ঢাকা , বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হামে মৃতদের ৯২ শতাংশই শিশু

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ৪ ঘন্টা আগে
  • ২ বার পড়া হয়েছে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
দেশজুড়ে বাড়তে থাকা হাম প্রাদুর্ভাবের মধ্যে রোগ শনাক্তে ধীরগতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সরকারি হিসাবে ১৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ২১ জনের।
অন্যদিকে একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১১৮ জন। সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ১১২ জনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মৃতদের মধ্যে প্রায় ৯২ দশমিক ৮৬ শতাংশই শিশু। বাকিরা প্রাপ্ত বয়স্ক।
রাজধানী ঢাকার পাঁচটি হাসপাতালসহ ৬৪টি জেলার হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া এবং চিকিৎসাধীন রোগীদের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, মৃত শিশুদের মধ্যে প্রায় ৭২ শতাংশ শতাংশের বয়স শূন্য থেকে ৫ বছরের মধ্যে।
১২ দশমিক ২৬ শতাংশের বয়স ৫ থেকে ১৮ বছর। বাকি ১৭ শতাংশ প্রাপ্ত বয়স্ক। এছাড়া সারাদেশে প্রায় তিন হাজার রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা আট হাজার ৫৩৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৮০ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ৯৯ জন। এসময়ে সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন পাঁচ হাজার ৯৪০ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছেন ছয় হাজার ১৬ জন। মৃত্যুর হিসাবে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে সবচেয়ে বেশি পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। একই সময়ে জেলার তালিকাতেও ঢাকায় সর্বোচ্চ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
রাজধানীর হাসপাতালের চিত্র
রাজধানীর পাঁচটি হাসপাতালের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে বাংলানিউজ। এর মধ্যে মহাখালীর ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালে হাম-সংক্রান্ত জটিলতায় মারা গেছে ৩ শিশু। এখানে রোগী ভর্তি রয়েছে ২৭৭। মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালেও হাম রোগীদের জন্য একটি ওয়ার্ড নির্ধারিত হয়েছে। যেখানে ভর্তি আছে ৪২ জন। এখানে কারো মৃত্যু হয়নি। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে মার্চ ও এপ্রিল মাসে ৮০৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৮ জন মারা গেছেন। বর্তমানে ৬২ শিশু চিকিৎসাধীন।
শহীদ সোহরাওয়াার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ সেহাব উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, বর্তমানে হাম আক্রান্ত ১০০ জন চিকিৎসাধীন। আক্রান্ত সবাই শিশু। যাদের বেশিরভাগের বয়স ১ বছরের নিচে। হাম আক্রান্ত হয়ে এ হাসপাতালে ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যু হয়েছে ২ শিশুর।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত ৬১ শিশু চিকিৎসাধীন ছিল। এ হাসপাতালে এ পর্যন্ত চার শিশু মারা গেছে।
হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহবুবুল হক বাংলানিউজকে বলেন, ৬০টি বিশেষ শয্যায় রোগী ভর্তি আছে। এর বাইরে একক কেবিন, আইসোলেশন ওয়ার্ডেও শিশুদের ভর্তি করতে হচ্ছে। যে শিশুদের ভর্তি না করলে অন্য হাসপাতালে যেতে যেতে অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে। তাদের ফিরিয়ে দেওয়ারও উপায় থাকে না।
তবে রাজধানীর মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (মিটফোর্ড) ছাড়া সব হাসপাতালে বিশেষায়িত হাম ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। এছাড়া দেশের সব মেডিকেল কলেজ ও সব সরকারি হাসপাতালে বিশেষায়িত হাম ওয়ার্ড চালু হয়েছে।
যেসব জেলায় প্রাণহানী হয়েছে
টাঙ্গাইল জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশু মারা গেছে। তাদের মধ্যে রয়েছে ১৩ মাস বয়সী সাফা এবং ৮ মাস বয়সী সাইফান। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে হাসপাতালে ২৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য পাওয়া যায়নি।
ময়মনসিংহ জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে ছয় শিশু মারা গেছে। এসব শিশুর ৯০ ভাগের বয়স ৯ মাসের কম। এ বছর হামে আক্রান্ত হয়ে ১৮১ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।
রাজশাহী বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে ১১ শিশু মারা গেছে। হামে আক্রান্ত ও হামের লক্ষ্মণ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৯৬২ জন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও পাবনায় রোগীর সংখ্যা বেশি। এ দুই জেলায় ৯ মাসের কম বয়সের শিশুর সংখ্যা বেশি।
বগুড়া জেলায় ১০ মাস বয়সী ১ শিশু বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। তবে শিশুর শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহের জন্য অভিভাবকদের সম্মতি না পাওয়ায় পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. খুরশিদ আলম জানান, গত এক মাসে উপজেলার ৩৬ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে হামের রোগীদের জন্য আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু রয়েছে। সেখানে ১০ জন শিশু চিকিৎসাধীন।
নাটোরে হামে আক্রান্ত হয়ে কাসফি নামে ৩ মাস বয়সী ১টি ছেলে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ জেলায় সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা ৪৯ জন।
নওগাঁ জেলায় এখন পর্যন্ত ১টি ছেলে শিশু মারা গেছে। নওগাঁ সদর হাসপাতালে ২ জন চিকিৎসাধীন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ শিশু মারা গেছে। তাদের মধ্যে ৪ জনের বয়স ৯ মাসের নিচে। ১ জনের বয়স ২ বছর ৪ মাস। মৃত্যুর সব ক্ষেত্রে হামের স্পষ্ট লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা গেছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে ৫৫ শিশু হাসপাতালে ভর্তি আছে, যাদের সবার হামের উপসর্গ রয়েছে। এ পর্যন্ত জেলায় মোট ৩৬৪ শিশু আক্রান্ত হয়েছে।
গোপালগঞ্জ জেলায় ১০ মাস বয়সের ১টি কন্যা শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। জেলার সিভিল সার্জন আবু সাঈদ মোহাম্মদ ফারুক জানিয়েছেন, এটি এ জেলায় হামে মৃত্যুর একমাত্র ঘটনা।
জেলায় বর্তমানে ১৯ শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। যারা হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। এ পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৯১ শিশু আক্রান্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৩ জনের হাম ধরা পড়েছে।
নারায়ণগঞ্জে হামে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ২টি ছেলে শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে নুহাশ নামে ১ বছর বয়সী এবং আরিয়ান ইসলাম রাইয়ান নামে ২ বছর বয়সী শিশু মারা যায়। ঈদ পরবর্তী সময়ে এ পর্যন্ত ৯ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে বর্তমানে কেউ ভর্তি নেই।
বরিশালের বিভাগের ৬ জেলায় এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে ৫ জন এবং নিশ্চিত হামে ৪ জন মারা গেছে। মৃতদের মধ্যে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বাকিরা ঢাকায় মারা গেছে। তবে ঠিকানা অনুযায়ী মৃত্যুর তথ্যে তাদের হিসেব দেখানো হয়েছে।
যার মধ্যে শিশু ছাড়াও বয়স্ক পুরুষ রয়েছেন। এছাড়া এ বিভাগে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৫৯৩ জন। যার মধ্যে ৪২০ জন সন্দেহজনক হাম রোগী বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মোট সন্দেহজনক রোগীর মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ পর্যন্ত ৬৩ জন নিশ্চিত হাম রোগী বরিশাল বিভাগে শনাক্ত হয়েছে।
শরীয়তপুরে হামে আক্রান্ত হয়ে ২ জন মারা গেছে। সেখানে বিভিন্ন হাসপাতালে ১৪ জন রোগী হামের চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে একজন প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ, বাকি সবাই শিশু। মাদারীপুরে হামে আক্রান্ত হয়ে আদিবা নামে ৩ মাস বয়সী ১ শিশু মারা গেছে। এ জেলায় এ পর্যন্ত ২৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
লক্ষ্মীপুরে হামের প্রকোপ কম। এ জেলায় নুসাইবা নামে ৯ মাস বয়সী ১ শিশু মারা গেছে। এছাড়া এ বছর এখানে মাত্র ৪ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
নেত্রকোনা জেলায় এ পর্যন্ত ১০ জন ল্যাব কনফার্ম পজিটিভ হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। জেলার হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে ৩৯ জন সন্দেহজনক হাম রোগী ভর্তি আছে।
যশোর জেলায় এ বছর পরবর্তী বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মোট ১৩ জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে দেড় বছর বয়সী ১ জন, ৩ বছর বয়সী ১ জন, ৫ বছর বয়সী ১ জন, ১৬ বছর বয়সী ১ জন, ৩২ থেকে ৫৫ বছর বয়সী ৮ জন এবং ৭০ বছর বয়সী একজন আছেন। তাদের মধ্যে নারী ৬ জন, পুরুষ ৪ জন এবং শিশু ৩ জন। বর্তমানে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ৩৮ জন চিকিৎসাধীন।
কুষ্টিয়া জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে আফরান নামে ৮ মাস বয়সী ১ শিশু মারা গেছে। এ বছর কুষ্টিয়া সদর ও কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপতাল এবং ৬টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের লক্ষ্মণ নিয়ে ২৮৪ জন শিশু ভর্তি হয়েছে।
রংপুর জেলার রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরাসরি হামে কেউ মারা না গেলেও হাম পরবর্তী অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৬ জন মারা গেছেন। ভর্তি হয়েছেন ৩৩১ জন।
নীলফামারী জেলায় ১১ দিন বয়সী নবজাতক আফরিন জান্নাত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এছাড়া ৬ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জনের তথ্যে জানা যায়, এ জেলায় রাফি (৫), আয়েশা সিদ্দিকা (৬) এবং সাওয়ান (৯) নামে ৩ শিশু মারা গেছে। হাম সন্দেহে ৮৭ জন রোগী বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়, মোট হাম রোগীর সংখ্যা ১২ জন। সবাই শিশু।
কক্সবাজার জেলায় ৩টি মেয়ে ও ২টি শিশু মারা গেছে।
তাদের মধ্যে আয়েশা ছিদ্দিকার বয়স ৫ মাস, সাফওয়ানের ৯ মাস, রুসফির ৭ মাস, জেসিনের ৯ মাস এবং রাফিজার ৭ মাস। চিকিৎসাধীন আছেন ৩১ জন।
কুমিল্লা জেলায় হাম সন্দেহে ৩ শিশু মারা গেছে। মোট আক্রান্ত ৯৫ জন।
চাঁদপুর জেলায় হামের প্রাাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় এ পর্যন্ত তিনজন শিশু মারা গেছে। চাঁদপুর সদর ও জেলার ৭টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখন পর্যন্ত ২৭ জন শিশু আইসোলেশনে ভর্তি রয়েছে।
সিলেটে হামে আক্রান্ত হয়ে ২ মাস বয়সী ১টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সিলেট বিভাগে হাম ও রুবেলা রোগী হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬ জন শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে ৪৪ জন সন্দেহজনক রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ মাস বয়সী রাহিমা মারা গেছে। জেলার হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল ও বিভিন্ন বেসরকারী হাসপাতালে বর্তমানে ৪১ জন শিশু চিকিৎসাধীন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৯ জনে। যার মধ্যে অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।
যেসব জেলায় কেউ মারা যায়নি
রাজবাড়ী জেলায় এ পর্যন্ত হামে কোনো মৃত্যু হয়নি। এ পর্যন্ত ৩২ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। সদর হাসপাতালে উপসর্গ নিয়ে বর্তমানে ৫ শিশু চিকিৎসাধীন।
মানিকগঞ্জ জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। জেলায় বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতাল মিলিয়ে ২১ জন শিশু চিকিৎসাধীন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪১ জন, যাদের মধ্যে অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। চিকিৎসকদের ধারণা, আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৯৫ শতাংশই টিকা নেয়নি।
কিশোরগঞ্জে মোট ৪০ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছে। যার মধ্যে ২০ জন শিশু, ১৫ জন নারী এবং ৫ জন পুরুষ। তবে মৃত্যুর কোনো ঘটনা নেই। মৌসুমি পরিবর্তন এবং ঠাণ্ডাজনিত সমস্যাকে প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির কারণ বলা হচ্ছে।
নরসিংদীতেও এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর নেই। সেখানে ১৪ জন শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, যাদের মধ্যে ১ জনের বয়স ১৩ বছর।
সিরাজগঞ্জে বর্তমানে ১৩ শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। চলতি বছরে মোট আক্রান্ত ৩৪ জনের মধ্যে ২১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। এ জেলায় কেউ মারা যায়নি।
গাইবান্ধা জেলায় এখন পর্যন্ত পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হয়নি। তবে উপসর্গ নিয়ে গত সপ্তাহে ৯ শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. মো. রফিকুজ্জামান বলেন, টিকা নেওয়ার পরও হাম হতে পারে। টিকা শিশুকে সুরক্ষা দেয়। কিন্তু বড়দের মাধ্যমে বা শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ঠাকুরগাঁওয়ে এ পর্যন্ত ৩১ জন সম্ভাব্য আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। যার মধ্যে ২ জন ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত। বর্তমানে ৩ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে এবং সবাই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থতার পথে।
নোয়াখালী জেলায় এখন পর্যন্ত হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু না হলেও জেলার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে বর্তমানে ২১ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী জানান, প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে।
ফেনীতে চলতি মৌসুমে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। গত ৪৮ ঘণ্টায় ৭ সন্দেহভাজন শিশু ভর্তি হয়েছে। যার মধ্যে ২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। চিকিৎসকরা বলছেন, এমআর টিকার ২ ডোজ সম্পন্ন না করায় শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে।
খুলনায় হাম বা হাম পরবর্তী কোনো জটিলতায় কেউ মারা যায়নি। এখানে হাসপাতালে ৪ শিশু চিকিৎসা নিয়েছে।
গাজীপুর জেলাতেও হামের কারণে কারো মৃত্যু হয়নি। তবে হামে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট ৬০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছে।
ঝিনাইদহেও কোনো মৃত্যুর ঘটনা নেই। বর্তমানে ১৪ শিশু ভর্তি রয়েছে।
মাগুরা জেলায় হাম সংক্রমণের ঘটনা বাড়লেও এ পর্যন্ত কেউ মারা যায়নি। বর্তমানে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ৮ জন রোগী ভর্তি রয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলায় এ পর্যন্ত হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। হাসপাতালে বর্তমানে কোনো রোগী চিকিৎসাধীন নেই। তবে সাতক্ষীরা জেলার ৬২ জনের নমুনা পরীক্ষা করার জন্য ঢাকা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ১ জনের হাম পজিটিভ এসেছে এবং ১ জনের রুবেলা শনাক্ত হয়েছে।
নড়াইলে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা নেই। বর্তমানে হামে আক্রান্ত ১ শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে এবং ৪ জন সন্দেহভাজন রোগী রয়েছে। গত ১ মাসে ৪ জন নিশ্চিত রোগী এবং ২৪ জন সন্দেহভাজন শনাক্ত হয়েছে।
বাগেরহাট জেলায় এখন পর্যন্ত হামে কেউ মারা যায়নি। বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে বর্তমানে কোনো রোগী চিকিৎসাধীন নেই। তবে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জন, চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন এবং কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি আছে।
হবিগঞ্জ জেলায় কেউ মারা না গেলেও জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুখলিছুর রহমান উজ্জ্বল ৭ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানান। তবে হাম সন্দেহে চিকিৎসাধীন আছে ২১ জন। সবাই শিশু।
শেরপুরে এখন পর্যন্ত কেউ মারা যায়নি। হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট ২৪ জন চিকিৎসা নিয়েছে। সবার বয়স ৫ বছরের নিচে।
সুনামগঞ্জ জেলায় হামে কারো মৃত্যু হয়নি। সুনামগঞ্জে ৭ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছে।
এছাড়া মৌলভীবাজার জেলাতেও হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। এ জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে আটজন চিকিৎসাধীন আছে। তাদের মধ্যে ৬ জন শিশু ও ২ জন পুরুষ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় হামে এ পর্যন্ত কারো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫১ জন ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে ৭ শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে।
জামালপুরে হামে আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা না গেলেও হাম সন্দেহে ৮ শিশু হাসপাতালে ভর্তি আছে। এ জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা কম।
চুয়াডাঙ্গা জেলায় হামে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ৩ শিশু হাসপাতালে ভর্তি আছে। তাদের মধ্যে ২ জন মেয়ে ও ১ জন ছেলে শিশু।
কুড়িগ্রাম জেলায়ও কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। এ পর্যন্ত এ জেলায় ১৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তার মধ্যে ৩ জন হামে আক্রান্ত ছিলেন। তারা ৩ জনই সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন। তাদের মধ্যে শিশু নেই।
দিনাজপুর জেলায় কেউ মারা যায়নি। তবে হাম সন্দেহে ১টি ছেলে ও ১টি মেয়ে শিশু চিকিৎসাধীন আছে।
লালমনিরহাট জেলা থেকে এখন পর্যন্ত কারো মৃত্যুর খবর আসেনি। তবে এ জেলার জেলার ৫টি উপজেলা হাসপাতালে ১২ জন চিকিৎসাধীন। সবাই শিশু। সবার বয়স ৫ বছরের নিচে।
জয়পুরহাট জেলায় হামে এ পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। জেলা সদর হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৬ জন শিশু বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
তাদের মধ্যে কেউই গুরুতর অবস্থায় নেই। জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রাশেদ মোবারক জুয়েল বলেন, হামের প্রকোপ বাড়ার প্রধান কারণ হলো টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন এবং অভিভাবকদের সচেতনতার অভাব।
তিনি সতর্ক করে বলেন, শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা সময়মতো নেওয়াই এ রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
মেহেরপুর জেলায় কেউ মারা যায়নি। এ পর্যন্ত হাম সন্দেহে হাসপাতালে ৩৫ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। বেশিরভাগই শিশু। পাবনার স্থানীয় হাসপাতালে কেউ মারা যায়নি। বর্তমানে পাবনা সদর হাসপাতালে ৪১ জন ভর্তি আছে। যাদের ৩৬ জন শিশু, ৫ জন প্রাপ্ত বয়স্ক।
পটুয়াখালীতে কোনো মৃত্যুর খবর নেই। বর্তমানে ৪৩ জন শিশু চিকিৎসাধীন। এ নিয়ে এবং মোট চিকিৎসা নিয়েছে ১০৪ জন। টিকাদানে ঘাটতি, জনসচেতনতার অভাব এবং মৌসুমি সংক্রমণ বৃদ্ধিকে এখানে প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। পিরোজপুর জেলায় এখন পর্যন্ত কেউ মারা যায়নি। এখানে আক্রান্তের সংখ্যাও কম। এ পর্যন্ত ৯ জন আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। এখানে গুরুতরভাবে অসুস্থ কেউ নেই। ঝালকাঠি জেলায় কোনো মৃত্যু হয়নি। সন্দেহজনক ৫ জন হাসপাতলে চিকিৎসাধীন।
হামমুক্ত যেসব জেলা
বান্দরবানে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত বা মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি। হাসপাতালে কোনো রোগীও ভর্তি নেই। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে হামের প্রাাদুর্ভাব বাড়ার ঝুঁকি থাকলেও জেলাটিতে এখনো এর প্রভাব পড়েনি।
এদিকে ম্যালেরিয়ার কিছু রোগী পাওয়া গেলেও তারা চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং এ বছর এ রোগে কোনো মৃত্যুর খবর নেই। একই ভাবে রাঙামাটি ও পঞ্চগড়ে এখন পর্যন্ত হামের কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি।
অন্যদিকে খাগড়াছড়ি জেলায় ১১ জন শিশুর নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে শনাক্ত হওয়া কোনো রোগী ভর্তি নেই। চিকিৎসকদের মতে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়মিত টিকা না দেওয়া এবং পুষ্টিহীনতা শিশুদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
দেড় দশকে দেশে হামে সর্বোচ্চ মৃত্যু, বেশি মৃত্যুহারও
চলতি বছরে হামে যত মৃত্যু হয়েছে, তা গত দেড় দশকে সর্বোচ্চ। এ সময়ে পাঁচবার হামে মৃত্যুর ঘটনা জানা যায়।
২০১৭ সালে সবচেয়ে বেশি মারা যায় ১০ জন। ডব্লিউএইচওর দেওয়া বাংলাদেশ-সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, ২০০৪ সালে দেশে ৯ হাজার ৭৪৩টি হাম রোগীর তথ্য পাওয়া যায়। পরের বছর বেড়ে দাঁড়ায় ২৫ হাজার ৯৩৪ জনে। এরপর ২০০৬ সালে তা নেমে আসে ৬ হাজার ১৯২-এ। ২০০৭ সালে ২ হাজার ৯২৪, ২০০৮-এ ২ হাজার ৬৬০, ২০০৯-এ ৭১৮, আর ২০১০ সালে ৭৮৮।
অর্থাৎ ২০০৪ থেকে ২০০৫-এর ভয়াবহ অবস্থার পর আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত কমে আসে। ২০১১ সালে দেশে হাম রোগীর সংখ্যা আবার লাফ দিয়ে ৫ হাজার ৬২৫-এ ওঠে। ২০১২ সালে তা ১ হাজার ৯৮৬-এ নেমে আসে। ২০১৩ সালে ২৩৭, ২০১৪ সালে ২৮৯, ২০১৫ সালে ২৪০-এ তিন বছর তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় ছিল। কিন্তু ২০১৬ সালে আবার আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয় ৯৭২।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

হামে মৃতদের ৯২ শতাংশই শিশু

আপডেট সময় ৪ ঘন্টা আগে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
দেশজুড়ে বাড়তে থাকা হাম প্রাদুর্ভাবের মধ্যে রোগ শনাক্তে ধীরগতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সরকারি হিসাবে ১৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ২১ জনের।
অন্যদিকে একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১১৮ জন। সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ১১২ জনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মৃতদের মধ্যে প্রায় ৯২ দশমিক ৮৬ শতাংশই শিশু। বাকিরা প্রাপ্ত বয়স্ক।
রাজধানী ঢাকার পাঁচটি হাসপাতালসহ ৬৪টি জেলার হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া এবং চিকিৎসাধীন রোগীদের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, মৃত শিশুদের মধ্যে প্রায় ৭২ শতাংশ শতাংশের বয়স শূন্য থেকে ৫ বছরের মধ্যে।
১২ দশমিক ২৬ শতাংশের বয়স ৫ থেকে ১৮ বছর। বাকি ১৭ শতাংশ প্রাপ্ত বয়স্ক। এছাড়া সারাদেশে প্রায় তিন হাজার রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা আট হাজার ৫৩৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৮০ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ৯৯ জন। এসময়ে সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন পাঁচ হাজার ৯৪০ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছেন ছয় হাজার ১৬ জন। মৃত্যুর হিসাবে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে সবচেয়ে বেশি পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। একই সময়ে জেলার তালিকাতেও ঢাকায় সর্বোচ্চ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
রাজধানীর হাসপাতালের চিত্র
রাজধানীর পাঁচটি হাসপাতালের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে বাংলানিউজ। এর মধ্যে মহাখালীর ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালে হাম-সংক্রান্ত জটিলতায় মারা গেছে ৩ শিশু। এখানে রোগী ভর্তি রয়েছে ২৭৭। মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালেও হাম রোগীদের জন্য একটি ওয়ার্ড নির্ধারিত হয়েছে। যেখানে ভর্তি আছে ৪২ জন। এখানে কারো মৃত্যু হয়নি। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে মার্চ ও এপ্রিল মাসে ৮০৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৮ জন মারা গেছেন। বর্তমানে ৬২ শিশু চিকিৎসাধীন।
শহীদ সোহরাওয়াার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ সেহাব উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, বর্তমানে হাম আক্রান্ত ১০০ জন চিকিৎসাধীন। আক্রান্ত সবাই শিশু। যাদের বেশিরভাগের বয়স ১ বছরের নিচে। হাম আক্রান্ত হয়ে এ হাসপাতালে ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যু হয়েছে ২ শিশুর।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত ৬১ শিশু চিকিৎসাধীন ছিল। এ হাসপাতালে এ পর্যন্ত চার শিশু মারা গেছে।
হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহবুবুল হক বাংলানিউজকে বলেন, ৬০টি বিশেষ শয্যায় রোগী ভর্তি আছে। এর বাইরে একক কেবিন, আইসোলেশন ওয়ার্ডেও শিশুদের ভর্তি করতে হচ্ছে। যে শিশুদের ভর্তি না করলে অন্য হাসপাতালে যেতে যেতে অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে। তাদের ফিরিয়ে দেওয়ারও উপায় থাকে না।
তবে রাজধানীর মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (মিটফোর্ড) ছাড়া সব হাসপাতালে বিশেষায়িত হাম ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। এছাড়া দেশের সব মেডিকেল কলেজ ও সব সরকারি হাসপাতালে বিশেষায়িত হাম ওয়ার্ড চালু হয়েছে।
যেসব জেলায় প্রাণহানী হয়েছে
টাঙ্গাইল জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশু মারা গেছে। তাদের মধ্যে রয়েছে ১৩ মাস বয়সী সাফা এবং ৮ মাস বয়সী সাইফান। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে হাসপাতালে ২৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য পাওয়া যায়নি।
ময়মনসিংহ জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে ছয় শিশু মারা গেছে। এসব শিশুর ৯০ ভাগের বয়স ৯ মাসের কম। এ বছর হামে আক্রান্ত হয়ে ১৮১ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।
রাজশাহী বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে ১১ শিশু মারা গেছে। হামে আক্রান্ত ও হামের লক্ষ্মণ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৯৬২ জন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও পাবনায় রোগীর সংখ্যা বেশি। এ দুই জেলায় ৯ মাসের কম বয়সের শিশুর সংখ্যা বেশি।
বগুড়া জেলায় ১০ মাস বয়সী ১ শিশু বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। তবে শিশুর শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহের জন্য অভিভাবকদের সম্মতি না পাওয়ায় পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. খুরশিদ আলম জানান, গত এক মাসে উপজেলার ৩৬ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে হামের রোগীদের জন্য আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু রয়েছে। সেখানে ১০ জন শিশু চিকিৎসাধীন।
নাটোরে হামে আক্রান্ত হয়ে কাসফি নামে ৩ মাস বয়সী ১টি ছেলে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ জেলায় সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা ৪৯ জন।
নওগাঁ জেলায় এখন পর্যন্ত ১টি ছেলে শিশু মারা গেছে। নওগাঁ সদর হাসপাতালে ২ জন চিকিৎসাধীন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ শিশু মারা গেছে। তাদের মধ্যে ৪ জনের বয়স ৯ মাসের নিচে। ১ জনের বয়স ২ বছর ৪ মাস। মৃত্যুর সব ক্ষেত্রে হামের স্পষ্ট লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা গেছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে ৫৫ শিশু হাসপাতালে ভর্তি আছে, যাদের সবার হামের উপসর্গ রয়েছে। এ পর্যন্ত জেলায় মোট ৩৬৪ শিশু আক্রান্ত হয়েছে।
গোপালগঞ্জ জেলায় ১০ মাস বয়সের ১টি কন্যা শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। জেলার সিভিল সার্জন আবু সাঈদ মোহাম্মদ ফারুক জানিয়েছেন, এটি এ জেলায় হামে মৃত্যুর একমাত্র ঘটনা।
জেলায় বর্তমানে ১৯ শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। যারা হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। এ পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৯১ শিশু আক্রান্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৩ জনের হাম ধরা পড়েছে।
নারায়ণগঞ্জে হামে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ২টি ছেলে শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে নুহাশ নামে ১ বছর বয়সী এবং আরিয়ান ইসলাম রাইয়ান নামে ২ বছর বয়সী শিশু মারা যায়। ঈদ পরবর্তী সময়ে এ পর্যন্ত ৯ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে বর্তমানে কেউ ভর্তি নেই।
বরিশালের বিভাগের ৬ জেলায় এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে ৫ জন এবং নিশ্চিত হামে ৪ জন মারা গেছে। মৃতদের মধ্যে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বাকিরা ঢাকায় মারা গেছে। তবে ঠিকানা অনুযায়ী মৃত্যুর তথ্যে তাদের হিসেব দেখানো হয়েছে।
যার মধ্যে শিশু ছাড়াও বয়স্ক পুরুষ রয়েছেন। এছাড়া এ বিভাগে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৫৯৩ জন। যার মধ্যে ৪২০ জন সন্দেহজনক হাম রোগী বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মোট সন্দেহজনক রোগীর মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ পর্যন্ত ৬৩ জন নিশ্চিত হাম রোগী বরিশাল বিভাগে শনাক্ত হয়েছে।
শরীয়তপুরে হামে আক্রান্ত হয়ে ২ জন মারা গেছে। সেখানে বিভিন্ন হাসপাতালে ১৪ জন রোগী হামের চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে একজন প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ, বাকি সবাই শিশু। মাদারীপুরে হামে আক্রান্ত হয়ে আদিবা নামে ৩ মাস বয়সী ১ শিশু মারা গেছে। এ জেলায় এ পর্যন্ত ২৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
লক্ষ্মীপুরে হামের প্রকোপ কম। এ জেলায় নুসাইবা নামে ৯ মাস বয়সী ১ শিশু মারা গেছে। এছাড়া এ বছর এখানে মাত্র ৪ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
নেত্রকোনা জেলায় এ পর্যন্ত ১০ জন ল্যাব কনফার্ম পজিটিভ হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। জেলার হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে ৩৯ জন সন্দেহজনক হাম রোগী ভর্তি আছে।
যশোর জেলায় এ বছর পরবর্তী বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মোট ১৩ জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে দেড় বছর বয়সী ১ জন, ৩ বছর বয়সী ১ জন, ৫ বছর বয়সী ১ জন, ১৬ বছর বয়সী ১ জন, ৩২ থেকে ৫৫ বছর বয়সী ৮ জন এবং ৭০ বছর বয়সী একজন আছেন। তাদের মধ্যে নারী ৬ জন, পুরুষ ৪ জন এবং শিশু ৩ জন। বর্তমানে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ৩৮ জন চিকিৎসাধীন।
কুষ্টিয়া জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে আফরান নামে ৮ মাস বয়সী ১ শিশু মারা গেছে। এ বছর কুষ্টিয়া সদর ও কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপতাল এবং ৬টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের লক্ষ্মণ নিয়ে ২৮৪ জন শিশু ভর্তি হয়েছে।
রংপুর জেলার রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরাসরি হামে কেউ মারা না গেলেও হাম পরবর্তী অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৬ জন মারা গেছেন। ভর্তি হয়েছেন ৩৩১ জন।
নীলফামারী জেলায় ১১ দিন বয়সী নবজাতক আফরিন জান্নাত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এছাড়া ৬ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জনের তথ্যে জানা যায়, এ জেলায় রাফি (৫), আয়েশা সিদ্দিকা (৬) এবং সাওয়ান (৯) নামে ৩ শিশু মারা গেছে। হাম সন্দেহে ৮৭ জন রোগী বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়, মোট হাম রোগীর সংখ্যা ১২ জন। সবাই শিশু।
কক্সবাজার জেলায় ৩টি মেয়ে ও ২টি শিশু মারা গেছে।
তাদের মধ্যে আয়েশা ছিদ্দিকার বয়স ৫ মাস, সাফওয়ানের ৯ মাস, রুসফির ৭ মাস, জেসিনের ৯ মাস এবং রাফিজার ৭ মাস। চিকিৎসাধীন আছেন ৩১ জন।
কুমিল্লা জেলায় হাম সন্দেহে ৩ শিশু মারা গেছে। মোট আক্রান্ত ৯৫ জন।
চাঁদপুর জেলায় হামের প্রাাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় এ পর্যন্ত তিনজন শিশু মারা গেছে। চাঁদপুর সদর ও জেলার ৭টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখন পর্যন্ত ২৭ জন শিশু আইসোলেশনে ভর্তি রয়েছে।
সিলেটে হামে আক্রান্ত হয়ে ২ মাস বয়সী ১টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সিলেট বিভাগে হাম ও রুবেলা রোগী হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬ জন শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে ৪৪ জন সন্দেহজনক রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ মাস বয়সী রাহিমা মারা গেছে। জেলার হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল ও বিভিন্ন বেসরকারী হাসপাতালে বর্তমানে ৪১ জন শিশু চিকিৎসাধীন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৯ জনে। যার মধ্যে অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।
যেসব জেলায় কেউ মারা যায়নি
রাজবাড়ী জেলায় এ পর্যন্ত হামে কোনো মৃত্যু হয়নি। এ পর্যন্ত ৩২ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। সদর হাসপাতালে উপসর্গ নিয়ে বর্তমানে ৫ শিশু চিকিৎসাধীন।
মানিকগঞ্জ জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। জেলায় বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতাল মিলিয়ে ২১ জন শিশু চিকিৎসাধীন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪১ জন, যাদের মধ্যে অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। চিকিৎসকদের ধারণা, আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৯৫ শতাংশই টিকা নেয়নি।
কিশোরগঞ্জে মোট ৪০ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছে। যার মধ্যে ২০ জন শিশু, ১৫ জন নারী এবং ৫ জন পুরুষ। তবে মৃত্যুর কোনো ঘটনা নেই। মৌসুমি পরিবর্তন এবং ঠাণ্ডাজনিত সমস্যাকে প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির কারণ বলা হচ্ছে।
নরসিংদীতেও এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর নেই। সেখানে ১৪ জন শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, যাদের মধ্যে ১ জনের বয়স ১৩ বছর।
সিরাজগঞ্জে বর্তমানে ১৩ শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। চলতি বছরে মোট আক্রান্ত ৩৪ জনের মধ্যে ২১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। এ জেলায় কেউ মারা যায়নি।
গাইবান্ধা জেলায় এখন পর্যন্ত পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হয়নি। তবে উপসর্গ নিয়ে গত সপ্তাহে ৯ শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. মো. রফিকুজ্জামান বলেন, টিকা নেওয়ার পরও হাম হতে পারে। টিকা শিশুকে সুরক্ষা দেয়। কিন্তু বড়দের মাধ্যমে বা শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ঠাকুরগাঁওয়ে এ পর্যন্ত ৩১ জন সম্ভাব্য আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। যার মধ্যে ২ জন ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত। বর্তমানে ৩ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে এবং সবাই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থতার পথে।
নোয়াখালী জেলায় এখন পর্যন্ত হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু না হলেও জেলার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে বর্তমানে ২১ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী জানান, প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে।
ফেনীতে চলতি মৌসুমে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। গত ৪৮ ঘণ্টায় ৭ সন্দেহভাজন শিশু ভর্তি হয়েছে। যার মধ্যে ২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। চিকিৎসকরা বলছেন, এমআর টিকার ২ ডোজ সম্পন্ন না করায় শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে।
খুলনায় হাম বা হাম পরবর্তী কোনো জটিলতায় কেউ মারা যায়নি। এখানে হাসপাতালে ৪ শিশু চিকিৎসা নিয়েছে।
গাজীপুর জেলাতেও হামের কারণে কারো মৃত্যু হয়নি। তবে হামে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট ৬০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছে।
ঝিনাইদহেও কোনো মৃত্যুর ঘটনা নেই। বর্তমানে ১৪ শিশু ভর্তি রয়েছে।
মাগুরা জেলায় হাম সংক্রমণের ঘটনা বাড়লেও এ পর্যন্ত কেউ মারা যায়নি। বর্তমানে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ৮ জন রোগী ভর্তি রয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলায় এ পর্যন্ত হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। হাসপাতালে বর্তমানে কোনো রোগী চিকিৎসাধীন নেই। তবে সাতক্ষীরা জেলার ৬২ জনের নমুনা পরীক্ষা করার জন্য ঢাকা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ১ জনের হাম পজিটিভ এসেছে এবং ১ জনের রুবেলা শনাক্ত হয়েছে।
নড়াইলে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা নেই। বর্তমানে হামে আক্রান্ত ১ শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে এবং ৪ জন সন্দেহভাজন রোগী রয়েছে। গত ১ মাসে ৪ জন নিশ্চিত রোগী এবং ২৪ জন সন্দেহভাজন শনাক্ত হয়েছে।
বাগেরহাট জেলায় এখন পর্যন্ত হামে কেউ মারা যায়নি। বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে বর্তমানে কোনো রোগী চিকিৎসাধীন নেই। তবে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জন, চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন এবং কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি আছে।
হবিগঞ্জ জেলায় কেউ মারা না গেলেও জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুখলিছুর রহমান উজ্জ্বল ৭ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানান। তবে হাম সন্দেহে চিকিৎসাধীন আছে ২১ জন। সবাই শিশু।
শেরপুরে এখন পর্যন্ত কেউ মারা যায়নি। হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট ২৪ জন চিকিৎসা নিয়েছে। সবার বয়স ৫ বছরের নিচে।
সুনামগঞ্জ জেলায় হামে কারো মৃত্যু হয়নি। সুনামগঞ্জে ৭ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছে।
এছাড়া মৌলভীবাজার জেলাতেও হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। এ জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে আটজন চিকিৎসাধীন আছে। তাদের মধ্যে ৬ জন শিশু ও ২ জন পুরুষ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় হামে এ পর্যন্ত কারো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫১ জন ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে ৭ শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে।
জামালপুরে হামে আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা না গেলেও হাম সন্দেহে ৮ শিশু হাসপাতালে ভর্তি আছে। এ জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা কম।
চুয়াডাঙ্গা জেলায় হামে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ৩ শিশু হাসপাতালে ভর্তি আছে। তাদের মধ্যে ২ জন মেয়ে ও ১ জন ছেলে শিশু।
কুড়িগ্রাম জেলায়ও কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। এ পর্যন্ত এ জেলায় ১৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তার মধ্যে ৩ জন হামে আক্রান্ত ছিলেন। তারা ৩ জনই সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন। তাদের মধ্যে শিশু নেই।
দিনাজপুর জেলায় কেউ মারা যায়নি। তবে হাম সন্দেহে ১টি ছেলে ও ১টি মেয়ে শিশু চিকিৎসাধীন আছে।
লালমনিরহাট জেলা থেকে এখন পর্যন্ত কারো মৃত্যুর খবর আসেনি। তবে এ জেলার জেলার ৫টি উপজেলা হাসপাতালে ১২ জন চিকিৎসাধীন। সবাই শিশু। সবার বয়স ৫ বছরের নিচে।
জয়পুরহাট জেলায় হামে এ পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। জেলা সদর হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৬ জন শিশু বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
তাদের মধ্যে কেউই গুরুতর অবস্থায় নেই। জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রাশেদ মোবারক জুয়েল বলেন, হামের প্রকোপ বাড়ার প্রধান কারণ হলো টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন এবং অভিভাবকদের সচেতনতার অভাব।
তিনি সতর্ক করে বলেন, শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা সময়মতো নেওয়াই এ রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
মেহেরপুর জেলায় কেউ মারা যায়নি। এ পর্যন্ত হাম সন্দেহে হাসপাতালে ৩৫ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। বেশিরভাগই শিশু। পাবনার স্থানীয় হাসপাতালে কেউ মারা যায়নি। বর্তমানে পাবনা সদর হাসপাতালে ৪১ জন ভর্তি আছে। যাদের ৩৬ জন শিশু, ৫ জন প্রাপ্ত বয়স্ক।
পটুয়াখালীতে কোনো মৃত্যুর খবর নেই। বর্তমানে ৪৩ জন শিশু চিকিৎসাধীন। এ নিয়ে এবং মোট চিকিৎসা নিয়েছে ১০৪ জন। টিকাদানে ঘাটতি, জনসচেতনতার অভাব এবং মৌসুমি সংক্রমণ বৃদ্ধিকে এখানে প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। পিরোজপুর জেলায় এখন পর্যন্ত কেউ মারা যায়নি। এখানে আক্রান্তের সংখ্যাও কম। এ পর্যন্ত ৯ জন আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। এখানে গুরুতরভাবে অসুস্থ কেউ নেই। ঝালকাঠি জেলায় কোনো মৃত্যু হয়নি। সন্দেহজনক ৫ জন হাসপাতলে চিকিৎসাধীন।
হামমুক্ত যেসব জেলা
বান্দরবানে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত বা মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি। হাসপাতালে কোনো রোগীও ভর্তি নেই। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে হামের প্রাাদুর্ভাব বাড়ার ঝুঁকি থাকলেও জেলাটিতে এখনো এর প্রভাব পড়েনি।
এদিকে ম্যালেরিয়ার কিছু রোগী পাওয়া গেলেও তারা চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং এ বছর এ রোগে কোনো মৃত্যুর খবর নেই। একই ভাবে রাঙামাটি ও পঞ্চগড়ে এখন পর্যন্ত হামের কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি।
অন্যদিকে খাগড়াছড়ি জেলায় ১১ জন শিশুর নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে শনাক্ত হওয়া কোনো রোগী ভর্তি নেই। চিকিৎসকদের মতে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়মিত টিকা না দেওয়া এবং পুষ্টিহীনতা শিশুদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
দেড় দশকে দেশে হামে সর্বোচ্চ মৃত্যু, বেশি মৃত্যুহারও
চলতি বছরে হামে যত মৃত্যু হয়েছে, তা গত দেড় দশকে সর্বোচ্চ। এ সময়ে পাঁচবার হামে মৃত্যুর ঘটনা জানা যায়।
২০১৭ সালে সবচেয়ে বেশি মারা যায় ১০ জন। ডব্লিউএইচওর দেওয়া বাংলাদেশ-সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, ২০০৪ সালে দেশে ৯ হাজার ৭৪৩টি হাম রোগীর তথ্য পাওয়া যায়। পরের বছর বেড়ে দাঁড়ায় ২৫ হাজার ৯৩৪ জনে। এরপর ২০০৬ সালে তা নেমে আসে ৬ হাজার ১৯২-এ। ২০০৭ সালে ২ হাজার ৯২৪, ২০০৮-এ ২ হাজার ৬৬০, ২০০৯-এ ৭১৮, আর ২০১০ সালে ৭৮৮।
অর্থাৎ ২০০৪ থেকে ২০০৫-এর ভয়াবহ অবস্থার পর আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত কমে আসে। ২০১১ সালে দেশে হাম রোগীর সংখ্যা আবার লাফ দিয়ে ৫ হাজার ৬২৫-এ ওঠে। ২০১২ সালে তা ১ হাজার ৯৮৬-এ নেমে আসে। ২০১৩ সালে ২৩৭, ২০১৪ সালে ২৮৯, ২০১৫ সালে ২৪০-এ তিন বছর তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় ছিল। কিন্তু ২০১৬ সালে আবার আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয় ৯৭২।