ঢাকা , সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাথে বিমতাসূলভ আচরণ

দুই মাসেও শেষ হয়নি ঢালাই

নারায়ণগঞ্জ শহরের বালুর মাঠ এলাকায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনের ব্যস্ততম সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ডিপ ড্রেন নির্মাণ কাজ করতে গিয়ে প্রায় দুই মাস আগে সড়ক খুঁড়ে ফেলা হলেও এখন পর্যন্ত সংস্কার করা হয়নি। ফলে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারী, যানবাহনের চালক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে সৃষ্টি হওয়া বড় বড় খানাখন্দ এখন নগরবাসীর জন্য এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

স্থানীয়রা জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে সড়কের পাশে ডিপ ড্রেন নির্মাণ কাজ শুরু করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কাজ চলাকালে রাস্তার বড় একটি অংশ কেটে ফেলা হয়। কয়েকদিনের মধ্যেই কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও রাস্তা আর সংস্কার করা হয়নি। এতে পুরো সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রেসক্লাবের সামনের সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও ইটের খোয়া, কোথাও বালু ও কাদামাটির স্তূপ পড়ে আছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তে পানি জমে ছোট ছোট জলাশয়ের সৃষ্টি হয়। আবার রোদ উঠলে ধুলাবালিতে একাকার হয়ে পড়ে পুরো এলাকা। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করলেও জনদুর্ভোগ কমাতে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই।

স্থানীয় ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, রাস্তার ধুলাবালির কারণে দোকানে বসা দায় হয়ে গেছে। ক্রেতারাও কম আসছে। বিশেষ করে বিকেলের দিকে ধুলা এত বেশি উড়ে যে দোকানের মালামাল ঢেকে রাখতে হয়। দ্রুত রাস্তা সংস্কার না করলে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজ শুরুর সময় দ্রুত শেষ করার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন আর কোনো শ্রমিক বা কাজের তৎপরতা দেখা যায় না। অনেকেই মনে করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও সমন্বয়হীনতার কারণেই দীর্ঘদিন ধরে এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

এদিকে শহরের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের যাতায়াত থাকে। নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব, বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ অফিসের কারণে সড়কটিতে সবসময় যানবাহনের চাপ থাকে। কিন্তু রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে সৃষ্টি হচ্ছে যানজটও। বিশেষ করে অফিস সময় ও বিকেলের দিকে যান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্নয়ন কাজের নামে জনদুর্ভোগ বাড়লেও কাজের গতি বা মান নিয়ে কার্যকর কোনো তদারকি নেই। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কাজ শেষ হওয়ার পর কেন দ্রুত রাস্তা সংস্কার করা হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়লেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে দাবি তাদের।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, রেলওয়ের পাশের সড়ক হয়াতে আমরা একা আসলে কোন সিধান্ত নিতে পারছিনা। তাদের একটা বাজেট আটকে আছে সেই জন্য এই সড়ক সংস্কার কাজ দেরি হচ্ছে। তবে প্রেসক্লাবের সামনের সড়কের কাজ ঈদের আগে শেষ হয়ে যাবে।

তবে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে রাস্তা সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হোক। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে উন্নয়ন কাজের ক্ষেত্রে জনদুর্ভোগ কমাতে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

নগরবাসীর প্রত্যাশা, উন্নয়নের নামে দীর্ঘমেয়াদি ভোগান্তি নয়, বরং দ্রুত ও টেকসই কাজের মাধ্যমে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা হবে। অন্যথায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর এমন বেহাল চিত্র নগরজীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলবে বলে আশঙ্কা তাদের।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

আবু সাউদ মাসুদ

হ্যালো আমি আবু সাউদ মাসুদ। সম্পাদক হিসেবে কাজ করছি।

নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাথে বিমতাসূলভ আচরণ

দুই মাসেও শেষ হয়নি ঢালাই

আপডেট সময় এক মিনিট আগে

নারায়ণগঞ্জ শহরের বালুর মাঠ এলাকায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনের ব্যস্ততম সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ডিপ ড্রেন নির্মাণ কাজ করতে গিয়ে প্রায় দুই মাস আগে সড়ক খুঁড়ে ফেলা হলেও এখন পর্যন্ত সংস্কার করা হয়নি। ফলে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারী, যানবাহনের চালক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে সৃষ্টি হওয়া বড় বড় খানাখন্দ এখন নগরবাসীর জন্য এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

স্থানীয়রা জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে সড়কের পাশে ডিপ ড্রেন নির্মাণ কাজ শুরু করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কাজ চলাকালে রাস্তার বড় একটি অংশ কেটে ফেলা হয়। কয়েকদিনের মধ্যেই কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও রাস্তা আর সংস্কার করা হয়নি। এতে পুরো সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রেসক্লাবের সামনের সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও ইটের খোয়া, কোথাও বালু ও কাদামাটির স্তূপ পড়ে আছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তে পানি জমে ছোট ছোট জলাশয়ের সৃষ্টি হয়। আবার রোদ উঠলে ধুলাবালিতে একাকার হয়ে পড়ে পুরো এলাকা। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করলেও জনদুর্ভোগ কমাতে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই।

স্থানীয় ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, রাস্তার ধুলাবালির কারণে দোকানে বসা দায় হয়ে গেছে। ক্রেতারাও কম আসছে। বিশেষ করে বিকেলের দিকে ধুলা এত বেশি উড়ে যে দোকানের মালামাল ঢেকে রাখতে হয়। দ্রুত রাস্তা সংস্কার না করলে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজ শুরুর সময় দ্রুত শেষ করার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন আর কোনো শ্রমিক বা কাজের তৎপরতা দেখা যায় না। অনেকেই মনে করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও সমন্বয়হীনতার কারণেই দীর্ঘদিন ধরে এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

এদিকে শহরের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের যাতায়াত থাকে। নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব, বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ অফিসের কারণে সড়কটিতে সবসময় যানবাহনের চাপ থাকে। কিন্তু রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে সৃষ্টি হচ্ছে যানজটও। বিশেষ করে অফিস সময় ও বিকেলের দিকে যান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্নয়ন কাজের নামে জনদুর্ভোগ বাড়লেও কাজের গতি বা মান নিয়ে কার্যকর কোনো তদারকি নেই। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কাজ শেষ হওয়ার পর কেন দ্রুত রাস্তা সংস্কার করা হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়লেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে দাবি তাদের।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, রেলওয়ের পাশের সড়ক হয়াতে আমরা একা আসলে কোন সিধান্ত নিতে পারছিনা। তাদের একটা বাজেট আটকে আছে সেই জন্য এই সড়ক সংস্কার কাজ দেরি হচ্ছে। তবে প্রেসক্লাবের সামনের সড়কের কাজ ঈদের আগে শেষ হয়ে যাবে।

তবে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে রাস্তা সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হোক। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে উন্নয়ন কাজের ক্ষেত্রে জনদুর্ভোগ কমাতে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

নগরবাসীর প্রত্যাশা, উন্নয়নের নামে দীর্ঘমেয়াদি ভোগান্তি নয়, বরং দ্রুত ও টেকসই কাজের মাধ্যমে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা হবে। অন্যথায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর এমন বেহাল চিত্র নগরজীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলবে বলে আশঙ্কা তাদের।