স্টাফ রিপোর্টার
আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২২ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ নেতার একটি জায়গায় অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দিতে দরপত্র আহ্বান করেছে নগর কর্তৃপক্ষ। এতে আপত্তি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাদের ভাষ্য, জায়গাটি তিনটি আবাসিক এলাকার মাঝখানে। এই জায়গা দিয়ে হাজারো বাসিন্দা যাতায়াত করেন। সেখানে হাট বসানোর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই বলেও জানান স্থানীয়রা।
তাছাড়া, এখানে পাশেই শীতলক্ষ্যা নদী পাড়াপাড়ের একটি ব্যস্ততম ঘাট, ফায়ার স্টেশনও রয়েছে। প্রতিদিন এ ঘাট দিয়ে হাজারো লোক পারাপার হন। হাট হলে এই ঘাট পারাপারেও ভোগান্তি পোহাতে হবে বলেও জানান লোকজন।
যদিও সিটি কর্পোরেশন বলছে, এই জায়গাটি ছাড়াও আরো কয়েকটি স্থান নিয়ে আপত্তি এসেছে। আগামী রোববার এগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিটি কর্পোরেশনের সদর, সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দরের ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৩টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে নগর কর্তৃপক্ষের। এরমধ্যে ২২ নম্বর ওয়ার্ডে ‘কাজী জহিরের খালি জায়গা’ উল্লেখ করে একটি হাটের ইজারা দেওয়ার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। গত ৭ মে দরপত্রের বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করে সিটি কর্পোরেশন।
এই জায়গাটির মালিক আওয়ামী লীগ নেতা কাজী জহিরুল ইসলাম। তিনি আগে বিলুপ্ত হওয়া কদমরসুল পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বন্দরের ওই এলাকায় কাজী জহিরুল ইসলামের একটি ডকইয়ার্ড রয়েছে। ডকইয়ার্ডের পাশের খালি জায়গাতে হাট বসানোর জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে নগর কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই জায়গা হাট বসানোর জন্য পর্যাপ্ত নয়। তাছাড়া, পাশে তিনটি আবাসিক এলাকা- আমিন আবাসিক, র্যালি আবাসিক ও লেজারার্স কলোনী থাকায় এতে বাসিন্দারা ভোগান্তিতে পড়বেন। সড়কও তখন হাটের অংশ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে এই জায়গার নাম হাটের তালিকা থেকে অপসারণের দাবি তাদের।
এমনকি বিগত বছরগুলোতেও এই ধরনের সমস্যার কারণে এই এলাকায় হাট বসানো থেকে বিরত থেকেছিল সিটি কর্পোরেশন। তবে এবার স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার প্রভাবে এই জায়গাটিকে হাট স্থাপনের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
র্যালি আবাসিক এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, “এই এলাকায় তো হাট বসানোর মতো জায়গা নাই। সিটি করপোরেশন হাটের অনুমোতি দিলে রাস্তার মধ্যে গরু রাখতে হইবো। এই কারণে আমরা হাট চাই না। প্রতিদিন ছোট বাচ্চারা স্কুলে যাইবো, আমরাও বিভিন্ন কাজে বের হমু। তখন রাস্তায় গরু থাকলে তো অবশ্যই সমস্যা হইব।”
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বলেন, “নদীর পাড়ে যেই জায়গার কথা বললেন, সেখানে সরকার গাছ লাগাইসে, হাঁটার রাস্তা বানাইসে। এখানে গরুর হাট করলে এলাকার রাস্তাঘাটসহ সবকিছুর ক্ষতি হইবো। আগেও হাট করতে চাইসে কিন্তু এলাকাবাসী করতে দেয় নাই। কারণ আমাদের এই এলাকা এমনেই ঘনবসতিপূর্ণ। ৫০ থেকে ৬০ হাজার মানুষ আছে। এদিকে গরুর হাট বসলে সবার সমস্যা হবে।”
যোগাযোগ করা হলে জায়গার মালিক আওয়ামী লীগ নেতা কাজী জহিরুল ইসলাম বলেন, “এই জায়গায় আমাদের একটা ডকইয়ার্ড আছে। এর সাথে কিছু জায়গা খালিও আছে। ৭ থেকে ৮ বছর আগে এখানে হাট হইসিছ। এরপর আর হয়নি। এখন শুনলাম স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি এখানে হাট বসাবে। তবে এই হাটের সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নাই। এই জায়গা পশুর হাটের জন্য উপযুক্ত কিনা সেটাও আমি বলতে পারবো না।”
জানতে চাইলে নাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নূর কুতুবুল আলম বলেন, “আমাদের কাছে অনেকগুলো হাটের বিষয়ে অভিযোগ এসেছে। প্রশাসক সাহেবও জানেন। এখানে কোনটিই আসলে চূড়ান্ত নয়। আমরা রোববার বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো। দরপত্র দিলেই যে সেখানে হাট বসবে বিষয়টা তেমন না।”
এ বিষয়ে কথা বলতে নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
সংবাদ শিরোনাম ::
আরাফাত হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৩
আলীগঞ্জে ইনসাফ ফাউন্ডেশনের উদ্বোধন
কারাগারে মাছ ও হাঁস ধরা প্রতিযোগিতা
পুলিশের ওপর হামলা ও অস্ত্র লুট ৩ আসামী রিমান্ড শেষে আদালতে
ওষুধ প্রতিনিধিদের মানববন্ধন
নিত্যপণ্যের দামে হাঁসফাঁস
নেতাকর্মীদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
চাঁদার দাবিতে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা
আবাসিক এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের হাট
অপেক্ষায় ৩৪ হাজার পাটকল শ্রমিক
আবাসিক এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের হাট
-
ডেস্ক : - আপডেট সময় ১৫ ঘন্টা আগে
- ২ বার পড়া হয়েছে
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ




















