মার্চ ইভানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসকেরা জানান, সে হামে আক্রান্ত এবং তার সঙ্গে নিউমোনিয়ার জটিলতাও দেখা দিয়েছে।
হাসপাতালে শিশুটির পাশে থাকা তার মা আনিকা জান্নাত বলেন, ‘এখন একটু ভালো আছে। আগে মুখে ঘা ছিল, জ্বরও ছিল। এখন জ্বর কিছুটা কমছে। কিন্তু নিউমোনিয়াটাই বেশি ভয় লাগতেছে। ছোট বাচ্চা অসুস্থ হইলে খুব কষ্ট লাগে।’
তিনি বলেন, ‘পরিবারের সবাই প্রথমে ভেবেছিলেন, এটি হয়তো সাধারণ জ্বর-কাশি। কিন্তু পরে যখন শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকে, তখন দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসেন।’
জন্মের পরও ইভান কিছুটা দুর্বল ছিল। পরিবার জানায়, জন্মের সময় তার ওজন কম ছিল এবং শুরুর দিকে কিছু স্বাস্থ্যগত জটিলতাও ছিল। তবে গত কয়েক মাসে সে মোটামুটি স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে উঠছিল। হঠাৎ এই অসুস্থতায় পুরো পরিবার উদ্বেগে পড়ে যায়।
ইভানের ঘটনাটি এখনকার এক বড় বাস্তবতাকে সামনে আনে—অনেক শিশু ৯ মাস বয়সের আগেই হামে আক্রান্ত হচ্ছে, অথচ নিয়মিত সূচি অনুযায়ী হামের টিকা দেওয়া হয় ৯ মাসে।
হাম ওয়ার্ডে উদ্বেগজনক চিত্র: মার্চেই ১৩০ শিশু
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে হাসপাতালটিতে হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছে ৫৬ শিশু।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১৩৮ জন শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে দুজন, ফেব্রুয়ারিতে ছয়জন এবং মার্চেই ১৩০ জন চিকিৎসা নিয়েছে। অর্থাৎ, মাত্র এক মাসেই সংক্রমণ বিস্ফোরণের মতো বেড়েছে।
বয়সভিত্তিক আক্রান্তের চিত্রও উদ্বেগজনক। বিশেষায়িত ওয়ার্ডে ৬ মাস বয়সী ৪০ জন, ৬ মাস থেকে ৯ মাস বয়সী ৪৬ জন, ৯ মাস থেকে ২ বছর বয়সী ৩৩ জন, ২ বছর থেকে ৫ বছর বয়সী ১৩ জন এবং ৫ বছরের বেশি ৬ জন চিকিৎসা নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১৪ জন। এ হাসপাতালেই হামজনিত কারণে মারা গেছে ৩ শিশু।
‘জ্বর হলেই অভিভাবকরা ভয় পেয়ে চলে আসছেন’
হামের হঠাৎ এমন প্রকোপ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুল হক বাংলানিউজকে বলেন, ২০২৫ সালে দেশে হামের টিকার ঘাটতি ছিল। এর ফলে টিকা কভারেজে বড় ধস নেমেছে।
তিনি বলেন, ‘হাম প্রতিরোধ করতে গেলে দুইটি ডোজ খুব জরুরি। একটি ৯ মাস বয়সে, আরেকটি ১৫ মাস বয়সে দেওয়া হয়। এই দুই ডোজের কভারেজ যদি ৯৫ শতাংশ হয়, তাহলেই সাধারণভাবে আমরা সমাজকে হামের প্রাদুর্ভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে পারব।’
কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ডা. মো. মাহবুবুল হক বলেন, ‘২০২৫ সালে ভ্যাকসিন শর্টেজের কারণে আমাদের কভারেজ ৬০ শতাংশে নেমে এসেছে। এর আগেও প্রথম ডোজের কভারেজ ভালো থাকলেও দ্বিতীয় ডোজের কভারেজ ৮০ থেকে ৮২ শতাংশের মধ্যে ছিল। ফলে একটা গ্যাপ থেকেই গেছে। আর এই গ্যাপ জমতে জমতেই এবার আউটব্রেক হয়েছে।’
‘“২৫ সালে ভ্যাকসিন শর্টেজের কারণে আমাদের কভারেজ ৬০ শতাংশে নেমে এসেছে। এর আগেও প্রথম ডোজের কভারেজ ভালো থাকলেও দ্বিতীয় ডোজের কভারেজ ৮০ থেকে ৮২ শতাংশের মধ্যে ছিল। ফলে একটা গ্যাপ থেকেই গেছে। আর এই গ্যাপ জমতে জমতেই এবার আউটব্রেক হয়েছে”
হাসপাতালের রোগীর চাপ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের আউটডোরে প্রতিদিন ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ রোগী আসে। তবে সবাই হাম রোগী না। এখন যেটা হচ্ছে, জ্বর হলেই অভিভাবকরা ভয় পেয়ে চলে আসছেন- হাম হোক বা না হোক।’
হামকে সাধারণ রোগ ভাবা ‘বিপজ্জনক’
চিকিৎসকদের ভাষায়, হামকে অনেকেই এখনো ‘সাধারণ রোগ’ মনে করেন। কিন্তু এই ধারণা বিপজ্জনক।
অধ্যাপক ডা. মাহবুবুল হক বলেন, ‘হাম সাধারণ রোগ, এটা বলা ঠিক না। এটা একটা ভাইরাসজনিত রোগ। হাম হলে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।’
তিনি ব্যাখ্যা করেন, হাম শুধু র্যাশ বা জ্বরেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং এর পরবর্তী জটিলতাই অনেক সময় প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। হাম হলে শিশুর শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন ভাইরাস নিজে যেমন নিউমোনিয়া করতে পারে, তেমনি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় অন্য ব্যাকটেরিয়াও সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
তার মতে, হাম থেকে যেসব জটিলতা দেখা দিতে পারে, সেগুলোর মধ্যে আছে- নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, অপুষ্টি ও চোখের জটিলতা।
তিনি বলেন, ‘সাধারণত হামের কমপ্লিকেশন হওয়ার কারণেই বাচ্চারা খারাপ অবস্থায় চলে যেতে পারে।’
কেন ৯ মাসের আগের শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে?
এখনকার বড় উদ্বেগের জায়গা হলো- ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরাও হাম নিয়ে হাসপাতালে আসছে। সাধারণ নিয়মে, হামের টিকা দেওয়া হয় ৯ মাস বয়সে। আগে ধারণা ছিল, জন্মের পর শিশুর শরীরে মায়ের কাছ থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডি ৯ মাস পর্যন্ত কিছুটা সুরক্ষা দেয়। কিন্তু এখন সেই ধারণা আগের মতো কার্যকর থাকছে না।
চিকিৎসকদের মতে, ‘এখন দেখা যাচ্ছে, ৬ মাসের পর থেকেই অনেক শিশুর শরীরে সেই সুরক্ষা কমে যায়। তাই ৯ মাসের আগেও শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে।”
তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন, টিকার বয়স ৯ মাস থেকে কমিয়ে আনা কোনো তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। এর জন্য গবেষণা, তথ্য-উপাত্ত ও নীতিগত পর্যালোচনা দরকার।
অবশ্য আউটব্রেকের প্রেক্ষাপটে বিশেষ ম্যাস ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইনে ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান শিশু হাসপাতালের পরিচালক।
টিকা নিয়েও কেন কেউ কেউ আক্রান্ত হয়?
‘অভিভাবকদের অনেকের মধ্যেই এখন প্রশ্ন- টিকা নিলেও কি হাম হতে পারে?’ এ বিষয়ে অধ্যাপক ডা. মাহবুবুল হক বলেন, ‘সব টিকারই ইফিকেসি (কার্যকারিতা) ১০০ শতাংশ না। আপনি যদি ১০০ জনকে টিকা দেন, তার মধ্যে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশের শরীরে ভালো ইমিউনিটি তৈরি হবে। কিছু শিশুর শরীরে পূর্ণ সুরক্ষা তৈরি নাও হতে পারে।’
অর্থাৎ, টিকা নেওয়ার পরও অল্পসংখ্যক শিশু আক্রান্ত হতে পারে। তবে চিকিৎসকদের মতে, টিকা নেওয়া শিশুদের মধ্যে সাধারণত রোগের তীব্রতা কম হয় এবং জটিলতার ঝুঁকিও তুলনামূলকভাবে কম থাকে।
কারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব শিশুর আগে থেকেই হার্টের সমস্যা, কিডনির রোগ, টিবি, অপুষ্টি বা অন্য জটিল অসুস্থতা আছে, তারা বেশি ঝুঁকিতে থাকে। এই শিশুদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আগে থেকেই কম থাকে। ফলে হাম হলে তারা দ্রুত খারাপের দিকে যেতে পারে। এমনকি সাধারণ জ্বর-কাশিও তাদের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়ায়।
নিউমোনিয়া, অক্সিজেন আর নতুন ভরসা ‘বাবল সিপ্যাপ’
হামে আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশের মধ্যে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট দেখা যাচ্ছে। এদের অনেককেই অক্সিজেন সাপোর্ট দিতে হচ্ছে। গুরুতর হলে প্রয়োজন পড়ছে আইসিইউর।
“নিউমোনিয়া হলে শিশুর শরীরে অক্সিজেন কমে যায়। শুধু সাধারণ অক্সিজেন অনেক সময় যথেষ্ট হয় না। বাবল সিপ্যাপ দিলে অক্সিজেনের ঘাটতি অনেকটাই সামাল দেওয়া যায়। এটা চালু করা গেলে অনেক শিশুকে আইসিইউ পর্যন্ত যেতে নাও হতে পারে”
এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকেরা ‘বাবল সিপ্যাপ’ ব্যবহারের উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। অধ্যাপক ডা. মাহবুবুল হক বলেন, ‘নিউমোনিয়া হলে শিশুর শরীরে অক্সিজেন কমে যায়। শুধু সাধারণ অক্সিজেন অনেক সময় যথেষ্ট হয় না। বাবল সিপ্যাপ দিলে অক্সিজেনের ঘাটতি অনেকটাই সামাল দেওয়া যায়। এটা চালু করা গেলে অনেক শিশুকে আইসিইউ পর্যন্ত যেতে নাও হতে পারে।’
তিনি জানান, ‘এ বিষয়ে সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রশিক্ষণ শুরু হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটা চালু করতে পারলে মৃত্যুহার কমানো সম্ভব হবে- ইনশাআল্লাহ।’
রোগী বাড়ছে, কিন্তু বেড বাড়ছে না
হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়লেও অবকাঠামো এখনো সীমিত। শিশু হাসপাতালের ওয়ার্ডে গিয়ে তা চোখে পড়ার মতো। বেডের পাশে বাড়তি চেয়ার, করিডোরে স্বজনদের ভিড়, আর কোথাও কোথাও বেডের অপেক্ষায় থাকা পরিবার—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি চাপ তৈরি করেছে হাসপাতালে।
অধ্যাপক ডা. মাহবুবুল হক বলেন, ‘এখন আমাদের জায়গা আর নাই। আমরা আর বেড বাড়াতে পারব না।’
তবে তিনি জানান, হাসপাতালের সি ব্লক তিনতলা থেকে নয়তলা পর্যন্ত সম্প্রসারণের একটি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অনুমোদন হলে ভবিষ্যতে বেডসংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হবে।
ওয়ার্ডের ভেতর একটাই প্রার্থনা—‘বাচ্চাটা যেন বাঁচে’
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে এখন শুধু রোগের চিকিৎসা চলছে না, চলছে পরিবারগুলোর মানসিক যুদ্ধও। কেউ টিকার বয়সে পৌঁছানোর আগেই আক্রান্ত, কেউ এক বেডের জন্য তিন হাসপাতাল ঘুরে এসেছে, কেউ আবার জানেই না—জ্বরটা সাধারণ, নাকি বিপদের শুরু।
খাদিজার নানী সোনিয়া যখন বলছিলেন, ‘শুধু যেন বাচ্চাটারে বাঁচানো যায়’—তখন বোঝা যাচ্ছিল, এই সংকট কেবল জনস্বাস্থ্যের পরিসংখ্যান নয়। এটি মায়ের, নানীর, বাবার, পুরো পরিবারের বুকের ভেতরের কাঁপন।
আর ছোট্ট ইভানের মায়ের মুখে যখন শোনা যায়, ‘নিউমোনিয়াটাই বেশি ভয় লাগতেছে’—তখন বোঝা যায়, হাম শুধু শরীরে নয়, ভয় ছড়িয়ে দিচ্ছে ঘর থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত।

ডেস্ক : 


















