ঢাকা , বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাড়তি চাপে মধ্য-নিম্নবিত্ত

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ৩ ঘন্টা আগে
  • ১ বার পড়া হয়েছে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ঘোষণার পর এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নারায়ণগঞ্জের জনজীবনেও। তেলের দাম বাড়ার পরপরই গ্যাসের মূল্যও বাড়ানোয় নতুন করে চাপে পড়েছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বাড়া এবং দৈনন্দিন খরচের চাপ—সব মিলিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
শহরের চাষাঢ়া, নিতাইগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, তেলের দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি পড়েছে পরিবহন খাতে। অটোরিকশা, সিএনজি ও বাসভাড়া বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আগে থেকেই উদ্বিগ্ন যাত্রীরা। চালকরাও বলছেন, খরচ সামাল দিতে ভাড়া সমন্বয় ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই।
নিতাইগঞ্জ এলাকার এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রুবেল বলেন, “তেলের দাম বাড়লেই বাজারে সব কিছুর দাম বাড়ে। কিন্তু আমাদের আয় তো আর বাড়ে না। এখন সংসার চালানোই কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”
একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ফতুল্লার এক চাকরিজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, “প্রতিবার তেলের দাম বাড়লে অফিসে যাতায়াত খরচ বাড়ে, বাজার খরচ বাড়ে। কিন্তু বেতন একই থাকে। সংসার চালানো সত্যিই কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে।”
গৃহিণীদের মধ্যেও দেখা গেছে বাড়তি দুশ্চিন্তা। চাষাঢ়া বাজারে কেনাকাটা করতে আসা মুসফিকা সুলতানা বলেন, “তেলের দাম বাড়লে সবজির দামও বাড়ে। এখন বাজারে আসলেই ভয় লাগে—কীভাবে খরচ সামলাবো বুঝতে পারছি না।”
অন্যদিকে কৃষকদের ওপরও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বন্দরের এক কৃষক জানান, ডিজেলের দাম বাড়ায় সেচ ও জমি চাষের খরচ বেড়ে গেছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পরিবহন চালকরাও একই সমস্যার কথা বলছেন। নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা রুটে চলাচলকারী এক বাসচালক জানান, তেলের দাম বাড়ার কারণে প্রতিদিনের খরচ অনেক বেড়ে গেছে। মালিককে আগের মতো জমা দিতে হয়, ফলে ভাড়া না বাড়ালে টিকে থাকা কঠিন।
এদিকে অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং চালক ও সিএনজি চালকরাও বলছেন, আয় ও ব্যয়ের ভারসাম্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। যাত্রীরা ভাড়া বাড়াতে অনীহা দেখালে তাদের লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব শুধু পরিবহন খাতে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি ধাপে ধাপে কৃষি, শিল্প ও নিত্যপণ্যের বাজারেও প্রভাব ফেলে। ফলে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের ওপর।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির অস্থিরতা, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপের কারণে সরকারকে দাম সমন্বয় করতে হয়েছে। তবে এর প্রভাব সামাল দিতে হলে বাজার তদারকি জোরদার করা এবং সাধারণ মানুষের জন্য সহায়তা কার্যক্রম বাড়ানো জরুরি।
সার্বিকভাবে নারায়ণগঞ্জে এখন সবচেয়ে বড় বাস্তবতা—বাড়তি খরচের চাপ। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের ফারাক যত বাড়ছে, ততই কঠিন হয়ে উঠছে মধ্য ও নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাপন। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এই চাপ আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

বাড়তি চাপে মধ্য-নিম্নবিত্ত

আপডেট সময় ৩ ঘন্টা আগে

সোজাসাপটা রিপোর্ট
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ঘোষণার পর এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নারায়ণগঞ্জের জনজীবনেও। তেলের দাম বাড়ার পরপরই গ্যাসের মূল্যও বাড়ানোয় নতুন করে চাপে পড়েছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বাড়া এবং দৈনন্দিন খরচের চাপ—সব মিলিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
শহরের চাষাঢ়া, নিতাইগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, তেলের দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি পড়েছে পরিবহন খাতে। অটোরিকশা, সিএনজি ও বাসভাড়া বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আগে থেকেই উদ্বিগ্ন যাত্রীরা। চালকরাও বলছেন, খরচ সামাল দিতে ভাড়া সমন্বয় ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই।
নিতাইগঞ্জ এলাকার এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রুবেল বলেন, “তেলের দাম বাড়লেই বাজারে সব কিছুর দাম বাড়ে। কিন্তু আমাদের আয় তো আর বাড়ে না। এখন সংসার চালানোই কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”
একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ফতুল্লার এক চাকরিজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, “প্রতিবার তেলের দাম বাড়লে অফিসে যাতায়াত খরচ বাড়ে, বাজার খরচ বাড়ে। কিন্তু বেতন একই থাকে। সংসার চালানো সত্যিই কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে।”
গৃহিণীদের মধ্যেও দেখা গেছে বাড়তি দুশ্চিন্তা। চাষাঢ়া বাজারে কেনাকাটা করতে আসা মুসফিকা সুলতানা বলেন, “তেলের দাম বাড়লে সবজির দামও বাড়ে। এখন বাজারে আসলেই ভয় লাগে—কীভাবে খরচ সামলাবো বুঝতে পারছি না।”
অন্যদিকে কৃষকদের ওপরও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বন্দরের এক কৃষক জানান, ডিজেলের দাম বাড়ায় সেচ ও জমি চাষের খরচ বেড়ে গেছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পরিবহন চালকরাও একই সমস্যার কথা বলছেন। নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা রুটে চলাচলকারী এক বাসচালক জানান, তেলের দাম বাড়ার কারণে প্রতিদিনের খরচ অনেক বেড়ে গেছে। মালিককে আগের মতো জমা দিতে হয়, ফলে ভাড়া না বাড়ালে টিকে থাকা কঠিন।
এদিকে অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং চালক ও সিএনজি চালকরাও বলছেন, আয় ও ব্যয়ের ভারসাম্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। যাত্রীরা ভাড়া বাড়াতে অনীহা দেখালে তাদের লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব শুধু পরিবহন খাতে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি ধাপে ধাপে কৃষি, শিল্প ও নিত্যপণ্যের বাজারেও প্রভাব ফেলে। ফলে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের ওপর।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির অস্থিরতা, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপের কারণে সরকারকে দাম সমন্বয় করতে হয়েছে। তবে এর প্রভাব সামাল দিতে হলে বাজার তদারকি জোরদার করা এবং সাধারণ মানুষের জন্য সহায়তা কার্যক্রম বাড়ানো জরুরি।
সার্বিকভাবে নারায়ণগঞ্জে এখন সবচেয়ে বড় বাস্তবতা—বাড়তি খরচের চাপ। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের ফারাক যত বাড়ছে, ততই কঠিন হয়ে উঠছে মধ্য ও নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাপন। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এই চাপ আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।