ঢাকা , শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘আন্দোলনে কোনো বিশ্রাম নেব না’

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় এক ঘন্টা আগে
  • ০ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলনে কোনো ধরনের বিশ্রাম নেব না। আন্দোলন চলবে সংসদে, আন্দোলন চলবে রাজপথে।
রাজপথ ও সংসদ যেদিন একাকার হয়ে যাবে, সেদিন বালুর বাঁধ দিয়ে নদীর জোয়ার বা সমুদ্রের জোয়ার থামাতে পারবে না।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত গণ-সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে খেলাফত মজলিস এ গণ-সমাবেশের আয়োজন করে।
আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর বক্তব্য টেনে শফিকুর রহমান বলেন, ৭১ সালে জনগণের রায়কে মান্য না করার কারণে একটি যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল।
যারা রায় অস্বীকার করেছিলেন, তাদের পরিণতি ভালো হয়নি। এবারও যারা রায় অস্বীকার করছেন, তারা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের অংশ মনে করেন।
আমরা বলি, সেই মুক্তিযুদ্ধকেই সম্মান করে রায়টা মেনে নেন। এ রায় মেনে নিলে আমরা এ স্টেজে দাঁড়িয়ে এ দাবিতে আর বক্তব্য দেব না।
জামায়াত আমির বলেন, আজকে যে মঞ্চে আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি, এ মঞ্চের সঙ্গে দুইটা জিনিস কখনো যাবে না। একটা আধিপত্যবাদ আরেকটা ফ্যাসিবাদ।
এ দুইটাকে এই মঞ্চ কখনো কবুল করবে না, বরদাশত করবে না। এ মঞ্চে যারা বসে আছেন, তারা জাতির স্বার্থে দেশপ্রেম বুকে ধারণ করার কারণে তিলে তিলে তারা প্রমাণ করেছেন—জীবন দেব, অন্যায়ের কাছে মাথা নত করব না।
তিনি অতীতের কথা টেনে বলেন, একসময় সবাই মজলুম ছিলাম, রাজপথে আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি। তাদেরই একটা অংশ আজকে সরকারে যাওয়ার পরে অতীতের সবকিছু ভুলে গেছে। কেন আজকে এ দাবি বাস্তবায়নের জন্য আমাদেরকে রাজপথে আসতে হলো? তারা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন এই কারণে আসতে হলো।
তারা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কার্যকরী আইনি পদ্ধতি হিসেবে গণভোটের কোনো বিকল্প নেই। এই জন্য সেই গণভোটের প্রস্তাব তাদেরই একজন করেছিলেন। তাদের নেতা নির্বাচনী প্রচার অভিযানে শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি হরণ করে বলেছিলেন—প্রিয় দেশবাসী ভোট দেবেন দুটা, একটা দেবেন আমাদের মার্কায় আরেকটা দেবেন গণভোটে; আপনারা সবাই গণভোটে হ্যাঁ বলবেন। এখন তারা বলছেন গণভোট অবৈধ।
তিনি আরও বলেন, পার্লামেন্টে আমরা জিজ্ঞেস করলাম, এটা কি নির্বাচনের পরে অবৈধ হলো না আগে অবৈধ ছিল? তারা এখন কোনো সময় বলেন যে, আমরা চারটার মধ্যে সাড়ে তিনটা মানি, কোনো সময় বলেন পুরাটাই অবৈধ। সুবিধাবাদী মানুষ!
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বলেছিলেন সরকার গঠন করলে সবাইকে নিয়ে দেশ চালাবেন। এখন আপনারা কী করছেন? এক দলকে পাঠায় দিচ্ছেন পাকিস্তানে, আরেক দলকে আরব দেশে, আর নিজেরাই দেশের জমিদার সেজে দখল নিচ্ছেন। মনে রাখবেন- দুইটা স্লোগান ছিল বড় শক্তিশালী—একটা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ আরেকটা ‘দেশটা কারো বাপের নয়’। শত আলেম-ওলামা বুকের রক্ত এবং জীবন দিয়ে এ দেশকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছে, আমরা সেই আলেম-ওলামার সঙ্গে বেইমানি করব না।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

‘আন্দোলনে কোনো বিশ্রাম নেব না’

আপডেট সময় এক ঘন্টা আগে

স্টাফ রিপোর্টার
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলনে কোনো ধরনের বিশ্রাম নেব না। আন্দোলন চলবে সংসদে, আন্দোলন চলবে রাজপথে।
রাজপথ ও সংসদ যেদিন একাকার হয়ে যাবে, সেদিন বালুর বাঁধ দিয়ে নদীর জোয়ার বা সমুদ্রের জোয়ার থামাতে পারবে না।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত গণ-সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে খেলাফত মজলিস এ গণ-সমাবেশের আয়োজন করে।
আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর বক্তব্য টেনে শফিকুর রহমান বলেন, ৭১ সালে জনগণের রায়কে মান্য না করার কারণে একটি যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল।
যারা রায় অস্বীকার করেছিলেন, তাদের পরিণতি ভালো হয়নি। এবারও যারা রায় অস্বীকার করছেন, তারা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের অংশ মনে করেন।
আমরা বলি, সেই মুক্তিযুদ্ধকেই সম্মান করে রায়টা মেনে নেন। এ রায় মেনে নিলে আমরা এ স্টেজে দাঁড়িয়ে এ দাবিতে আর বক্তব্য দেব না।
জামায়াত আমির বলেন, আজকে যে মঞ্চে আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি, এ মঞ্চের সঙ্গে দুইটা জিনিস কখনো যাবে না। একটা আধিপত্যবাদ আরেকটা ফ্যাসিবাদ।
এ দুইটাকে এই মঞ্চ কখনো কবুল করবে না, বরদাশত করবে না। এ মঞ্চে যারা বসে আছেন, তারা জাতির স্বার্থে দেশপ্রেম বুকে ধারণ করার কারণে তিলে তিলে তারা প্রমাণ করেছেন—জীবন দেব, অন্যায়ের কাছে মাথা নত করব না।
তিনি অতীতের কথা টেনে বলেন, একসময় সবাই মজলুম ছিলাম, রাজপথে আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি। তাদেরই একটা অংশ আজকে সরকারে যাওয়ার পরে অতীতের সবকিছু ভুলে গেছে। কেন আজকে এ দাবি বাস্তবায়নের জন্য আমাদেরকে রাজপথে আসতে হলো? তারা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন এই কারণে আসতে হলো।
তারা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কার্যকরী আইনি পদ্ধতি হিসেবে গণভোটের কোনো বিকল্প নেই। এই জন্য সেই গণভোটের প্রস্তাব তাদেরই একজন করেছিলেন। তাদের নেতা নির্বাচনী প্রচার অভিযানে শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি হরণ করে বলেছিলেন—প্রিয় দেশবাসী ভোট দেবেন দুটা, একটা দেবেন আমাদের মার্কায় আরেকটা দেবেন গণভোটে; আপনারা সবাই গণভোটে হ্যাঁ বলবেন। এখন তারা বলছেন গণভোট অবৈধ।
তিনি আরও বলেন, পার্লামেন্টে আমরা জিজ্ঞেস করলাম, এটা কি নির্বাচনের পরে অবৈধ হলো না আগে অবৈধ ছিল? তারা এখন কোনো সময় বলেন যে, আমরা চারটার মধ্যে সাড়ে তিনটা মানি, কোনো সময় বলেন পুরাটাই অবৈধ। সুবিধাবাদী মানুষ!
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বলেছিলেন সরকার গঠন করলে সবাইকে নিয়ে দেশ চালাবেন। এখন আপনারা কী করছেন? এক দলকে পাঠায় দিচ্ছেন পাকিস্তানে, আরেক দলকে আরব দেশে, আর নিজেরাই দেশের জমিদার সেজে দখল নিচ্ছেন। মনে রাখবেন- দুইটা স্লোগান ছিল বড় শক্তিশালী—একটা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ আরেকটা ‘দেশটা কারো বাপের নয়’। শত আলেম-ওলামা বুকের রক্ত এবং জীবন দিয়ে এ দেশকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছে, আমরা সেই আলেম-ওলামার সঙ্গে বেইমানি করব না।