ঢাকা , শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালিতে যেসব জাহাজ চলাচলে বাধা দেবে না ইরান

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ব্যাপারে নতুন বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হরমুজে ‘অশত্রুভাবাপন্ন’ জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা দেওয়া হবে না।

মঙ্গলবার জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সমুদ্র চলাচল সংক্রান্ত বিশেষায়িত সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) সদস্যরাষ্ট্রগুলোর কাছে একটি চিঠি দিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, আগ্রাসী শক্তি যেন হরমুজ প্রণালিকে ইরানে হামলার জন্য ব্যবহার করতে না পারে, সেজন্য সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এ প্রণালিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইরানের সরকার। তবে ‘অশত্রুভাবাপন্ন’ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা প্রদান করার হবে না। ক্ষেত্রে এই ক্যাটাগরির বাণিজ্যিক জাহাজগুলো সংশ্লিষ্ট ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং চলমান যুদ্ধে যেসব দেশ ওয়াশিংটন-তেল আবিবকে সমর্থন করছে— তাদের ‘শত্রুভাবাপন্ন’ দেশ হিসেবে বিবেচনা করে ইরান। তাই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল এবং বর্তমান যুদ্ধে তাদের পক্ষাবলম্বনকারী দেশগুলোর বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ‘অশত্রুভাবাপন্ন’ ক্যাটাগরিতে পড়বে না।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের চিঠিটির অনুলিপি ইতোমধ্যে আইএমও’র সব সদস্যের কাছে পৌঁছেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।

উল্লেখ্য, আরব সাগর এবং পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রতিদিন বিশ্বে যত তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, সেসবের ২০ শতাংশই এই রুট ব্যবহার করে।

হরমুজ প্রণালিকে ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’-ও বলা হয়, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এই পথ ব্যবহার করেই তাদের তেল রপ্তানি করে। হরমুজ না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল অতি সহজে পশ্চিমা বিশ্বে সরবরাহ করা যেত না।

গত ২৮ তারিখ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বিভিন্ন জাহাজের নাবিকদের সতর্কবার্তা দেওয়া শুরু করে আইআরজিসি। কয়েকটি জাহাজে হামলাও চালানো হয়।

ব্রিটিশ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম অপারেশনের তথ্য অনুসারে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত এক ডজনেরও বেশি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে।

নিরাপত্তা সংকটের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সংকট শুরু হয়েছে।

সূত্র : ফিন্যান্সিয়াল টাইমস

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

হরমুজ প্রণালিতে যেসব জাহাজ চলাচলে বাধা দেবে না ইরান

আপডেট সময় ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ব্যাপারে নতুন বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হরমুজে ‘অশত্রুভাবাপন্ন’ জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা দেওয়া হবে না।

মঙ্গলবার জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সমুদ্র চলাচল সংক্রান্ত বিশেষায়িত সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) সদস্যরাষ্ট্রগুলোর কাছে একটি চিঠি দিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, আগ্রাসী শক্তি যেন হরমুজ প্রণালিকে ইরানে হামলার জন্য ব্যবহার করতে না পারে, সেজন্য সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এ প্রণালিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইরানের সরকার। তবে ‘অশত্রুভাবাপন্ন’ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা প্রদান করার হবে না। ক্ষেত্রে এই ক্যাটাগরির বাণিজ্যিক জাহাজগুলো সংশ্লিষ্ট ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং চলমান যুদ্ধে যেসব দেশ ওয়াশিংটন-তেল আবিবকে সমর্থন করছে— তাদের ‘শত্রুভাবাপন্ন’ দেশ হিসেবে বিবেচনা করে ইরান। তাই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল এবং বর্তমান যুদ্ধে তাদের পক্ষাবলম্বনকারী দেশগুলোর বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ‘অশত্রুভাবাপন্ন’ ক্যাটাগরিতে পড়বে না।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের চিঠিটির অনুলিপি ইতোমধ্যে আইএমও’র সব সদস্যের কাছে পৌঁছেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।

উল্লেখ্য, আরব সাগর এবং পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রতিদিন বিশ্বে যত তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, সেসবের ২০ শতাংশই এই রুট ব্যবহার করে।

হরমুজ প্রণালিকে ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’-ও বলা হয়, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এই পথ ব্যবহার করেই তাদের তেল রপ্তানি করে। হরমুজ না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল অতি সহজে পশ্চিমা বিশ্বে সরবরাহ করা যেত না।

গত ২৮ তারিখ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বিভিন্ন জাহাজের নাবিকদের সতর্কবার্তা দেওয়া শুরু করে আইআরজিসি। কয়েকটি জাহাজে হামলাও চালানো হয়।

ব্রিটিশ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম অপারেশনের তথ্য অনুসারে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত এক ডজনেরও বেশি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে।

নিরাপত্তা সংকটের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সংকট শুরু হয়েছে।

সূত্র : ফিন্যান্সিয়াল টাইমস