ঢাকা , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিমরাইল ট্রাক টার্মিনালে চাঁদাবাজি

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ৪৩ মিনিট আগে
  • ০ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের কঠোর নির্দেশ উপেক্ষা করে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল ট্রাক টার্মিনালে চাঁদাবাজি করছেন ভূঁইফোর সংগঠনের নেতা জিএম সুমন মুন্সী। চাঁদা নিলেও ট্রার্মিনালের উন্নয়ন কাজ করছেন না বলে অভিযোগ জানান পরিবহন শ্রমিক ও গাড়ি মালিকরা। ফলে খানাখন্দকে বেহাল অবস্থা হয়েছে ট্রার্মিনালের। বৃষ্টি হলে জমে পানি। পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ।
অভিযোগ উঠেছে, বহুল আলোচিত ৭ হত্যা মামলার প্রধান আসাসি নূর হোসেনের অন্যতম ঘাঁটি ছিল শিমরাইল ট্রাক টার্মিনাল। এ টার্মিনালের কর্তা এখন জাতীয়তাবাদী জিয়া সৈনিক দল নামে ভূঁইফোর সংগঠনের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির আহবায়ক জিএম সুমন মুন্সী। তিনি এলাকার বিতর্কিত লোকদের নিয়ে সংগঠনের কমিটি গঠন করে আধিপত্য বিস্তার ও পরিবহন সেক্টর থেকে চাঁদাবাজি করছেন। টার্মিনালে চারপাশে সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধভাবে গড়ে উঠা দোকানপাট, বিভিন্ন পরিবহনের টিকিট কাউণ্টার ও ট্রার্মিনালে পার্কিং করা ট্রাক থেকে মাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে সুমন মুন্সী। টার্মিনালে কোন চাঁদাবাজি চলবেনা এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নানের এমন নির্দেশনা থাকা সত্তেও সুমন মুন্সী চাঁদাবাজি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক বিএনপি নেতা।
জানতে চাইলে সুমন মুন্সীর নিয়োজিত চাঁদা আদায়কারী হালিম বলেন, গাড়ি ও দোকানপাট থেকে যে চাঁদা আদায় হয় তা থেকে নৈশপ্রহরীদের বেতন দিয়ে, বাকী টাকা হাবিবের মাধ্যমে সুমন মুন্সী নিয়ে যায়। প্রতি গাড়ি থেকে দৈনিক ৫০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয় বলে স্বীকার করেন হালিম। তার হিসেবে ট্রাক থেকে মাসে চাঁদা আদায় হয় প্রায় দেড় লক্ষাধিক আর দোকানপাট থেকে দেড় লাখ টাকা। নৈশপ্রহরীদের বেতন মাসে ১৫ হাজার টাকা। হালিম ৬ জন নৈশপ্রহরীর কথা জানালেও ৩ জন নিশ্চিত হওয়া গেছে, অন্য ৩ জনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। হালিমের কথা মতে ১৫ হাজার টাকা করে ৬ জন নৈশ প্রহরীর বেতন মাসে ৯৬ হাজার টাকা। আর বাকি ২ লক্ষাধীক টাকা সুমন মুন্সী একাই নিয়ে যাচ্ছেন।
শ্রমিক নেতা হাবিব বলেন, এপ্রিল মাস থেকে আমাকে টাকা আদায়ের হিসাব রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মাসে কত টাকা হয় তা এখনো হিসাব করা হয়নি। মাস শেষ হলে বলা যাবে। আমার আগে কে দায়ীত্বে ছিল তা আমার জানা নেই। টার্মিনালের খানাখন্দকের বিষয়ে জানতে চাইলে হাবিব বলেন, আগামী মাসে ট্রামিনালের উন্নয়ন কাজের চিন্তাভাবনা করছি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের পটপরিবর্তনের পর টার্মিনালের নিয়ন্ত্রণ নেন নাসিক ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুম আলী মুন্সী। তিনি সুমন মুন্সীর আপন চাচা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর স্বেচ্ছায় সরে গিয়ে টার্মিনালের নেতার চেয়ারে বসিয়ে দেন ভাতিজা সুমন মুন্সীকে। নিজের কোন গাড়ি না থাকলেও সুমন মুন্সি হয়ে যান বাংলাদেশ কাভার্টভ্যান মালিক সমিতি শিমরাইল শাখার সভাপতি। সাধারণ সম্পাদক করা হয় উজ্জল হোসেনকে। বাংলাদেশ আন্ত:জিলা ট্রাক চালক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতি, নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রান্সপোর্ট এজেন্সী মালিক সমিতি নামে পৃথক তিনটি সংগঠন রয়েছে শিমরাইল ট্রাক টার্মিনালে। প্রতিটি সংগঠনের আলাদা কমিটি থাকলেও মূলহোতা একজন। বর্তমানে সেই হোতা হলেন সুমন মুন্সী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিএনপি নেতা বলেন, আজহারুল ইসলাম মান্নান এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর শিমরাইল ট্রাক টার্মিনালের চাঁদা আদায় করতে নিষেধ করেন। ফলে চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে পড়ে। এমপি স্থানীয় প্রশাসনের চোকে ধুলা দিয়ে সমুন মুন্সী নৈশপ্রহরীদের বেতন দেওয়ার কথা বলে চাঁদা আদায় করছে। নৈশপ্রহরীদের বেতনের জন্য ২০ টাকা করে চাঁদা নেওয়ার কথা থাকলেও তিনি নিচ্ছেন গাড়িপ্রতি দৈনিক ৫০ টাকা করে।
চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে সুমন মুন্সী বলেন, নিরাপত্তাকর্মীদের বেতন দেওয়ার জন্য ৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। মাসে কত টাকা চাঁদা আদায় হয় তা আমি জানিনা। প্রতি মাসে নিজের পকেটের টাকা খচর করে সংগঠন চালাচ্ছি।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, শিমরাইল ট্রাক ট্রার্মিনালে চাঁদা আদায়ের বিষয়ে আমার জানা নেই। কেউ কোন অভিযোগ করেনি। খোঁজখবর নিয়ে দেখছি। চাঁদাবাজির প্রমাণ পেয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

শিমরাইল ট্রাক টার্মিনালে চাঁদাবাজি

আপডেট সময় ৪৩ মিনিট আগে

স্টাফ রিপোর্টার
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের কঠোর নির্দেশ উপেক্ষা করে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল ট্রাক টার্মিনালে চাঁদাবাজি করছেন ভূঁইফোর সংগঠনের নেতা জিএম সুমন মুন্সী। চাঁদা নিলেও ট্রার্মিনালের উন্নয়ন কাজ করছেন না বলে অভিযোগ জানান পরিবহন শ্রমিক ও গাড়ি মালিকরা। ফলে খানাখন্দকে বেহাল অবস্থা হয়েছে ট্রার্মিনালের। বৃষ্টি হলে জমে পানি। পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ।
অভিযোগ উঠেছে, বহুল আলোচিত ৭ হত্যা মামলার প্রধান আসাসি নূর হোসেনের অন্যতম ঘাঁটি ছিল শিমরাইল ট্রাক টার্মিনাল। এ টার্মিনালের কর্তা এখন জাতীয়তাবাদী জিয়া সৈনিক দল নামে ভূঁইফোর সংগঠনের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির আহবায়ক জিএম সুমন মুন্সী। তিনি এলাকার বিতর্কিত লোকদের নিয়ে সংগঠনের কমিটি গঠন করে আধিপত্য বিস্তার ও পরিবহন সেক্টর থেকে চাঁদাবাজি করছেন। টার্মিনালে চারপাশে সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধভাবে গড়ে উঠা দোকানপাট, বিভিন্ন পরিবহনের টিকিট কাউণ্টার ও ট্রার্মিনালে পার্কিং করা ট্রাক থেকে মাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে সুমন মুন্সী। টার্মিনালে কোন চাঁদাবাজি চলবেনা এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নানের এমন নির্দেশনা থাকা সত্তেও সুমন মুন্সী চাঁদাবাজি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক বিএনপি নেতা।
জানতে চাইলে সুমন মুন্সীর নিয়োজিত চাঁদা আদায়কারী হালিম বলেন, গাড়ি ও দোকানপাট থেকে যে চাঁদা আদায় হয় তা থেকে নৈশপ্রহরীদের বেতন দিয়ে, বাকী টাকা হাবিবের মাধ্যমে সুমন মুন্সী নিয়ে যায়। প্রতি গাড়ি থেকে দৈনিক ৫০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয় বলে স্বীকার করেন হালিম। তার হিসেবে ট্রাক থেকে মাসে চাঁদা আদায় হয় প্রায় দেড় লক্ষাধিক আর দোকানপাট থেকে দেড় লাখ টাকা। নৈশপ্রহরীদের বেতন মাসে ১৫ হাজার টাকা। হালিম ৬ জন নৈশপ্রহরীর কথা জানালেও ৩ জন নিশ্চিত হওয়া গেছে, অন্য ৩ জনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। হালিমের কথা মতে ১৫ হাজার টাকা করে ৬ জন নৈশ প্রহরীর বেতন মাসে ৯৬ হাজার টাকা। আর বাকি ২ লক্ষাধীক টাকা সুমন মুন্সী একাই নিয়ে যাচ্ছেন।
শ্রমিক নেতা হাবিব বলেন, এপ্রিল মাস থেকে আমাকে টাকা আদায়ের হিসাব রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মাসে কত টাকা হয় তা এখনো হিসাব করা হয়নি। মাস শেষ হলে বলা যাবে। আমার আগে কে দায়ীত্বে ছিল তা আমার জানা নেই। টার্মিনালের খানাখন্দকের বিষয়ে জানতে চাইলে হাবিব বলেন, আগামী মাসে ট্রামিনালের উন্নয়ন কাজের চিন্তাভাবনা করছি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের পটপরিবর্তনের পর টার্মিনালের নিয়ন্ত্রণ নেন নাসিক ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুম আলী মুন্সী। তিনি সুমন মুন্সীর আপন চাচা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর স্বেচ্ছায় সরে গিয়ে টার্মিনালের নেতার চেয়ারে বসিয়ে দেন ভাতিজা সুমন মুন্সীকে। নিজের কোন গাড়ি না থাকলেও সুমন মুন্সি হয়ে যান বাংলাদেশ কাভার্টভ্যান মালিক সমিতি শিমরাইল শাখার সভাপতি। সাধারণ সম্পাদক করা হয় উজ্জল হোসেনকে। বাংলাদেশ আন্ত:জিলা ট্রাক চালক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতি, নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রান্সপোর্ট এজেন্সী মালিক সমিতি নামে পৃথক তিনটি সংগঠন রয়েছে শিমরাইল ট্রাক টার্মিনালে। প্রতিটি সংগঠনের আলাদা কমিটি থাকলেও মূলহোতা একজন। বর্তমানে সেই হোতা হলেন সুমন মুন্সী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিএনপি নেতা বলেন, আজহারুল ইসলাম মান্নান এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর শিমরাইল ট্রাক টার্মিনালের চাঁদা আদায় করতে নিষেধ করেন। ফলে চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে পড়ে। এমপি স্থানীয় প্রশাসনের চোকে ধুলা দিয়ে সমুন মুন্সী নৈশপ্রহরীদের বেতন দেওয়ার কথা বলে চাঁদা আদায় করছে। নৈশপ্রহরীদের বেতনের জন্য ২০ টাকা করে চাঁদা নেওয়ার কথা থাকলেও তিনি নিচ্ছেন গাড়িপ্রতি দৈনিক ৫০ টাকা করে।
চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে সুমন মুন্সী বলেন, নিরাপত্তাকর্মীদের বেতন দেওয়ার জন্য ৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। মাসে কত টাকা চাঁদা আদায় হয় তা আমি জানিনা। প্রতি মাসে নিজের পকেটের টাকা খচর করে সংগঠন চালাচ্ছি।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, শিমরাইল ট্রাক ট্রার্মিনালে চাঁদা আদায়ের বিষয়ে আমার জানা নেই। কেউ কোন অভিযোগ করেনি। খোঁজখবর নিয়ে দেখছি। চাঁদাবাজির প্রমাণ পেয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।