সাব্বির হোসেন
প্রখর রোদ, তীব্র গরম আর অসহনীয় তাপমাত্রায় কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জ। তাপমাত্রা প্রায় ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোয় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে যানজট, গাড়ির হর্ণের তীব্র শব্দ এবং বায়ুদূষণ—সব মিলিয়ে নগরজুড়ে তৈরি হয়েছে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি। তবে এমন প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, প্রচণ্ড রোদ ও উত্তাপ উপেক্ষা করে ট্রাফিক সদস্যরা সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছেন। যেখানে সাধারণ মানুষ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে সাহস পাচ্ছেন না, সেখানে এই সদস্যরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় অবস্থান করছেন।
দায়িত্বরত ট্রাফিক সদস্যরা জানান, এবারের তাপপ্রবাহ তাদের কর্মজীবনের অন্যতম কঠিন অভিজ্ঞতা। তারা বলেন, এর আগে এত তীব্র গরম আমরা খুব কমই দেখেছি। এমনিতেই নারায়ণগঞ্জ শহরে যানবাহনের চাপ সামলানো কঠিন। তার ওপর রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয় শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণের মধ্যে। এবার তাপপ্রবাহ সেই কষ্টকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।”
তারা আরও জানান, দীর্ঘসময় রোদে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে অনেকেই পানিশূন্যতা, মাথাব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতায় ভুগছেন। কয়েকজন সদস্য ডিহাইড্রেশনজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারী ইউনিফর্ম পরে দায়িত্ব পালন করাও এ সময় অতিরিক্ত কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নগরীর প্রাণকেন্দ্র চাষাড়া এলাকায় দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক সার্জেন্ট সালমান বলেন, চাকরি জীবনে এত বেশি তাপমাত্রা আগে দেখিনি। আমরা জানি কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু মানুষের স্বার্থে দায়িত্ব পালন করা আমাদের কর্তব্য। এই ব্যস্ত শহরে যদি আমরা দায়িত্বে অবহেলা করি, তাহলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। তাই সবকিছু উপেক্ষা করে কাজ করে যাচ্ছি।”
অন্যদিকে ২নং রেইগেট এলাকায় দায়িত্বরত ট্রাফিক কনস্টেবল শহীদুল ইসলাম বলেন, সরকার থেকে আমাদের ছাতা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আমরা ছাতা ব্যবহার করে কাজ করি। গরমে কষ্ট হয় ঠিকই, কিন্তু মানুষের সেবা দিতে পারাটাই আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় তৃপ্তি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এর আবহাওয়াবিদ মো. শাহিনুর ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে নারায়ণগঞ্জে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। শনিবার বেলা ২টার দিকে এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, যা এ অঞ্চলের জন্য অস্বাভাবিক উচ্চমাত্রার তাপপ্রবাহ নির্দেশ করে।
চাষাড়া জোনের ট্রাফিক ইনচার্জ (টি আই) এম এ করিম বলেন, তীব্র দাবদাহের মধ্যেও আমাদের সদস্যরা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। আমরা তাদের নিয়মিত পানি পান করার পরামর্শ দিচ্ছি এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সতর্ক রয়েছি। ইতোমধ্যে একজন সার্জেন্ট দায়িত্ব পালনকালে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, তবে এখন তিনি সুস্থ আছেন।
সব মিলিয়ে, তীব্র গরমে যখন সাধারণ মানুষ হাঁসফাঁস করছে, তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সড়কে দায়িত্ব পালন করছেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। তাদের এই নিরলস প্রচেষ্টা নগরবাসীর চলাচল স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে—যা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।
সংবাদ শিরোনাম ::
জাসাসের কর্মী সম্মেলন
প্রখর রোদেও সড়কে অটল তারা!
থানায় কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু
শিশু হত্যার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১
প্রশিক্ষণে সর্বাত্মক সহযোগিতা
হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ
জিয়া হল অত্যাধুনিক করা হবে—প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম
প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন এমপি দিপুর
ইরান ইস্যুতে নতুন নীতিতে ট্রাম্প
অবৈধ জ্বালানি তেলের দোকানের দৌরাত্ম্য
প্রখর রোদেও সড়কে অটল তারা!
-
ডেস্ক : - আপডেট সময় ৫৪ মিনিট আগে
- ০ বার পড়া হয়েছে
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ




















