ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাড়া নেই জামায়াতের

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ৫৯ মিনিট আগে
  • ০ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার
সংস্কার নাকি সংশোধন এবং সমান সদস্য সংখ্যা—ইস্যুতে আটকে আছে সংবিধান সংস্কারে প্রস্তাবিত বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন। সরকার ও বিরোধী দল সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে আগামীতে সংসদ ও রাজপথে উত্তাপ ছড়াতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সংবিধান সংস্কারে প্রস্তাবিত বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনে সরকারি দল বিএনপি উদ্যোগী হলেও প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও তাদের মিত্রদের কোনো সাড়া মেলেনি।
মূলত সংবিধান ‘সংস্কার’ নাকি ‘সংশোধন’ এই বিতর্ক এবং কমিটিতে সমান সংখ্যক সদস্য ইস্যুতে আটকে আছে বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের অগ্রগতি।
সহসা এই জট খোলার কোনো সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না।
সংসদের প্রথম অধিবেশনে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেন।
বিশেষ কমিটিতে সরকারি বেঞ্চ থেকে ১২ জনের নামের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এর মধ্যে বিএনপির ৭ জন এবং গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও স্বতন্ত্র থেকে ৫ জনকে রাখা হয়।
১৭ সদস্যের এই কমিটিতে বিরোধী দলের কাছে বাকি ৫ জনের নাম চাওয়া হয়।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল ৫ জনের নাম দিলেই আমরা জুলাই সনদের আলোকে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালও সে সময় বিরোধী দলকে দ্রুত নাম দেওয়ার আহ্বান জানান।
তবে সরকারি দল বিএনপি উদ্যোগী হলেও সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধন বিতর্কে এবং কমিটিতে সমান সংখ্যক সদস্য চেয়ে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান তাৎক্ষণিক কোনো নাম দিতে অস্বীকৃতি জানান।
সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধন ইস্যুতে তিনি বলেন, এখানে আমাদের কনসেপচুয়াল ডিফারেন্স (ধারণাগত পার্থক্য) আছে। আমরা চেয়েছি রিফর্ম (সংস্কার) আর এখানে হচ্ছে অ্যামেন্ডমেন্ট (সংশোধন)।
কমিটিতে সদস্য সংখ্যা নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে যদি কোনো কমিটি গঠন হয়, তাহলে এখন সংসদে যেমন ডিবেট হচ্ছে, তখনও সেখানে ডিবেট হবে। যে লাউ সেই কদুতেই থেকে যাবে।
অন্যদিকে কমিটিতে বিরোধী দলের সমান সংখ্যক সদস্য দাবিকে ‘বৈষম্যমূলক’ মন্তব্য করে তা সরাসরি নাকচ করে দেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আসা একটি দল এবং ৭৭ আসন পাওয়া বিরোধী দলের সদস্য সংখ্যা কোনো কমিটিতে সমান হতে পারে না।
বিএনপি জুলাই সনদের মাহাত্ম্য কলুষিত করেছে এবং জুলাই সনদকে প্রতারণার দলিলে পরিণত করেছে অভিযোগ করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি সংস্কারের পথ থেকে সরে গিয়ে কেবল নির্বাচনের ইশতেহারের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
সংবিধান সংশোধন নাকি সংস্কার, উত্তাপ ছড়াতে পারে রাজপথে
ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন শেষ হওয়ার মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার বিতর্কে সাময়িক একটি বিরতি চলছে। সদ্য সমাপ্ত এই অধিবেশনে মোট ২৫টি বৈঠক দিবসে ৯৪টি বিল পাস হয়েছে, ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে কাজ হয়েছে এবং ২ হাজার ৫০৯টি প্রশ্নের মধ্যে ১ হাজার ৭৭৮টির উত্তর দিয়েছেন মন্ত্রীরা। কিন্তু সংবিধান সংস্কার বা সংশোধনের মতো সবচেয়ে স্পর্শকাতর ইস্যুতে কোনো সুরাহা হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সংবিধান সংস্কার নিয়ে এই টানাপোড়েন ছিল অবধারিত। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের তৈরি করা জুলাই সনদের খসড়ায় ৩০টি দলের মতামত থাকলেও, বিএনপি শুরু থেকেই বেশ কিছু প্রস্তাবে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা আপত্তি জানিয়েছিল।
তারা বলছেন, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি চাইছে সংবিধানের পরিবর্তনগুলো তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক দর্শন, ৩১ দফা এবং নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকেই হোক; জামায়াত বা এনসিপির মনমতো নয়।
বিএনপি সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘সংশোধন’ করতে চায়, কারণ সংবিধানে ‘সংস্কার’ বলে কোনো শব্দ নেই। অপরদিকে, বিরোধী দল মনে করে বাহাত্তরের সংবিধানটি একটি ‘ফ্যাসিস্ট ও মুজিববাদী’ দলিল, তাই এর আমূল ‘সংস্কার’ প্রয়োজন।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর গোলাম হাফিজ বাংলানিউজকে বলেছেন, এখন সবার দৃষ্টি পরবর্তী সংসদ অধিবেশনের দিকে। বিরোধী দল কি শেষ পর্যন্ত কমিটিতে তাদের ৫ জন সদস্যের নাম জমা দেবে, নাকি রাজপথ বেছে নেবে? অন্যদিকে বিএনপি কি সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে একাই সংবিধান সংশোধন করে ফেলবে, নাকি বিরোধীদের সঙ্গে সম্মানজনক ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে?
এ ইস্যুতে সংসদ ও রাজপথে উত্তাপ ছড়াবে বলেও মনে করেন তিনি।
এদিকে সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটিতে জামায়াতে ইসলামী কোনো সদস্য দেবে না বলে জানিয়েছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, এই কমিটির সঙ্গে তারা নীতিগতভাবে একমত নন। যে বিষয়ে তারা একমত নন সেখানে সদস্য দেওয়ার কোনো সুযোগই নেই।
সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার যদি একতরফা সব পাস করে ফেলে, তখন জামায়াতের ভূমিকা কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা তো সবই পাস করতে পারে। কিন্তু তা কি টিকবে? শেখ মুজিবুর রহমান বাকশাল পাস করেছিলেন, তা কি টিকেছিল? শেখ হাসিনা পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করে কেয়ারটেকার সরকার বাতিল করেছিলেন, এখন তার কী অবস্থা?
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বাংলাদেশে অতীতেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে অনেক কিছুই করা হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত টেকেনি। এবারও তাই হবে।
এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সরকার দলীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বাংলানিউজকে বলেন, জাতীয় সংসদে সংবিধান সংস্কারের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্যদের নামের অপেক্ষায় আছে সরকার।
শেষ পর্যন্ত বিরোধী দল সাড়া না দিলে সরকারি দল বিএনপি কীভাবে এগোবে—এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন বলেন, এখন এই প্রস্তাব গ্রহণ করা বা না করা পুরোপুরি বিরোধী দলের ওপর নির্ভর করছে। বিরোধী দল যদি এগিয়ে আসে, তবে আমরা চাই সকলে মিলে এই পার্লামেন্টকে একটি প্রাণবন্ত পার্লামেন্টে পরিণত করতে।
তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। যেহেতু বর্তমানে সংসদের অধিবেশন চলছে না এবং তারা এখনো কোনো নাম দেয়নি, তাই আমাদের আগামী সংসদ অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করে দেখতে হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

সাড়া নেই জামায়াতের

আপডেট সময় ৫৯ মিনিট আগে

স্টাফ রিপোর্টার
সংস্কার নাকি সংশোধন এবং সমান সদস্য সংখ্যা—ইস্যুতে আটকে আছে সংবিধান সংস্কারে প্রস্তাবিত বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন। সরকার ও বিরোধী দল সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে আগামীতে সংসদ ও রাজপথে উত্তাপ ছড়াতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সংবিধান সংস্কারে প্রস্তাবিত বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনে সরকারি দল বিএনপি উদ্যোগী হলেও প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও তাদের মিত্রদের কোনো সাড়া মেলেনি।
মূলত সংবিধান ‘সংস্কার’ নাকি ‘সংশোধন’ এই বিতর্ক এবং কমিটিতে সমান সংখ্যক সদস্য ইস্যুতে আটকে আছে বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের অগ্রগতি।
সহসা এই জট খোলার কোনো সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না।
সংসদের প্রথম অধিবেশনে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেন।
বিশেষ কমিটিতে সরকারি বেঞ্চ থেকে ১২ জনের নামের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এর মধ্যে বিএনপির ৭ জন এবং গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও স্বতন্ত্র থেকে ৫ জনকে রাখা হয়।
১৭ সদস্যের এই কমিটিতে বিরোধী দলের কাছে বাকি ৫ জনের নাম চাওয়া হয়।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল ৫ জনের নাম দিলেই আমরা জুলাই সনদের আলোকে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালও সে সময় বিরোধী দলকে দ্রুত নাম দেওয়ার আহ্বান জানান।
তবে সরকারি দল বিএনপি উদ্যোগী হলেও সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধন বিতর্কে এবং কমিটিতে সমান সংখ্যক সদস্য চেয়ে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান তাৎক্ষণিক কোনো নাম দিতে অস্বীকৃতি জানান।
সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধন ইস্যুতে তিনি বলেন, এখানে আমাদের কনসেপচুয়াল ডিফারেন্স (ধারণাগত পার্থক্য) আছে। আমরা চেয়েছি রিফর্ম (সংস্কার) আর এখানে হচ্ছে অ্যামেন্ডমেন্ট (সংশোধন)।
কমিটিতে সদস্য সংখ্যা নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে যদি কোনো কমিটি গঠন হয়, তাহলে এখন সংসদে যেমন ডিবেট হচ্ছে, তখনও সেখানে ডিবেট হবে। যে লাউ সেই কদুতেই থেকে যাবে।
অন্যদিকে কমিটিতে বিরোধী দলের সমান সংখ্যক সদস্য দাবিকে ‘বৈষম্যমূলক’ মন্তব্য করে তা সরাসরি নাকচ করে দেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আসা একটি দল এবং ৭৭ আসন পাওয়া বিরোধী দলের সদস্য সংখ্যা কোনো কমিটিতে সমান হতে পারে না।
বিএনপি জুলাই সনদের মাহাত্ম্য কলুষিত করেছে এবং জুলাই সনদকে প্রতারণার দলিলে পরিণত করেছে অভিযোগ করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি সংস্কারের পথ থেকে সরে গিয়ে কেবল নির্বাচনের ইশতেহারের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
সংবিধান সংশোধন নাকি সংস্কার, উত্তাপ ছড়াতে পারে রাজপথে
ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন শেষ হওয়ার মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার বিতর্কে সাময়িক একটি বিরতি চলছে। সদ্য সমাপ্ত এই অধিবেশনে মোট ২৫টি বৈঠক দিবসে ৯৪টি বিল পাস হয়েছে, ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে কাজ হয়েছে এবং ২ হাজার ৫০৯টি প্রশ্নের মধ্যে ১ হাজার ৭৭৮টির উত্তর দিয়েছেন মন্ত্রীরা। কিন্তু সংবিধান সংস্কার বা সংশোধনের মতো সবচেয়ে স্পর্শকাতর ইস্যুতে কোনো সুরাহা হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সংবিধান সংস্কার নিয়ে এই টানাপোড়েন ছিল অবধারিত। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের তৈরি করা জুলাই সনদের খসড়ায় ৩০টি দলের মতামত থাকলেও, বিএনপি শুরু থেকেই বেশ কিছু প্রস্তাবে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা আপত্তি জানিয়েছিল।
তারা বলছেন, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি চাইছে সংবিধানের পরিবর্তনগুলো তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক দর্শন, ৩১ দফা এবং নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকেই হোক; জামায়াত বা এনসিপির মনমতো নয়।
বিএনপি সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘সংশোধন’ করতে চায়, কারণ সংবিধানে ‘সংস্কার’ বলে কোনো শব্দ নেই। অপরদিকে, বিরোধী দল মনে করে বাহাত্তরের সংবিধানটি একটি ‘ফ্যাসিস্ট ও মুজিববাদী’ দলিল, তাই এর আমূল ‘সংস্কার’ প্রয়োজন।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর গোলাম হাফিজ বাংলানিউজকে বলেছেন, এখন সবার দৃষ্টি পরবর্তী সংসদ অধিবেশনের দিকে। বিরোধী দল কি শেষ পর্যন্ত কমিটিতে তাদের ৫ জন সদস্যের নাম জমা দেবে, নাকি রাজপথ বেছে নেবে? অন্যদিকে বিএনপি কি সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে একাই সংবিধান সংশোধন করে ফেলবে, নাকি বিরোধীদের সঙ্গে সম্মানজনক ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে?
এ ইস্যুতে সংসদ ও রাজপথে উত্তাপ ছড়াবে বলেও মনে করেন তিনি।
এদিকে সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটিতে জামায়াতে ইসলামী কোনো সদস্য দেবে না বলে জানিয়েছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, এই কমিটির সঙ্গে তারা নীতিগতভাবে একমত নন। যে বিষয়ে তারা একমত নন সেখানে সদস্য দেওয়ার কোনো সুযোগই নেই।
সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার যদি একতরফা সব পাস করে ফেলে, তখন জামায়াতের ভূমিকা কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা তো সবই পাস করতে পারে। কিন্তু তা কি টিকবে? শেখ মুজিবুর রহমান বাকশাল পাস করেছিলেন, তা কি টিকেছিল? শেখ হাসিনা পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করে কেয়ারটেকার সরকার বাতিল করেছিলেন, এখন তার কী অবস্থা?
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বাংলাদেশে অতীতেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে অনেক কিছুই করা হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত টেকেনি। এবারও তাই হবে।
এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সরকার দলীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বাংলানিউজকে বলেন, জাতীয় সংসদে সংবিধান সংস্কারের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্যদের নামের অপেক্ষায় আছে সরকার।
শেষ পর্যন্ত বিরোধী দল সাড়া না দিলে সরকারি দল বিএনপি কীভাবে এগোবে—এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন বলেন, এখন এই প্রস্তাব গ্রহণ করা বা না করা পুরোপুরি বিরোধী দলের ওপর নির্ভর করছে। বিরোধী দল যদি এগিয়ে আসে, তবে আমরা চাই সকলে মিলে এই পার্লামেন্টকে একটি প্রাণবন্ত পার্লামেন্টে পরিণত করতে।
তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। যেহেতু বর্তমানে সংসদের অধিবেশন চলছে না এবং তারা এখনো কোনো নাম দেয়নি, তাই আমাদের আগামী সংসদ অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করে দেখতে হবে।