ঢাকা , শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুলতানের বিরুদ্ধে পুলিশের চার্জশীট

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ১১ ঘন্টা আগে
  • ২ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার
বিভিন্ন অপারাধে অভিযুক্ত চাঁদাবাজি মামলায় ভেজাইল্যা সুলতান মাহামুদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ আদালতে সদর থানা পুলিশ চার্জশীট দাখিল করেছে। যার স্মারক নং ১৩৫। এরপর থেকে চাঁদাবাজ সুলতান ও তার বাহিনীর সদস্যরা মামলার বাদী ব্যবসায়ী দিলশাধকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য অব্যাহত হুমকি দিয়ে আসছে। মামলা না তুললে অপহরন করে তুলে নিয়ে হত্যা করার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দিলশাধ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট এন্ড টেকনোলজী এর সিইও হিসেবে দীর্ঘদিন যাবত ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে ব্যবসায়ী দিলশাধ আলিফ। কিন্তু বিগত আওয়ামী লীগের ছায়াতলে থেকে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, চাঁদাবাজি ও মামলাবাজী করে আসছে ভেজাইল্যা সুলতান মাহামুদ। বিগত ২০২৫ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারী বিকেলে নারায়ণগঞ্জের চাষাড়াস্থ নবাব সলিমুল্লাহ রোড অবস্থিত প্রাইম জেনারেল হাসপাতালে ভুক্তভূগী দিলশাধকে ব্যবসায়ীক কাজের উদ্দেশ্যে ডেমরা থেকে ডেকে এনে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে সুলতান। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে ব্যবসায়ীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করে। এছাড়াও চাঁদা না দিলে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় মিথ্যা বানোয়াট সংবাদ পরিবেশন করে সম্মানহানী করার হুমকি প্রদান করে চাঁদাবাজ সুলতান। তখন উপায়ন্তর না পেয়ে দিলশাধ নগদ ২০ হাজার টাকা, ৪টি কটি ও ২ হাজার টাকার কাঁচা বাজার দেয় সুলতানকে। এরপর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হোয়ার্টএপে চাঁদার টাকার জন্য হুমকি দিতে থাকে। এই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ জেলা মেজিষ্ট্রেট ও পুলিশ সুপারের কাছে সুলতান মাহামুদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খ-সার্কেল অভিযোগের বিষয়ে সুলতান মাহামুদকে তার কার্যালয়ের বিগত ২০২৫ সালের ২৬শে জুন হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। যার স্মারক নং- ২১৯৪। কিন্তু সুলতান নোটিশের তোয়াক্কা না করে উল্টো বাদী দিলশাধকে মিথ্যা মামলা মোকাদ্দমায় জড়ানোসহ খুন করার হুমকি দেয়। যার কারণে বিগত ১৪ জুলাই ২০২৫ তারিখে বিজ্ঞ চীফ ডুডিশিয়াল মেজিষ্ট্রেট আমলী ১নং নারায়ণগঞ্জ আদালতে একটি সিআর মামলা দায়ের করে, মামলা নং- ১৬৫/২৫। মামলার তদন্ত ভার পেয়ে সদর মডেল থানার সাব ইন্সপেক্টর মোঃ আল আমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন সহ স্বাক্ষীদের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানার বৈদ্যের বাজার হাড়িয়া গ্রামের মৃত চাঁন মিয়া সরকারের পুত্র সুলতান মাহামুদ (৫৫) কে দোষী সাব্যস্ত করে। অপরাধ প্রমানিত হওয়ায় সুলতানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিচারের আবেদন প্রার্থনা করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আল আমিন। এ বছরের ১৭ই জানুয়ারী তদন্ত প্রতিবেদন বিজ্ঞ কোর্ট পুলিশ পরিদর্শকের মাধ্যমে বিজ্ঞ চীফ ডুডিশিয়াল মেজিষ্ট্রেটের কাছে প্রেরন করেন। যার স্মারক নং- খ-সার্কেল ১৫৬। চার্জশীট আদালতে দাখিলের পর থেকে ভেজাইল্যা সুলতান মাহামুদ অব্যাহত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে মামলার বাদি ও তদন্তকারী কর্মকর্তাকে। আরও জানা যায়, চাঁদাবাজ সুলতান মাহামুদের বিরুদ্ধে প্রায় ১ ডজনের উপরে মামলা রয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে আরকেটি মামলায় সুলতানসহ তার অন্যতম সহযোগীর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু করেছে আদালত।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

সুলতানের বিরুদ্ধে পুলিশের চার্জশীট

আপডেট সময় ১১ ঘন্টা আগে

স্টাফ রিপোর্টার
বিভিন্ন অপারাধে অভিযুক্ত চাঁদাবাজি মামলায় ভেজাইল্যা সুলতান মাহামুদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ আদালতে সদর থানা পুলিশ চার্জশীট দাখিল করেছে। যার স্মারক নং ১৩৫। এরপর থেকে চাঁদাবাজ সুলতান ও তার বাহিনীর সদস্যরা মামলার বাদী ব্যবসায়ী দিলশাধকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য অব্যাহত হুমকি দিয়ে আসছে। মামলা না তুললে অপহরন করে তুলে নিয়ে হত্যা করার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দিলশাধ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট এন্ড টেকনোলজী এর সিইও হিসেবে দীর্ঘদিন যাবত ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে ব্যবসায়ী দিলশাধ আলিফ। কিন্তু বিগত আওয়ামী লীগের ছায়াতলে থেকে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, চাঁদাবাজি ও মামলাবাজী করে আসছে ভেজাইল্যা সুলতান মাহামুদ। বিগত ২০২৫ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারী বিকেলে নারায়ণগঞ্জের চাষাড়াস্থ নবাব সলিমুল্লাহ রোড অবস্থিত প্রাইম জেনারেল হাসপাতালে ভুক্তভূগী দিলশাধকে ব্যবসায়ীক কাজের উদ্দেশ্যে ডেমরা থেকে ডেকে এনে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে সুলতান। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে ব্যবসায়ীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করে। এছাড়াও চাঁদা না দিলে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় মিথ্যা বানোয়াট সংবাদ পরিবেশন করে সম্মানহানী করার হুমকি প্রদান করে চাঁদাবাজ সুলতান। তখন উপায়ন্তর না পেয়ে দিলশাধ নগদ ২০ হাজার টাকা, ৪টি কটি ও ২ হাজার টাকার কাঁচা বাজার দেয় সুলতানকে। এরপর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হোয়ার্টএপে চাঁদার টাকার জন্য হুমকি দিতে থাকে। এই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ জেলা মেজিষ্ট্রেট ও পুলিশ সুপারের কাছে সুলতান মাহামুদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খ-সার্কেল অভিযোগের বিষয়ে সুলতান মাহামুদকে তার কার্যালয়ের বিগত ২০২৫ সালের ২৬শে জুন হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। যার স্মারক নং- ২১৯৪। কিন্তু সুলতান নোটিশের তোয়াক্কা না করে উল্টো বাদী দিলশাধকে মিথ্যা মামলা মোকাদ্দমায় জড়ানোসহ খুন করার হুমকি দেয়। যার কারণে বিগত ১৪ জুলাই ২০২৫ তারিখে বিজ্ঞ চীফ ডুডিশিয়াল মেজিষ্ট্রেট আমলী ১নং নারায়ণগঞ্জ আদালতে একটি সিআর মামলা দায়ের করে, মামলা নং- ১৬৫/২৫। মামলার তদন্ত ভার পেয়ে সদর মডেল থানার সাব ইন্সপেক্টর মোঃ আল আমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন সহ স্বাক্ষীদের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানার বৈদ্যের বাজার হাড়িয়া গ্রামের মৃত চাঁন মিয়া সরকারের পুত্র সুলতান মাহামুদ (৫৫) কে দোষী সাব্যস্ত করে। অপরাধ প্রমানিত হওয়ায় সুলতানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিচারের আবেদন প্রার্থনা করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আল আমিন। এ বছরের ১৭ই জানুয়ারী তদন্ত প্রতিবেদন বিজ্ঞ কোর্ট পুলিশ পরিদর্শকের মাধ্যমে বিজ্ঞ চীফ ডুডিশিয়াল মেজিষ্ট্রেটের কাছে প্রেরন করেন। যার স্মারক নং- খ-সার্কেল ১৫৬। চার্জশীট আদালতে দাখিলের পর থেকে ভেজাইল্যা সুলতান মাহামুদ অব্যাহত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে মামলার বাদি ও তদন্তকারী কর্মকর্তাকে। আরও জানা যায়, চাঁদাবাজ সুলতান মাহামুদের বিরুদ্ধে প্রায় ১ ডজনের উপরে মামলা রয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে আরকেটি মামলায় সুলতানসহ তার অন্যতম সহযোগীর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু করেছে আদালত।