ঢাকা , বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কামারপল্লীতে বেড়েছে ব্যস্ততা

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
একের পর এক হাতুড়ির আঘাতে টুংটাং শব্দ, আগুনে পুড়ে লাল হয়ে ওঠা লোহা ধীরে ধীরে নিচ্ছে নতুন আকার। এই ছন্দময় শব্দই যেন জানান দিচ্ছে— কোরবানির ঈদ সামনে। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিরামহীন শ্রমে ব্যস্ত রূপগঞ্জের কামার কারিগররা; তৈরি করছেন পশু কাটার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে কামারদের দোকানগুলোতে এখন দা, ছুরি, চাপাতিসহ পশু কাটার বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরির ধুম পড়েছে। তবে লোহার দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে, এতে কিছুটা চাপে পড়েছেন কারিগররা।
রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো, ভুলতা, গোলাকান্দাইল, কাঞ্চন, কায়েতপাড়া, ভোলাবো, দাউদপুর ও মুড়াপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে প্রায় দুই শতাধিক কামারের দোকান। ঈদ সামনে রেখে দিন-রাত পরিশ্রমে সরঞ্জাম তৈরি করছেন তারা। কামারপল্লীতে গিয়ে দেখা যায়—কেউ আগুনে লোহা গরম করছেন, কেউ হাতুড়ির আঘাতে আকার দিচ্ছেন, আবার কেউ প্রস্তুতকৃত দা-ছুরিতে ধার দিচ্ছেন।
এদিকে গোলাকান্দাইল হাটসহ বিভিন্ন বাজারে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। অনেকেই আগেভাগেই কিনে নিচ্ছেন প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, যাতে ঈদের সময় কোনো ঝামেলায় না পড়তে হয়।
কামার ও বিক্রেতারা জানান, এই মৌসুমেই তাদের কাজের চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। তবে লোহার দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভ কমে গেছে। পাশাপাশি তারা সচেতনভাবে পণ্য বিক্রি করছেন এবং সন্দেহজনক ক্রেতাদের কাছে ধারালো সরঞ্জাম দিচ্ছেন না।
প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কামারপল্লী ও হাটবাজারে গিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে, যাতে এসব সরঞ্জাম কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা অপব্যবহারে ব্যবহার না হয়।
ঐতিহ্যবাহী এই পেশার ব্যস্ততার মধ্যেও নিরাপত্তার বিষয়টি পাচ্ছে সমান গুরুত্ব। সচেতনতা ও তদারকি জোরদার থাকলে কোরবানির প্রস্তুতি যেমন নির্বিঘ্ন হবে, তেমনি কমবে অপব্যবহারের ঝুঁকিও।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

কামারপল্লীতে বেড়েছে ব্যস্ততা

আপডেট সময় ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

সোজাসাপটা রিপোর্ট
একের পর এক হাতুড়ির আঘাতে টুংটাং শব্দ, আগুনে পুড়ে লাল হয়ে ওঠা লোহা ধীরে ধীরে নিচ্ছে নতুন আকার। এই ছন্দময় শব্দই যেন জানান দিচ্ছে— কোরবানির ঈদ সামনে। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিরামহীন শ্রমে ব্যস্ত রূপগঞ্জের কামার কারিগররা; তৈরি করছেন পশু কাটার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে কামারদের দোকানগুলোতে এখন দা, ছুরি, চাপাতিসহ পশু কাটার বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরির ধুম পড়েছে। তবে লোহার দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে, এতে কিছুটা চাপে পড়েছেন কারিগররা।
রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো, ভুলতা, গোলাকান্দাইল, কাঞ্চন, কায়েতপাড়া, ভোলাবো, দাউদপুর ও মুড়াপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে প্রায় দুই শতাধিক কামারের দোকান। ঈদ সামনে রেখে দিন-রাত পরিশ্রমে সরঞ্জাম তৈরি করছেন তারা। কামারপল্লীতে গিয়ে দেখা যায়—কেউ আগুনে লোহা গরম করছেন, কেউ হাতুড়ির আঘাতে আকার দিচ্ছেন, আবার কেউ প্রস্তুতকৃত দা-ছুরিতে ধার দিচ্ছেন।
এদিকে গোলাকান্দাইল হাটসহ বিভিন্ন বাজারে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। অনেকেই আগেভাগেই কিনে নিচ্ছেন প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, যাতে ঈদের সময় কোনো ঝামেলায় না পড়তে হয়।
কামার ও বিক্রেতারা জানান, এই মৌসুমেই তাদের কাজের চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। তবে লোহার দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভ কমে গেছে। পাশাপাশি তারা সচেতনভাবে পণ্য বিক্রি করছেন এবং সন্দেহজনক ক্রেতাদের কাছে ধারালো সরঞ্জাম দিচ্ছেন না।
প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কামারপল্লী ও হাটবাজারে গিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে, যাতে এসব সরঞ্জাম কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা অপব্যবহারে ব্যবহার না হয়।
ঐতিহ্যবাহী এই পেশার ব্যস্ততার মধ্যেও নিরাপত্তার বিষয়টি পাচ্ছে সমান গুরুত্ব। সচেতনতা ও তদারকি জোরদার থাকলে কোরবানির প্রস্তুতি যেমন নির্বিঘ্ন হবে, তেমনি কমবে অপব্যবহারের ঝুঁকিও।