ঢাকা , সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দাম বাড়লেও তেল মিলছে না

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ২ ঘন্টা আগে
  • ০ বার পড়া হয়েছে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলেও নারায়ণগঞ্জে সরবরাহ সংকট কাটেনি। বরং শহরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে তেল না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালক ও সাধারণ গ্রাহকরা।
শনিবার (১৯ এপ্রিল) নগরীর চাষাঢ়া, খানপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা এলাকার একাধিক ফিলিং স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। অনেক পাম্পেই সকাল থেকে তেল বিক্রি বন্ধ ছিল, আবার কোথাও সীমিত পরিমাণে তেল দেওয়া হচ্ছে।
পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে বিক্রি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। নতুন করে তেল সরবরাহ পৌঁছালে আবার বিক্রি শুরু করা হবে।
সিদ্ধিরগঞ্জের একটি পাম্পের সামনে সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। মোটরসাইকেল, সিএনজি ও প্রাইভেটকারের সারি প্রায় কয়েকশ’ মিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। অনেক চালক ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাননি বলে অভিযোগ করেন।
সিএনজি চালক জাহাঙ্গীর বলেন, “সকাল ৭টা থেকে লাইনে আছি, এখনো তেল পাইনি। কাজ বন্ধ রেখে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, এতে আয়ও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।”
এক মোটরসাইকেল চালক রিয়াদ বলেন, “দাম বাড়ানোর পর ভেবেছিলাম অন্তত তেল পাওয়া সহজ হবে। কিন্তু এখন তো তেলই পাওয়া যাচ্ছে না, উল্টো ভোগান্তি বেড়েছে।”
অন্যদিকে, কিছু পাম্পে তেল বিক্রি চললেও সেখানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে গ্রাহকদের। এতে আশপাশের সড়কগুলোতেও যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
এর আগে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ঘোষণা অনুযায়ী ১৮ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে নতুন দাম কার্যকর করা হয়। নতুন দামে ডিজেল লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে দাম সমন্বয়ের পরও সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। চাষাঢ়া এলাকার এক গ্রাহক বলেন, “দাম বাড়িয়ে যদি তেলই না পাওয়া যায়, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে চলবে?”
তবে কেউ কেউ মনে করছেন, দাম বাড়ার কারণে মজুতদারদের দৌরাত্ম্য কমতে পারে। সিদ্ধিরগঞ্জের এক চালক বলেন, “দাম বাড়ায় হয়তো কালোবাজারি কমবে। কয়েকদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে আশা করছি।”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব ও সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে সাময়িক এ সংকট তৈরি হয়েছে। তবে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে জনভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নগরবাসীর দাবি, তেলের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় দীর্ঘ লাইন, সময় নষ্ট ও অতিরিক্ত ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলবে না।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

দাম বাড়লেও তেল মিলছে না

আপডেট সময় ২ ঘন্টা আগে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলেও নারায়ণগঞ্জে সরবরাহ সংকট কাটেনি। বরং শহরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে তেল না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালক ও সাধারণ গ্রাহকরা।
শনিবার (১৯ এপ্রিল) নগরীর চাষাঢ়া, খানপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা এলাকার একাধিক ফিলিং স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। অনেক পাম্পেই সকাল থেকে তেল বিক্রি বন্ধ ছিল, আবার কোথাও সীমিত পরিমাণে তেল দেওয়া হচ্ছে।
পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে বিক্রি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। নতুন করে তেল সরবরাহ পৌঁছালে আবার বিক্রি শুরু করা হবে।
সিদ্ধিরগঞ্জের একটি পাম্পের সামনে সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। মোটরসাইকেল, সিএনজি ও প্রাইভেটকারের সারি প্রায় কয়েকশ’ মিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। অনেক চালক ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাননি বলে অভিযোগ করেন।
সিএনজি চালক জাহাঙ্গীর বলেন, “সকাল ৭টা থেকে লাইনে আছি, এখনো তেল পাইনি। কাজ বন্ধ রেখে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, এতে আয়ও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।”
এক মোটরসাইকেল চালক রিয়াদ বলেন, “দাম বাড়ানোর পর ভেবেছিলাম অন্তত তেল পাওয়া সহজ হবে। কিন্তু এখন তো তেলই পাওয়া যাচ্ছে না, উল্টো ভোগান্তি বেড়েছে।”
অন্যদিকে, কিছু পাম্পে তেল বিক্রি চললেও সেখানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে গ্রাহকদের। এতে আশপাশের সড়কগুলোতেও যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
এর আগে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ঘোষণা অনুযায়ী ১৮ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে নতুন দাম কার্যকর করা হয়। নতুন দামে ডিজেল লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে দাম সমন্বয়ের পরও সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। চাষাঢ়া এলাকার এক গ্রাহক বলেন, “দাম বাড়িয়ে যদি তেলই না পাওয়া যায়, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে চলবে?”
তবে কেউ কেউ মনে করছেন, দাম বাড়ার কারণে মজুতদারদের দৌরাত্ম্য কমতে পারে। সিদ্ধিরগঞ্জের এক চালক বলেন, “দাম বাড়ায় হয়তো কালোবাজারি কমবে। কয়েকদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে আশা করছি।”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব ও সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে সাময়িক এ সংকট তৈরি হয়েছে। তবে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে জনভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নগরবাসীর দাবি, তেলের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় দীর্ঘ লাইন, সময় নষ্ট ও অতিরিক্ত ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলবে না।