ঢাকা , শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পানির সংকট কাটাতে নতুন উদ্যোগ

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় এক ঘন্টা আগে
  • ০ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার
এক সময় নিজেই নগর এলাকায় পানি সরবরাহের দায়িত্বে ছিল নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা। নব্বইয়ের দশকে তা চলে যায় ওয়াসার হাতে। ২০১১ সালে তিন পৌরসভা মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন গঠিত হলেও পানি সরবরাহের দায়িত্ব ছিল ওয়াসার হাতেই। ৭ বছর আগে ওয়াসার তৎকালীন শীর্ষ কর্তার অনুরোধে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন আবারও তার পানি সরবরাহের দায়িত্ব নেয়। কিন্তু পুরোনো লাইন, বিকল পাম্প আর জীর্ন দশার শোধনাগার নিয়ে বিপাকে পরে নাসিক। গত কয়েক বছর হিমশিম খাবার পর এবার পানি সরবরাহ খাতে ‘সিরিয়াস’ হয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ।
সিটি কর্পোরেশনের পানি সরবরাহ বিভাগ সূত্র বলছে, পানির সমস্যা সমাধানে পুরোনো পাইপ লাইনগুলো সংস্কার নয় পরিবর্তনের কথা ভাবছে নগর কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে পানি শোধনাগার বৃদ্ধিরও পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য বড় প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় লাগলেও এর আগে ওয়ার্ডগুলোতে গভীর নকলূপ (সাব-মার্সিবল পাম্প) স্থাপনেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে মাসিক সাধারণ সভায় নগরীর তিন অঞ্চলের ২৭টি ওয়ার্ডে ৫৪টি সাব-মার্সিবল পাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতি ওয়ার্ডে দু’টি পাম্প থাকবে, যা ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের পর ট্যাংকে সংরক্ষণ করে ওয়ার্ডবাসীকে সরবরাহ করা হবে।
পানি সরবরাহ বিভাগ বলছে, শহর, সিদ্ধিরগঞ্জ ও কদমরসুল অঞ্চলের সাতাশটি ওয়ার্ডে নাগরিকদের দৈনিক পানির চাহিদা ১৮ কোটি লিটার। কিন্তু বিদ্যমান সক্ষমতা অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশন ১১ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করে। এই সক্ষমতা বাড়াতে নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এতে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) ১৬৮০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে।
‘নারায়ণগঞ্জ গ্রিন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ নামে এই প্রকল্প যদিও কয়েক বছর আগে তৎকালীন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী নিয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি এডিবি বিপুল পরিমাণ অর্থ ঋণ হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে। বর্তমান নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এই প্রকল্প দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়নে কার্যকরি পদক্ষেপ নিয়েছেন বলেও জানিয়েছে নাসিক সূত্র।
সিটি কর্পোরেশন বলছে, ১৮৭৬ সালে যখন নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা গঠিত হয় তখন নগরের পানি সরবরাহের দায়িত্ব ছিল পৌরসভার হাতে। ১৯৯০ সালে তা চলে যায় ঢাকা ওয়াসার কাছে। দীর্ঘ বছর ওয়াসা দায়িত্ব পালন করলেও ২০১৯ সালে এ দায়িত্ব নেয় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন।
শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে অবস্থিত হলেও নারায়ণগঞ্জ নগরীতে সুপেয় পানির খুবই সংকট। শীতলক্ষ্যার পানি দূষণে দুর্গন্ধময় হয়ে পড়েছে। ফলে, এই নদীর পানি শোধানাগারে খুব একটা পরিষ্কার হয়নি। একইসঙ্গে পুরোনো পাইপ লাইনগুলো মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অনেক সময় ময়লাযুক্ত পানি আসে। একইসঙ্গে দুর্গন্ধের কারণে তা গোসলের জন্যও ব্যবস্থা করা যায় না বলে জানান নগরবাসী।
এই সংকট মোকাবেলায় নগরীর বেশ কয়েকটি জায়গায় গভীর নলকূপ স্থাপন করেছে সিটি কর্পোরেশন। তবে, তা অপ্রতুল হওয়াতে নিজস্ব উদ্যোগে নগরবাসীও নিজেদের বাড়িতে গভীর নলকূপ স্থাপন করেছেন। কিন্তু নগরবাসীর চাহিদা বেড়ে যাওয়াতে পানি সরবরাহ খাত আরও উন্নত ও সাধারণ মানুষের উপকারে আনার জন্য উদ্যোগ নিয়েছে।
তবে, এসব গভীর নলকূপ ওয়ার্ড এলাকার কোথায় বসানো হবে তা সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে, সরকারি জায়গার উপরই বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে সিটি কর্পোরেশনের। সরকারি জায়গায় সর্বসাধারণের জন্য তা উন্মুক্ত থাকবে এবং মেটাবে নগরবাসীর পানির চাহিদা।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান প্রেস নারায়ণগঞ্জ’কে বলেন, “পানির অনেক লাইন বহু বছর পুরোনো। কিছু জায়গায় মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে কিন্তু ঠিক করা হয়নি। প্রকল্পে এসব পাইপ লাইন পরিবর্তন করা হবে। একইসঙ্গে বিকল পাম্পগুলোকেও মেরামত ও প্রয়োজনে তা পরিবর্তন করা হবে। প্রতি ওয়ার্ডে দু’টি সার্ব-মার্সিবল পাম্প স্থাপন করা হবে।”
তবে, পানি সরবরাহে ভূগর্ভস্থ পানির উপরই কেবল জোর দিচ্ছে না সিটি কর্পোরেশন। এক্ষেত্রে, উপরিভাগের পানি ব্যবহারেরও চিন্তা রয়েছে নগর কর্তৃপক্ষের। শীতলক্ষ্যার পানি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সুদূর মেঘনা নদীর পানি এনে তা পরিশোধন করে সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছেন সাখাওয়াত হোসেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

পানির সংকট কাটাতে নতুন উদ্যোগ

আপডেট সময় এক ঘন্টা আগে

স্টাফ রিপোর্টার
এক সময় নিজেই নগর এলাকায় পানি সরবরাহের দায়িত্বে ছিল নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা। নব্বইয়ের দশকে তা চলে যায় ওয়াসার হাতে। ২০১১ সালে তিন পৌরসভা মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন গঠিত হলেও পানি সরবরাহের দায়িত্ব ছিল ওয়াসার হাতেই। ৭ বছর আগে ওয়াসার তৎকালীন শীর্ষ কর্তার অনুরোধে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন আবারও তার পানি সরবরাহের দায়িত্ব নেয়। কিন্তু পুরোনো লাইন, বিকল পাম্প আর জীর্ন দশার শোধনাগার নিয়ে বিপাকে পরে নাসিক। গত কয়েক বছর হিমশিম খাবার পর এবার পানি সরবরাহ খাতে ‘সিরিয়াস’ হয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ।
সিটি কর্পোরেশনের পানি সরবরাহ বিভাগ সূত্র বলছে, পানির সমস্যা সমাধানে পুরোনো পাইপ লাইনগুলো সংস্কার নয় পরিবর্তনের কথা ভাবছে নগর কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে পানি শোধনাগার বৃদ্ধিরও পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য বড় প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় লাগলেও এর আগে ওয়ার্ডগুলোতে গভীর নকলূপ (সাব-মার্সিবল পাম্প) স্থাপনেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে মাসিক সাধারণ সভায় নগরীর তিন অঞ্চলের ২৭টি ওয়ার্ডে ৫৪টি সাব-মার্সিবল পাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতি ওয়ার্ডে দু’টি পাম্প থাকবে, যা ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের পর ট্যাংকে সংরক্ষণ করে ওয়ার্ডবাসীকে সরবরাহ করা হবে।
পানি সরবরাহ বিভাগ বলছে, শহর, সিদ্ধিরগঞ্জ ও কদমরসুল অঞ্চলের সাতাশটি ওয়ার্ডে নাগরিকদের দৈনিক পানির চাহিদা ১৮ কোটি লিটার। কিন্তু বিদ্যমান সক্ষমতা অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশন ১১ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করে। এই সক্ষমতা বাড়াতে নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এতে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) ১৬৮০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে।
‘নারায়ণগঞ্জ গ্রিন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ নামে এই প্রকল্প যদিও কয়েক বছর আগে তৎকালীন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী নিয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি এডিবি বিপুল পরিমাণ অর্থ ঋণ হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে। বর্তমান নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এই প্রকল্প দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়নে কার্যকরি পদক্ষেপ নিয়েছেন বলেও জানিয়েছে নাসিক সূত্র।
সিটি কর্পোরেশন বলছে, ১৮৭৬ সালে যখন নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা গঠিত হয় তখন নগরের পানি সরবরাহের দায়িত্ব ছিল পৌরসভার হাতে। ১৯৯০ সালে তা চলে যায় ঢাকা ওয়াসার কাছে। দীর্ঘ বছর ওয়াসা দায়িত্ব পালন করলেও ২০১৯ সালে এ দায়িত্ব নেয় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন।
শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে অবস্থিত হলেও নারায়ণগঞ্জ নগরীতে সুপেয় পানির খুবই সংকট। শীতলক্ষ্যার পানি দূষণে দুর্গন্ধময় হয়ে পড়েছে। ফলে, এই নদীর পানি শোধানাগারে খুব একটা পরিষ্কার হয়নি। একইসঙ্গে পুরোনো পাইপ লাইনগুলো মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অনেক সময় ময়লাযুক্ত পানি আসে। একইসঙ্গে দুর্গন্ধের কারণে তা গোসলের জন্যও ব্যবস্থা করা যায় না বলে জানান নগরবাসী।
এই সংকট মোকাবেলায় নগরীর বেশ কয়েকটি জায়গায় গভীর নলকূপ স্থাপন করেছে সিটি কর্পোরেশন। তবে, তা অপ্রতুল হওয়াতে নিজস্ব উদ্যোগে নগরবাসীও নিজেদের বাড়িতে গভীর নলকূপ স্থাপন করেছেন। কিন্তু নগরবাসীর চাহিদা বেড়ে যাওয়াতে পানি সরবরাহ খাত আরও উন্নত ও সাধারণ মানুষের উপকারে আনার জন্য উদ্যোগ নিয়েছে।
তবে, এসব গভীর নলকূপ ওয়ার্ড এলাকার কোথায় বসানো হবে তা সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে, সরকারি জায়গার উপরই বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে সিটি কর্পোরেশনের। সরকারি জায়গায় সর্বসাধারণের জন্য তা উন্মুক্ত থাকবে এবং মেটাবে নগরবাসীর পানির চাহিদা।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান প্রেস নারায়ণগঞ্জ’কে বলেন, “পানির অনেক লাইন বহু বছর পুরোনো। কিছু জায়গায় মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে কিন্তু ঠিক করা হয়নি। প্রকল্পে এসব পাইপ লাইন পরিবর্তন করা হবে। একইসঙ্গে বিকল পাম্পগুলোকেও মেরামত ও প্রয়োজনে তা পরিবর্তন করা হবে। প্রতি ওয়ার্ডে দু’টি সার্ব-মার্সিবল পাম্প স্থাপন করা হবে।”
তবে, পানি সরবরাহে ভূগর্ভস্থ পানির উপরই কেবল জোর দিচ্ছে না সিটি কর্পোরেশন। এক্ষেত্রে, উপরিভাগের পানি ব্যবহারেরও চিন্তা রয়েছে নগর কর্তৃপক্ষের। শীতলক্ষ্যার পানি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সুদূর মেঘনা নদীর পানি এনে তা পরিশোধন করে সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছেন সাখাওয়াত হোসেন।