শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফা রিমান্ডে পাঠানোর পর বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। এ পরিস্থিতিতে জাতির কাছে ৬ দফা দাবি তুলে ধরেছে রাজনৈতিক সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চ।
পশ্চিমবঙ্গে আটক হওয়া আসামিদের ১৪ দিনের প্রথম রিমান্ড শেষে আজ আদালতে তোলা হলে নতুন করে আরও ১৪ দিনের হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। অথচ এই পুরো প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকার কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘আসামি গ্রেফতারের খবর যখন এসেছিল তখন সেটিকে সরকারের সাফল্য হিসেবে উদযাপন করা হয়েছিল, কিন্তু এখন বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে।’
ইনকিলাব মঞ্চ জাতির সামনে যে ৬ দফা দাবি উপস্থাপন করেছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় দাবি হলো আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনা। সংগঠনটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এখনই তৎপর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ‘এটি কোনো অনুরোধ নয়, বরং জনগণের পক্ষ থেকে সরাসরি আল্টিমেটাম’।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা মাস্টারমাইন্ডদের আড়াল করার যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থান নিয়েছে সংগঠনটি। তারা দাবি করেছে, ‘অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের একটি নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে’।
আসামিরা কীভাবে সীমান্ত অতিক্রম করল এবং এতে গোয়েন্দা সংস্থা বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য জড়িত ছিলেন কি না, কিংবা স্থানীয় কোনো প্রভাবশালী মহল সহায়তা করেছে কি না, তা দ্রুত তদন্ত করে জনসমক্ষে প্রকাশের দাবিও জানানো হয়েছে।
ভারতে ইউএপিএ আইনের জটিলতায় বিচার যাতে দীর্ঘায়িত না হয়, সেজন্য একটি বিশেষ আইনি বিশেষজ্ঞ সেল গঠনের দাবিও তুলেছে ইনকিলাব মঞ্চ। এই সেল ভারতের আদালতের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে এবং অগ্রগতি নিয়মিত জাতিকে অবহিত করবে।
বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘ওপেন ট্রায়াল সিস্টেম’ চালুর দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি, যেখানে বিচারকার্য জাতীয় গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করতে হবে।
আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে আসামিদের দেশে ফেরানোর বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি বা রোডম্যাপ ঘোষণা না করা হলে ঢাকাসহ সারা দেশে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনটি বলেছে, ‘রাজপথ থেকে জন্ম নেওয়া এই সংগঠন শহীদের রক্তের সাথে আপস করে না।’

ডেস্ক : 


















