ঢাকা , শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডাকাতকে চড়, গৃহবধূ আধা ঘন্টা আটক

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় এক ঘন্টা আগে
  • ০ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় ডাকাত সর্দার সহ ৩জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে লুট করা স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে একটি নিউজ পোর্টালে ১৭ মাস পর সেই ডাকাত সর্দার আব্দুল হালিমকে ফতুল্লা থানায় দেখে চিনে ফেলেন গৃহবধূ বেবী আক্তার।
তাৎক্ষনিক স্বামী আলাউদ্দিনকে নিয়ে থানায় গিয়ে অফিসার রুমে পুলিশের সামনে ডাকাত সর্দার আব্দুল হালিমকে দেখতে পায় বেবী আক্তার। তখন ডাকাত সর্দার আব্দুল হালিমকে একটি চড় দিয়ে তার লুটে নেয়া স্বর্ণালংকার দাবী করেন। এতে পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) নন্দন চন্দ্র সরকার স্বামীর সামনেই গৃহবধূর উপর মারমুখী হয়ে ফুঁসে উঠেন। এক পর্যায়ে নারী পুলিশ ডেকে এনে গৃহবধূকে ডিউটি অফিসারের কক্ষে নিয়ে আটকে রাখেন। এরপর সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে ৪০ মিনিট পর গৃহবধূকে ছেড়ে দেন।
ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন জানান, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর রাতে ফতুল্লার সস্তাপুর নিজ বাড়ির দুই তলায় ঘুমন্ত অবস্থায় তার স্ত্রী ও তাকে হাত পা বেঁধে মারধর করে ডাকাত সর্দার আব্দুল হালিম। এরপর তাদের ঘর থেকে প্রায় ৫০ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ৭লাখ টাকা লুটে নেয়। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে মামলা করেন। এ মামলায় র‌্যাব আব্দুল হালিমকে গ্রেফতার করে থানায় সোর্পদ করেছিলেন। ওই সময় পুলিশ হালিমকে কাছে এনে আমাদের দিয়ে সনাক্ত করায়নি। এজন্য তখন তাকে চিনতে পারিনি। এখন অনলাইন নিউজ পোর্টালে ছবি দেখে ডাকাত সর্দার আব্দুল হালিমকে সনাক্ত করেছি। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা স্বর্ণালংকারের মধ্যে একটি স্বর্ণের চেইন আমাদের ধারনা করেছি।
তিনি আরো বলেন, ডাকাত আব্দুল হালিম আমাকে ও আমার স্ত্রীকে হাত পা বেঁধে বেধড়ক মারধর করেছে। মারধরের সেই সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভাইরাল হয়েছে। ১৭ মাস পর ওই ডাকাতকে কাছে পেয়ে একটি চড় দিয়ে বলেছে আমার স্বর্ণালংকার দেও। এ কথাটি বলা মাত্রই এসআই নন্দন চন্দ সরকার মারাত্মক ভাবে মারমুখী হয়ে বেবী আক্তারের উপর ফুঁসে উঠেন। এক পর্যায়ে নারী পুলিশ ডেকে এনে বেবী আক্তারকে টেনে হেঁচড়ে ডিউটি অফিসারের রুমে নিয়ে আটকে রাখেন। থানার সিসিটিভিতে দুপুর ২টা থেকে ৪০ মিনিট পর্যন্ত সময় অনুসন্ধান করলে পুলিশের উশৃঙ্খল আচরন দেখা যাবে।
বেবী আক্তার বলেন, ডাকাতদের গ্রেফতার করবে গাড়ি ভাড়া খাবার খরচ লাগবে এজন্য একাধিকবার পুলিশ আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। তারপরও আমাদের স্বর্ণালংকার ও টাকা উদ্ধার করতে পারেনি। কয়েকজন ডাকাতকে গ্রেফতার করলেও আমাদের সামনে এনে কাউকে সনাক্ত করেনি। এখন নিউজ পোর্টালে দেখে থানায় গিয়ে ডাকাত সর্দার আব্দুল হালিমকে সনাক্ত করে পুলিশের কাছ থেকে হেনস্থার শিকার হয়েছি। উদ্ধার করা স্বর্ণের চেইন দেখতে চেয়েছিলাম তাও দেখায়নি। উল্টো ডাকাতের পক্ষ নিয়ে আমাকে ৪০ মিনিট আটকে রেখেছে পুলিশ। আমি এর বিচার চাইবো।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, পুলিশের সামনে ওই নারী আসামিকে চড় মেরেছে এটা অবশ্যই অন্যায় করেছে। তাদের বাড়িতে যখন ডাকাতি হয়েছে তখন এ থানার ওসি আমি ছিলাম না।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

ডাকাতকে চড়, গৃহবধূ আধা ঘন্টা আটক

আপডেট সময় এক ঘন্টা আগে

স্টাফ রিপোর্টার
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় ডাকাত সর্দার সহ ৩জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে লুট করা স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে একটি নিউজ পোর্টালে ১৭ মাস পর সেই ডাকাত সর্দার আব্দুল হালিমকে ফতুল্লা থানায় দেখে চিনে ফেলেন গৃহবধূ বেবী আক্তার।
তাৎক্ষনিক স্বামী আলাউদ্দিনকে নিয়ে থানায় গিয়ে অফিসার রুমে পুলিশের সামনে ডাকাত সর্দার আব্দুল হালিমকে দেখতে পায় বেবী আক্তার। তখন ডাকাত সর্দার আব্দুল হালিমকে একটি চড় দিয়ে তার লুটে নেয়া স্বর্ণালংকার দাবী করেন। এতে পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) নন্দন চন্দ্র সরকার স্বামীর সামনেই গৃহবধূর উপর মারমুখী হয়ে ফুঁসে উঠেন। এক পর্যায়ে নারী পুলিশ ডেকে এনে গৃহবধূকে ডিউটি অফিসারের কক্ষে নিয়ে আটকে রাখেন। এরপর সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে ৪০ মিনিট পর গৃহবধূকে ছেড়ে দেন।
ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন জানান, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর রাতে ফতুল্লার সস্তাপুর নিজ বাড়ির দুই তলায় ঘুমন্ত অবস্থায় তার স্ত্রী ও তাকে হাত পা বেঁধে মারধর করে ডাকাত সর্দার আব্দুল হালিম। এরপর তাদের ঘর থেকে প্রায় ৫০ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ৭লাখ টাকা লুটে নেয়। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে মামলা করেন। এ মামলায় র‌্যাব আব্দুল হালিমকে গ্রেফতার করে থানায় সোর্পদ করেছিলেন। ওই সময় পুলিশ হালিমকে কাছে এনে আমাদের দিয়ে সনাক্ত করায়নি। এজন্য তখন তাকে চিনতে পারিনি। এখন অনলাইন নিউজ পোর্টালে ছবি দেখে ডাকাত সর্দার আব্দুল হালিমকে সনাক্ত করেছি। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা স্বর্ণালংকারের মধ্যে একটি স্বর্ণের চেইন আমাদের ধারনা করেছি।
তিনি আরো বলেন, ডাকাত আব্দুল হালিম আমাকে ও আমার স্ত্রীকে হাত পা বেঁধে বেধড়ক মারধর করেছে। মারধরের সেই সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভাইরাল হয়েছে। ১৭ মাস পর ওই ডাকাতকে কাছে পেয়ে একটি চড় দিয়ে বলেছে আমার স্বর্ণালংকার দেও। এ কথাটি বলা মাত্রই এসআই নন্দন চন্দ সরকার মারাত্মক ভাবে মারমুখী হয়ে বেবী আক্তারের উপর ফুঁসে উঠেন। এক পর্যায়ে নারী পুলিশ ডেকে এনে বেবী আক্তারকে টেনে হেঁচড়ে ডিউটি অফিসারের রুমে নিয়ে আটকে রাখেন। থানার সিসিটিভিতে দুপুর ২টা থেকে ৪০ মিনিট পর্যন্ত সময় অনুসন্ধান করলে পুলিশের উশৃঙ্খল আচরন দেখা যাবে।
বেবী আক্তার বলেন, ডাকাতদের গ্রেফতার করবে গাড়ি ভাড়া খাবার খরচ লাগবে এজন্য একাধিকবার পুলিশ আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। তারপরও আমাদের স্বর্ণালংকার ও টাকা উদ্ধার করতে পারেনি। কয়েকজন ডাকাতকে গ্রেফতার করলেও আমাদের সামনে এনে কাউকে সনাক্ত করেনি। এখন নিউজ পোর্টালে দেখে থানায় গিয়ে ডাকাত সর্দার আব্দুল হালিমকে সনাক্ত করে পুলিশের কাছ থেকে হেনস্থার শিকার হয়েছি। উদ্ধার করা স্বর্ণের চেইন দেখতে চেয়েছিলাম তাও দেখায়নি। উল্টো ডাকাতের পক্ষ নিয়ে আমাকে ৪০ মিনিট আটকে রেখেছে পুলিশ। আমি এর বিচার চাইবো।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, পুলিশের সামনে ওই নারী আসামিকে চড় মেরেছে এটা অবশ্যই অন্যায় করেছে। তাদের বাড়িতে যখন ডাকাতি হয়েছে তখন এ থানার ওসি আমি ছিলাম না।