ঢাকা , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৪ ইউনিয়ন সিটিতে চান এমপি আলামিন

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ৩ ঘন্টা আগে
  • ১ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেছেন, “নারায়ণগঞ্জের কুতুবপুর, ফতুল্লা, এনায়েতনগর ও কাশীপুর ইউনিয়নকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতায় নেওয়ার বিষয়ে আগেও কথা বলা হয়েছে এবং সংসদেও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।”
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) এক আলাপে তিনি এ কথা জানান।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী জানিয়েছেন, পুরো প্রক্রিয়াটি চলমান রয়েছে এবং বর্তমানে প্রশাসকের কার্যালয়ের মতামতের অপেক্ষায় আছে।
তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন কুতুবপুর, ফতুল্লা, এনায়েতনগর, কাশীপুর, গোগনগর, আলীরটেক ও বক্তাবলী ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে কুতুবপুর, ফতুল্লা, এনায়েতনগর ও কাশীপুর এলাকা শহরের খুব কাছাকাছি হওয়ায় ব্যাপক জনবহুল ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। এসব এলাকায় শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে এবং দ্রুত নগরায়ণ হয়েছে।
আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, শুধু ভোটারের সংখ্যাই প্রায় পাঁচ লাখের বেশি। প্রকৃত জনসংখ্যা আরও কয়েক গুণ বেশি, কারণ এটি একটি শিল্পাঞ্চল। কিন্তু এখনো ইউনিয়ন পর্যায়ের নাগরিক সুবিধা দিয়ে এত বড় নগর এলাকার সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, এ অঞ্চলের এক পাশে ঢাকা সিটি করপোরেশন, অন্য পাশে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন থাকলেও মাঝখানে থাকা এলাকাগুলো এখনো ইউনিয়ন ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে। ফলে জলাবদ্ধতা, অপর্যাপ্ত সড়ক ব্যবস্থা, ড্রেনেজ সংকট, মশার উপদ্রব, অপরিষ্কার খাল, আইনশৃঙ্খলা ও মাদক সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে রয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ না থাকায় এক বিভাগ রাস্তা করলে আরেক বিভাগ এসে তা কেটে ফেলছে। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের সেই সংস্থাগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার ক্ষমতা নেই। সিটি করপোরেশনের আওতায় এলে বড় বাজেট, সমন্বিত পরিকল্পনা ও আধুনিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বাজেট প্রসঙ্গে এমপি বলেন, সিটি করপোরেশনের বাজেট ৬০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকার মতো। এলাকা সম্প্রসারণ হলে বাজেট আরও বাড়বে। তখন বড় রাস্তা, প্রশস্ত ড্রেন, খাল সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং মশক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ মূলত গ্রামীণ এলাকার নাগরিক সেবা দেওয়ার জন্য গঠিত। কিন্তু এ অঞ্চল এখন আর গ্রাম নয়, এটি পূর্ণাঙ্গ নগর এলাকায় পরিণত হয়েছে। তাই নাগরিকদের যথাযথ সুবিধা দিতে হলে সিটি করপোরেশনের আওতায় আনা ছাড়া বিকল্প খুব কম।
আব্দুল্লাহ আল আমিন অভিযোগ করে বলেন, অতীতে শামীম ওসমানসহ কিছু জনপ্রতিনিধি নিজেদের স্বার্থে এ এলাকার উন্নয়ন চাননি। বারবার সিটি করপোরেশনের আওতায় আনার আলোচনা উঠলেও তা বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, ট্যাক্স বাড়বে এমন প্রচারণা অনেকাংশেই বিভ্রান্তিকর। বাস্তবে কর খুব বেশি বাড়ে না, বরং নাগরিক সুবিধা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। জাইকা, এডিবিসহ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলোও সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সরাসরি কাজ করে থাকে।
তিনি আরও বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দরের কিছু এলাকা সিটি করপোরেশনের আওতায় আসার পর সেখানে সড়ক, ড্রেনেজ ও নাগরিক সুবিধার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। ফতুল্লা অঞ্চলেও সেই উন্নয়ন প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী এসব এলাকাকে সিটি করপোরেশনের আওতায় এনে নাগরিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে বলেও জানান এমপি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

৪ ইউনিয়ন সিটিতে চান এমপি আলামিন

আপডেট সময় ৩ ঘন্টা আগে

স্টাফ রিপোর্টার
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেছেন, “নারায়ণগঞ্জের কুতুবপুর, ফতুল্লা, এনায়েতনগর ও কাশীপুর ইউনিয়নকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতায় নেওয়ার বিষয়ে আগেও কথা বলা হয়েছে এবং সংসদেও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।”
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) এক আলাপে তিনি এ কথা জানান।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী জানিয়েছেন, পুরো প্রক্রিয়াটি চলমান রয়েছে এবং বর্তমানে প্রশাসকের কার্যালয়ের মতামতের অপেক্ষায় আছে।
তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন কুতুবপুর, ফতুল্লা, এনায়েতনগর, কাশীপুর, গোগনগর, আলীরটেক ও বক্তাবলী ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে কুতুবপুর, ফতুল্লা, এনায়েতনগর ও কাশীপুর এলাকা শহরের খুব কাছাকাছি হওয়ায় ব্যাপক জনবহুল ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। এসব এলাকায় শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে এবং দ্রুত নগরায়ণ হয়েছে।
আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, শুধু ভোটারের সংখ্যাই প্রায় পাঁচ লাখের বেশি। প্রকৃত জনসংখ্যা আরও কয়েক গুণ বেশি, কারণ এটি একটি শিল্পাঞ্চল। কিন্তু এখনো ইউনিয়ন পর্যায়ের নাগরিক সুবিধা দিয়ে এত বড় নগর এলাকার সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, এ অঞ্চলের এক পাশে ঢাকা সিটি করপোরেশন, অন্য পাশে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন থাকলেও মাঝখানে থাকা এলাকাগুলো এখনো ইউনিয়ন ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে। ফলে জলাবদ্ধতা, অপর্যাপ্ত সড়ক ব্যবস্থা, ড্রেনেজ সংকট, মশার উপদ্রব, অপরিষ্কার খাল, আইনশৃঙ্খলা ও মাদক সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে রয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ না থাকায় এক বিভাগ রাস্তা করলে আরেক বিভাগ এসে তা কেটে ফেলছে। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের সেই সংস্থাগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার ক্ষমতা নেই। সিটি করপোরেশনের আওতায় এলে বড় বাজেট, সমন্বিত পরিকল্পনা ও আধুনিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বাজেট প্রসঙ্গে এমপি বলেন, সিটি করপোরেশনের বাজেট ৬০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকার মতো। এলাকা সম্প্রসারণ হলে বাজেট আরও বাড়বে। তখন বড় রাস্তা, প্রশস্ত ড্রেন, খাল সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং মশক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ মূলত গ্রামীণ এলাকার নাগরিক সেবা দেওয়ার জন্য গঠিত। কিন্তু এ অঞ্চল এখন আর গ্রাম নয়, এটি পূর্ণাঙ্গ নগর এলাকায় পরিণত হয়েছে। তাই নাগরিকদের যথাযথ সুবিধা দিতে হলে সিটি করপোরেশনের আওতায় আনা ছাড়া বিকল্প খুব কম।
আব্দুল্লাহ আল আমিন অভিযোগ করে বলেন, অতীতে শামীম ওসমানসহ কিছু জনপ্রতিনিধি নিজেদের স্বার্থে এ এলাকার উন্নয়ন চাননি। বারবার সিটি করপোরেশনের আওতায় আনার আলোচনা উঠলেও তা বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, ট্যাক্স বাড়বে এমন প্রচারণা অনেকাংশেই বিভ্রান্তিকর। বাস্তবে কর খুব বেশি বাড়ে না, বরং নাগরিক সুবিধা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। জাইকা, এডিবিসহ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলোও সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সরাসরি কাজ করে থাকে।
তিনি আরও বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দরের কিছু এলাকা সিটি করপোরেশনের আওতায় আসার পর সেখানে সড়ক, ড্রেনেজ ও নাগরিক সুবিধার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। ফতুল্লা অঞ্চলেও সেই উন্নয়ন প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী এসব এলাকাকে সিটি করপোরেশনের আওতায় এনে নাগরিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে বলেও জানান এমপি।