ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দলবল নিয়ে ১০ জনকে হত্যা

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ৩৩ মিনিট আগে
  • ০ বার পড়া হয়েছে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ১৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ এলাকায় সাবেক এমপি শামীম ওসমান ও তার সশস্ত্র বাহিনী উপস্থিত থেকে শিশুসহ অন্তত ১০ আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা করে। আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি করেন শামীম ওসমান। তার ছেলে অয়ন ওসমান, ভাই নাসিম ওসমানের ছেলে (ভাতিজা) আজমেরী ওসমান, মো. মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ (অয়নের শ্যালক) ও তানভির আহম্মেদকে (শামীম ওসমানের শ্যালক) নিয়ে হত্যাকাণ্ডের মিশন বাস্তবায়ন করেন। তাদের গুলিতেই মারা যান-শহীদ পারভেজ, কিশোর আদিল, ইয়াসিন, আবুল হোসেন, রাসেল রানা, আবদুর রহমান, রাকিব ব্যাপারী, বদিউজ্জামান, আবুল হাসান ও ৬ বছরের শিশু রিয়া গোপ। এছাড়া অসংখ্য আন্দোলনকারীকে মারাত্মক জখম করেন তারা। নারায়ণগঞ্জ এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রে হত্যার এমন ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ অভিযোগ আমলে নেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য শামীম ওসমান তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ওবায়দুল কাদেরকে ফোন করে শামীম ওসমান বলেন, ‘পুলিশ কিছু করতে পারছিল না, সাহায্য চাইছে, আমাকে হাতে অস্ত্র নিতে হইছে। অস্ত্র ছাড়া মুভ করা যাচ্ছে না, দৌড়াইয়া পানিত নামাইছি সবগুলোরে, দুইটারে ধরছি, এখন যাচ্ছি সিদ্ধিরগঞ্জে…। সজল মোল্লার সঙ্গে আলাপ করছি, তোমরা আমাদের সাপোর্ট দাও, আমরা চিটাগাং রোড খালি করতেছি। আপনি (ওবায়দুল কাদের) একটু বলে দেন, নেত্রীকে (শেখ হাসিনা) বলে দেন, অস্ত্র হাতে ছবি দেখে যেন রাগ না করেন।’
এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়।
প্রথম অভিযোগে বলা হয়-আসামিরা ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ এলাকায় মো. পারভেজ, কিশোর আদিল, মো. ইয়াসিন, আবুল হোসেন, মো. রাসেল রানা ও ৬ বছরের শিশু রিয়া গোপকে হত্যা করে। এছাড়া অসংখ্য আন্দোলনকারীকে হত্যা করেন এ মামলার আসামিরা। দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়-২০২৪ সালের ২১ জুলাই নারায়ণগঞ্জে আবদুর রহমান ও রাকিব ব্যাপারীকে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া অসংখ্য আন্দোলনকারীকে মারাত্মক জখম করেন আসামিরা। তৃতীয় অভিযোগ- ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে বদিউজ্জামান ও আবুল হাসান নামের দুজনকে হত্যা করা হয়। সেদিন অসংখ্য আন্দোলনকারী আহত হন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন চাষাঢ়া মোড়ে শহীদ মিনারের সামনে এবং মিশনপাড়ামুখী রাস্তার সামনে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় শামীম ওসমানের নির্দেশ ও তার উপস্থিতিতে পুত্র ইমতিনান ওসমান অয়ন, আজমেরী ওসমান (ভাতিজা), মো. মিনহাজ উদ্দিন আহমদ মিনহাজুল আবেদীন ভিকি (অয়ন ওসমানের শ্যালক), তানভির আহম্মেদ টিটু (শামীম ওসমানের শ্যালক) গুলি বর্ষণ করে। এতে আন্দোলনরত বদিউজ্জামান ও আবুল হাসান সজন মারা যান। ২০২৪ সালের ২১ জুলাই ফতুল্লা থানাধীন সিকদার পাম্পের সামনে এবং একই থানার ভূইঘড় বাসস্ট্যান্ডের সামনে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। আসামিদের নির্দেশে আব্দুর রহমান ও রাকিব বেপারীকে হত্যা করা হয়। এ সময় আন্দোলনরত মো. সাইদ (চাঁদ মিয়া), আবু তালহাসহ অসংখ্য আন্দোলনকারী মারাত্মক আহত হন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, জুলাই ২০২৪ গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে শেখ হাসিনা মারণাস্ত্র ব্যবহার করে যে কোনো মূল্যে আন্দোলন দমনের নির্দেশ দেন। শেখ হাসিনার এই নির্দেশ তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন তাদের অধীনরা নির্দেশ বাস্তবায়ন করেন। সারা দেশে ১৪শর অধিক মানুষকে হত্যা ও আড়াই হাজারেরও অধিক মানুষকে গুরুতর জখম করে। যা ছিল ব্যাপক মাত্রায়, পদ্ধতিগতভাবে এবং লক্ষ্য নির্ধারণপূর্বক আসামিদের জ্ঞাতসারে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ।
ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন। তিনি মঙ্গলবার বলেন, সাবেক এমপি শামীম ওসমান ঘটনাস্থলে নিজে উপস্থিত থেকে আন্দোলনকারীদের হত্যা করেছেন। অসংখ্য মানুষকে তিনি আহত করেছেন। মামলাটি বর্তমানে অভিযোগ গঠন পর্যায়ে রয়েছে। অভিযোগ গঠনের পর সাক্ষ্যগ্রহণের কার্যক্রম শুরু হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

দলবল নিয়ে ১০ জনকে হত্যা

আপডেট সময় ৩৩ মিনিট আগে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ১৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ এলাকায় সাবেক এমপি শামীম ওসমান ও তার সশস্ত্র বাহিনী উপস্থিত থেকে শিশুসহ অন্তত ১০ আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা করে। আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি করেন শামীম ওসমান। তার ছেলে অয়ন ওসমান, ভাই নাসিম ওসমানের ছেলে (ভাতিজা) আজমেরী ওসমান, মো. মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ (অয়নের শ্যালক) ও তানভির আহম্মেদকে (শামীম ওসমানের শ্যালক) নিয়ে হত্যাকাণ্ডের মিশন বাস্তবায়ন করেন। তাদের গুলিতেই মারা যান-শহীদ পারভেজ, কিশোর আদিল, ইয়াসিন, আবুল হোসেন, রাসেল রানা, আবদুর রহমান, রাকিব ব্যাপারী, বদিউজ্জামান, আবুল হাসান ও ৬ বছরের শিশু রিয়া গোপ। এছাড়া অসংখ্য আন্দোলনকারীকে মারাত্মক জখম করেন তারা। নারায়ণগঞ্জ এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রে হত্যার এমন ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ অভিযোগ আমলে নেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য শামীম ওসমান তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ওবায়দুল কাদেরকে ফোন করে শামীম ওসমান বলেন, ‘পুলিশ কিছু করতে পারছিল না, সাহায্য চাইছে, আমাকে হাতে অস্ত্র নিতে হইছে। অস্ত্র ছাড়া মুভ করা যাচ্ছে না, দৌড়াইয়া পানিত নামাইছি সবগুলোরে, দুইটারে ধরছি, এখন যাচ্ছি সিদ্ধিরগঞ্জে…। সজল মোল্লার সঙ্গে আলাপ করছি, তোমরা আমাদের সাপোর্ট দাও, আমরা চিটাগাং রোড খালি করতেছি। আপনি (ওবায়দুল কাদের) একটু বলে দেন, নেত্রীকে (শেখ হাসিনা) বলে দেন, অস্ত্র হাতে ছবি দেখে যেন রাগ না করেন।’
এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়।
প্রথম অভিযোগে বলা হয়-আসামিরা ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ এলাকায় মো. পারভেজ, কিশোর আদিল, মো. ইয়াসিন, আবুল হোসেন, মো. রাসেল রানা ও ৬ বছরের শিশু রিয়া গোপকে হত্যা করে। এছাড়া অসংখ্য আন্দোলনকারীকে হত্যা করেন এ মামলার আসামিরা। দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়-২০২৪ সালের ২১ জুলাই নারায়ণগঞ্জে আবদুর রহমান ও রাকিব ব্যাপারীকে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া অসংখ্য আন্দোলনকারীকে মারাত্মক জখম করেন আসামিরা। তৃতীয় অভিযোগ- ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে বদিউজ্জামান ও আবুল হাসান নামের দুজনকে হত্যা করা হয়। সেদিন অসংখ্য আন্দোলনকারী আহত হন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন চাষাঢ়া মোড়ে শহীদ মিনারের সামনে এবং মিশনপাড়ামুখী রাস্তার সামনে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় শামীম ওসমানের নির্দেশ ও তার উপস্থিতিতে পুত্র ইমতিনান ওসমান অয়ন, আজমেরী ওসমান (ভাতিজা), মো. মিনহাজ উদ্দিন আহমদ মিনহাজুল আবেদীন ভিকি (অয়ন ওসমানের শ্যালক), তানভির আহম্মেদ টিটু (শামীম ওসমানের শ্যালক) গুলি বর্ষণ করে। এতে আন্দোলনরত বদিউজ্জামান ও আবুল হাসান সজন মারা যান। ২০২৪ সালের ২১ জুলাই ফতুল্লা থানাধীন সিকদার পাম্পের সামনে এবং একই থানার ভূইঘড় বাসস্ট্যান্ডের সামনে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। আসামিদের নির্দেশে আব্দুর রহমান ও রাকিব বেপারীকে হত্যা করা হয়। এ সময় আন্দোলনরত মো. সাইদ (চাঁদ মিয়া), আবু তালহাসহ অসংখ্য আন্দোলনকারী মারাত্মক আহত হন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, জুলাই ২০২৪ গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে শেখ হাসিনা মারণাস্ত্র ব্যবহার করে যে কোনো মূল্যে আন্দোলন দমনের নির্দেশ দেন। শেখ হাসিনার এই নির্দেশ তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন তাদের অধীনরা নির্দেশ বাস্তবায়ন করেন। সারা দেশে ১৪শর অধিক মানুষকে হত্যা ও আড়াই হাজারেরও অধিক মানুষকে গুরুতর জখম করে। যা ছিল ব্যাপক মাত্রায়, পদ্ধতিগতভাবে এবং লক্ষ্য নির্ধারণপূর্বক আসামিদের জ্ঞাতসারে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ।
ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন। তিনি মঙ্গলবার বলেন, সাবেক এমপি শামীম ওসমান ঘটনাস্থলে নিজে উপস্থিত থেকে আন্দোলনকারীদের হত্যা করেছেন। অসংখ্য মানুষকে তিনি আহত করেছেন। মামলাটি বর্তমানে অভিযোগ গঠন পর্যায়ে রয়েছে। অভিযোগ গঠনের পর সাক্ষ্যগ্রহণের কার্যক্রম শুরু হবে।