ঢাকা , রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরমুজের সরবরাহ বেশি, দাম কম

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ০৪:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
প্রাচ্যের ডান্ডি হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরকে ঘিরে গড়ে উঠেছে দেশের অন্যতম বড় বাণিজ্যকেন্দ্র। শীতলক্ষ্যা নদী তীরবর্তী কাঁচামাল বেচাকেনার জন্য নির্মিত পুরনো পোর্টটি সময়ের সঙ্গে এখন মৌসুমি ফলের বড় আড়তে পরিণত হয়েছে। সারা বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানা ফল এখানে কেনাবেচা হলেও বর্তমানে তরমুজের সরবরাহ সবচেয়ে বেশি।
তবে এ বছর তরমুজের ফলন ভালো হলেও কৃষকদের মুখে হাসি নেই। আড়তে ঘুরে দেখা গেছে, আকারভেদে প্রতি পিস তরমুজ ২০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উৎপাদন খরচের তুলনায় এই দাম খুবই কম হওয়ায় অনেক কৃষক লোকসানের মুখে পড়েছেন।
বর্তমানে ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী ও গজারিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি তরমুজ আসছে এই আড়তে। তবে বরগুনা থেকে এখনো তরমুজ আসা শুরু হয়নি।
ভোলা থেকে ট্রলারযোগে তরমুজ নিয়ে আসা কৃষক মিজানুর রহমান জোটন জানান, তিনি ৩০ কানি জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। প্রতি কানিতে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হলেও বিক্রি করে পেয়েছেন মাত্র দেড় লাখ টাকার মতো। এতে প্রতি কানিতে প্রায় এক লাখ টাকা লোকসানের আশঙ্কা করছেন তিনি। সব তরমুজ বিক্রি শেষে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ বোঝা যাবে বলেও জানান তিনি।
বরিশাল থেকে আসা এক কৃষকের আত্মীয় মো. রিয়াদ বলেন, পরিবহন খরচ এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি ট্রলার ভাড়া করতে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা লাগে, কিন্তু বর্তমান বাজারদরে তরমুজ বিক্রি করে সেই খরচ তোলা কঠিন। ফলে অনেক ছোট আকারের তরমুজ ক্ষেতেই ফেলে দিতে হচ্ছে।
গজারিয়া থেকে আসা কৃষক মো. জসিম বলেন, লাভ তো দূরের কথা, পরিবহন খরচই তুলতে পারছেন না তারা। অনেক কৃষকের মতে, চলতি মৌসুমে তীব্র শীতের কারণে তরমুজ পরিপক্ক হতে দেরি হয়েছে। আবার কোথাও বৃষ্টি ও জমিতে পানি জমে ফল নষ্ট হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
কৃষকদের অভিযোগ, যদি আরও ১৫-২০ দিন আগে তরমুজ বাজারে আনতে পারতেন, তাহলে ভালো দাম পাওয়া যেত। সব মিলিয়ে সরবরাহ বেশি, দাম কম এবং পরিবহন ব্যয় বেশি হওয়ায় তরমুজ চাষে এবার বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষিরা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

তরমুজের সরবরাহ বেশি, দাম কম

আপডেট সময় ০৪:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

সোজাসাপটা রিপোর্ট
প্রাচ্যের ডান্ডি হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরকে ঘিরে গড়ে উঠেছে দেশের অন্যতম বড় বাণিজ্যকেন্দ্র। শীতলক্ষ্যা নদী তীরবর্তী কাঁচামাল বেচাকেনার জন্য নির্মিত পুরনো পোর্টটি সময়ের সঙ্গে এখন মৌসুমি ফলের বড় আড়তে পরিণত হয়েছে। সারা বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানা ফল এখানে কেনাবেচা হলেও বর্তমানে তরমুজের সরবরাহ সবচেয়ে বেশি।
তবে এ বছর তরমুজের ফলন ভালো হলেও কৃষকদের মুখে হাসি নেই। আড়তে ঘুরে দেখা গেছে, আকারভেদে প্রতি পিস তরমুজ ২০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উৎপাদন খরচের তুলনায় এই দাম খুবই কম হওয়ায় অনেক কৃষক লোকসানের মুখে পড়েছেন।
বর্তমানে ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী ও গজারিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি তরমুজ আসছে এই আড়তে। তবে বরগুনা থেকে এখনো তরমুজ আসা শুরু হয়নি।
ভোলা থেকে ট্রলারযোগে তরমুজ নিয়ে আসা কৃষক মিজানুর রহমান জোটন জানান, তিনি ৩০ কানি জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। প্রতি কানিতে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হলেও বিক্রি করে পেয়েছেন মাত্র দেড় লাখ টাকার মতো। এতে প্রতি কানিতে প্রায় এক লাখ টাকা লোকসানের আশঙ্কা করছেন তিনি। সব তরমুজ বিক্রি শেষে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ বোঝা যাবে বলেও জানান তিনি।
বরিশাল থেকে আসা এক কৃষকের আত্মীয় মো. রিয়াদ বলেন, পরিবহন খরচ এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি ট্রলার ভাড়া করতে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা লাগে, কিন্তু বর্তমান বাজারদরে তরমুজ বিক্রি করে সেই খরচ তোলা কঠিন। ফলে অনেক ছোট আকারের তরমুজ ক্ষেতেই ফেলে দিতে হচ্ছে।
গজারিয়া থেকে আসা কৃষক মো. জসিম বলেন, লাভ তো দূরের কথা, পরিবহন খরচই তুলতে পারছেন না তারা। অনেক কৃষকের মতে, চলতি মৌসুমে তীব্র শীতের কারণে তরমুজ পরিপক্ক হতে দেরি হয়েছে। আবার কোথাও বৃষ্টি ও জমিতে পানি জমে ফল নষ্ট হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
কৃষকদের অভিযোগ, যদি আরও ১৫-২০ দিন আগে তরমুজ বাজারে আনতে পারতেন, তাহলে ভালো দাম পাওয়া যেত। সব মিলিয়ে সরবরাহ বেশি, দাম কম এবং পরিবহন ব্যয় বেশি হওয়ায় তরমুজ চাষে এবার বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষিরা।