ঢাকা , বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে অব্যবস্থাপনা

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ৫ ঘন্টা আগে
  • ০ বার পড়া হয়েছে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা-এ অবস্থিত সরকারি কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (এটিআই) দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সংকট, অব্যবস্থাপনা এবং চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হাতে-কলমে কৃষি শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটি কার্যত তার উদ্দেশ্য থেকে অনেকটাই সরে গেছে বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার ল্যাব দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। নিয়মিত ব্যবহার না হওয়ায় অধিকাংশ কম্পিউটার নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। একই অবস্থা রসায়ন, পদার্থ ও জীববিজ্ঞান ল্যাবের ক্ষেত্রেও। শিক্ষার্থীরা জানান, কৃষি শিক্ষার মূল ভিত্তি ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ হলেও তারা কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞান নিয়েই পড়াশোনা শেষ করছেন। আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের অভাবে ভবিষ্যৎ কর্মজীবন নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।
ইনস্টিটিউটের সীমানা প্রাচীর ভাঙাচোরা হয়ে পড়েছে। নিচের অংশে বড় বড় গর্ত থাকায় বহিরাগতরা সহজেই ক্যাম্পাসে প্রবেশ করছে। প্রধান ফটকেও নেই কোনো স্থায়ী নিরাপত্তাকর্মী। ফলে ক্যাম্পাসটি ধীরে ধীরে মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ।
ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে কলাপাতার বিছানা, ব্যবহৃত মাদক সরঞ্জাম, এমনকি কনডম ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। পুকুরপাড়সহ নির্জন জায়গাগুলোতে এমন চিত্র শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে ছাত্রীদের জন্য পরিস্থিতি হয়ে উঠেছে আরও বিব্রতকর ও ঝুঁকিপূর্ণ।
ক্যাম্পাসের পুকুরটি কচুরিপানা ও আগাছায় ভরে গিয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে ক্যান্টিন, ফলে শিক্ষার্থীদের খাবারের জন্য ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে হচ্ছে, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। লাইব্রেরি থাকলেও তা বেশিরভাগ সময় তালাবদ্ধ থাকে। কোনো মুক্তমঞ্চ না থাকায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রমও প্রায় বন্ধ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমাদের মৌলিক শিক্ষা ও নিরাপত্তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। অথচ নানা অজুহাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে। আমরা একটি নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ চাই।”
এ বিষয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বললে তারা বাজেট স্বল্পতার কথা উল্লেখ করেন। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একই অজুহাতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, ফলে সমস্যাগুলো দিন দিন বাড়ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে কৃষি মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি—দ্রুত সীমানা প্রাচীর সংস্কার, স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত, ল্যাবরেটরি সচল করা এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ ফিরিয়ে আনা।
এ অবস্থায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের ভাইস প্রিন্সিপাল ড. সাফায়েত আহম্মদ সিদ্দিকী জানান, প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মোরশেদ রেহেনা পারভীন পারিবারিক কাজে দেশের বাহিরে আছেন।
প্রতিষ্ঠানের নানা অব্যাবস্থাপনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানের সকল ল্যাব-ই ব্যবহার হয়। কিছু কিছু যন্ত্রপাতির মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার ফলে ব্যবহার যোগ্য নয়। অধিকাংশ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়।
বহিরাগতদের অনুপ্রবেশের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানে দুইটি বিভাগ থাকায় এখানে কে কোন বিভাগের সেটা বলা যায় না। আর মাদকাসক্তদের আসার বিষয়টি আমাদের জানা নেই।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে অব্যবস্থাপনা

আপডেট সময় ৫ ঘন্টা আগে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা-এ অবস্থিত সরকারি কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (এটিআই) দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সংকট, অব্যবস্থাপনা এবং চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হাতে-কলমে কৃষি শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটি কার্যত তার উদ্দেশ্য থেকে অনেকটাই সরে গেছে বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার ল্যাব দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। নিয়মিত ব্যবহার না হওয়ায় অধিকাংশ কম্পিউটার নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। একই অবস্থা রসায়ন, পদার্থ ও জীববিজ্ঞান ল্যাবের ক্ষেত্রেও। শিক্ষার্থীরা জানান, কৃষি শিক্ষার মূল ভিত্তি ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ হলেও তারা কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞান নিয়েই পড়াশোনা শেষ করছেন। আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের অভাবে ভবিষ্যৎ কর্মজীবন নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।
ইনস্টিটিউটের সীমানা প্রাচীর ভাঙাচোরা হয়ে পড়েছে। নিচের অংশে বড় বড় গর্ত থাকায় বহিরাগতরা সহজেই ক্যাম্পাসে প্রবেশ করছে। প্রধান ফটকেও নেই কোনো স্থায়ী নিরাপত্তাকর্মী। ফলে ক্যাম্পাসটি ধীরে ধীরে মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ।
ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে কলাপাতার বিছানা, ব্যবহৃত মাদক সরঞ্জাম, এমনকি কনডম ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। পুকুরপাড়সহ নির্জন জায়গাগুলোতে এমন চিত্র শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে ছাত্রীদের জন্য পরিস্থিতি হয়ে উঠেছে আরও বিব্রতকর ও ঝুঁকিপূর্ণ।
ক্যাম্পাসের পুকুরটি কচুরিপানা ও আগাছায় ভরে গিয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে ক্যান্টিন, ফলে শিক্ষার্থীদের খাবারের জন্য ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে হচ্ছে, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। লাইব্রেরি থাকলেও তা বেশিরভাগ সময় তালাবদ্ধ থাকে। কোনো মুক্তমঞ্চ না থাকায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রমও প্রায় বন্ধ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমাদের মৌলিক শিক্ষা ও নিরাপত্তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। অথচ নানা অজুহাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে। আমরা একটি নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ চাই।”
এ বিষয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বললে তারা বাজেট স্বল্পতার কথা উল্লেখ করেন। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একই অজুহাতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, ফলে সমস্যাগুলো দিন দিন বাড়ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে কৃষি মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি—দ্রুত সীমানা প্রাচীর সংস্কার, স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত, ল্যাবরেটরি সচল করা এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ ফিরিয়ে আনা।
এ অবস্থায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের ভাইস প্রিন্সিপাল ড. সাফায়েত আহম্মদ সিদ্দিকী জানান, প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মোরশেদ রেহেনা পারভীন পারিবারিক কাজে দেশের বাহিরে আছেন।
প্রতিষ্ঠানের নানা অব্যাবস্থাপনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানের সকল ল্যাব-ই ব্যবহার হয়। কিছু কিছু যন্ত্রপাতির মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার ফলে ব্যবহার যোগ্য নয়। অধিকাংশ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়।
বহিরাগতদের অনুপ্রবেশের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানে দুইটি বিভাগ থাকায় এখানে কে কোন বিভাগের সেটা বলা যায় না। আর মাদকাসক্তদের আসার বিষয়টি আমাদের জানা নেই।