ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রূপগঞ্জে ভূমিদস্যু ‘আন্ডা রফিক’র বিরুদ্ধে

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ৭ ঘন্টা আগে
  • ১ বার পড়া হয়েছে

এলাকাবাসীর প্রতিবাদ সভা
স্টাফ রিপোর্টার
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নাওড়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা ও আলোচিত ভূমিদস্যু রফিকুল ইসলাম (আন্ডা রফিক) কর্তৃক মসজিদ, মাদরাসা, কবরস্থান, সরকারি রাস্তা ও খাস জমি এবং সাধারণ মানুষের জমি জোরপূর্বক দখলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা করেছে এলাকাবাসী।
‎রবিবার (০৫ এপ্রিল) বিকালে স্থানীয় ১নং ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে নাওড়া পশ্চিমপাড়া এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণের উদ্যোগে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
‎প্রতিবাদ সভায় বক্তারা রফিকুল ইসলাম ও তার ভাই মিজানের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তাদের দাবি ছিলো আহলে হাদিস জামে মসজিদ, মাদরাসা, কবরস্থান ও ঈদগাঁর জমি রফিক তার নিজের ও ছেলেদের নামে রেজিস্ট্রেশন করে আত্মসাৎ করেছেন। ২০১৪ সালে মসজিদটি ৮ তলা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অত্র মসজিদের প্রায় ৮ বিঘা জমি রেজিষ্ট্রেশন করে নিলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৩ তলা করে বাকি টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি। সরকারি রাস্তা, খাস জমি এবং সাধারণ মানুষের পৈতৃক সম্পত্তি অস্ত্রের মুখে দখল করা হয়েছে। জনৈক ভুক্তভোগী জানান, তার ১০ বিঘা জমি রফিক দখল করে রাখলেও থানায় অভিযোগ করে কোনো প্রতিকার মেলেনি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ৫০ লক্ষ টাকার জমি মাত্র ৩ লক্ষ টাকায় লিখে দিতে বাধ্য করেছেন এই কথিত নেতা।
‎সভায় ১নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি ও মসজিদ কমিটির সভাপতি আবদুল হালিম বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন এই ফ্যাসিস্ট নেতার কাছে জিম্মি ছিলাম। সে শুধু মানুষের জমিই খায়নি, আল্লাহর ঘরের জমিও নিজের নামে লিখে নিয়েছে। আমরা এই ডাকাতের হাত থেকে মুক্তি চাই এবং অবিলম্বে সব জমি ফেরত চাই।
‎অন্যান্য বক্তারা রফিকুল ইসলামকে ‘চরিত্রহীন’ ও ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, সে এ পর্যন্ত ১৪টি বিয়ে করেছে এবং ক্ষমতার দাপটে পুরো এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। এমনকি সরকারি হালট বাদ দিয়ে মানুষের ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে রাস্তা করে সেই জমির মালিকদের কোনো ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়নি।
‎প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন মসজিদ কমিটির সেক্রেটারী ও বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন নয়ন, প্রাক্তন মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি দবির হোসেন, বর্তমান মসজিদ কমিটির সহ কোষাধ্যক্ষ রাসেল, কায়েতপাড়া ১নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি আব্দুল হালিম, ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী এনায়েত উল্লাহ ও ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সদ্যস মনির হোসেন ।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক মো. রেজাউল করিম, নবী ডাক্তার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
‎সভা শেষে এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে ঘোষণা করেন যে, অনতিবিলম্বে সরকারি খাস জমি, জনগণের জমি এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জায়গা দখলমুক্ত করতে হবে। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা। সভা থেকে প্রশাসনের নিকট এই ‘ভূমিদস্যু’ রফিকের সকল অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিচার ও লুণ্ঠিত সম্পদ উদ্ধারের জোর দাবি জানানো হয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

রূপগঞ্জে ভূমিদস্যু ‘আন্ডা রফিক’র বিরুদ্ধে

আপডেট সময় ৭ ঘন্টা আগে

এলাকাবাসীর প্রতিবাদ সভা
স্টাফ রিপোর্টার
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নাওড়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা ও আলোচিত ভূমিদস্যু রফিকুল ইসলাম (আন্ডা রফিক) কর্তৃক মসজিদ, মাদরাসা, কবরস্থান, সরকারি রাস্তা ও খাস জমি এবং সাধারণ মানুষের জমি জোরপূর্বক দখলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা করেছে এলাকাবাসী।
‎রবিবার (০৫ এপ্রিল) বিকালে স্থানীয় ১নং ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে নাওড়া পশ্চিমপাড়া এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণের উদ্যোগে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
‎প্রতিবাদ সভায় বক্তারা রফিকুল ইসলাম ও তার ভাই মিজানের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তাদের দাবি ছিলো আহলে হাদিস জামে মসজিদ, মাদরাসা, কবরস্থান ও ঈদগাঁর জমি রফিক তার নিজের ও ছেলেদের নামে রেজিস্ট্রেশন করে আত্মসাৎ করেছেন। ২০১৪ সালে মসজিদটি ৮ তলা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অত্র মসজিদের প্রায় ৮ বিঘা জমি রেজিষ্ট্রেশন করে নিলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৩ তলা করে বাকি টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি। সরকারি রাস্তা, খাস জমি এবং সাধারণ মানুষের পৈতৃক সম্পত্তি অস্ত্রের মুখে দখল করা হয়েছে। জনৈক ভুক্তভোগী জানান, তার ১০ বিঘা জমি রফিক দখল করে রাখলেও থানায় অভিযোগ করে কোনো প্রতিকার মেলেনি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ৫০ লক্ষ টাকার জমি মাত্র ৩ লক্ষ টাকায় লিখে দিতে বাধ্য করেছেন এই কথিত নেতা।
‎সভায় ১নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি ও মসজিদ কমিটির সভাপতি আবদুল হালিম বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন এই ফ্যাসিস্ট নেতার কাছে জিম্মি ছিলাম। সে শুধু মানুষের জমিই খায়নি, আল্লাহর ঘরের জমিও নিজের নামে লিখে নিয়েছে। আমরা এই ডাকাতের হাত থেকে মুক্তি চাই এবং অবিলম্বে সব জমি ফেরত চাই।
‎অন্যান্য বক্তারা রফিকুল ইসলামকে ‘চরিত্রহীন’ ও ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, সে এ পর্যন্ত ১৪টি বিয়ে করেছে এবং ক্ষমতার দাপটে পুরো এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। এমনকি সরকারি হালট বাদ দিয়ে মানুষের ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে রাস্তা করে সেই জমির মালিকদের কোনো ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়নি।
‎প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন মসজিদ কমিটির সেক্রেটারী ও বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন নয়ন, প্রাক্তন মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি দবির হোসেন, বর্তমান মসজিদ কমিটির সহ কোষাধ্যক্ষ রাসেল, কায়েতপাড়া ১নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি আব্দুল হালিম, ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী এনায়েত উল্লাহ ও ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সদ্যস মনির হোসেন ।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক মো. রেজাউল করিম, নবী ডাক্তার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
‎সভা শেষে এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে ঘোষণা করেন যে, অনতিবিলম্বে সরকারি খাস জমি, জনগণের জমি এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জায়গা দখলমুক্ত করতে হবে। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা। সভা থেকে প্রশাসনের নিকট এই ‘ভূমিদস্যু’ রফিকের সকল অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিচার ও লুণ্ঠিত সম্পদ উদ্ধারের জোর দাবি জানানো হয়।